একসময়, ঋষিরা নানা ঔষধি গাছপালার নাম ও তাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করছিলেন। তারা বললেন—দন্তী ও কটঙ্কটেরী, দারুনিশা, আর হরিদ্রা—যাকে রজনী বলে ডাকা হয়—এছাড়াও পীতিকা, যাকে রাত্রীনামিকা বলা হয়, এইসব গাছের কথা জানতে হবে। এরপর তারা বললেন বৃক্ষাদনী, ছিন্নরুহা, নীলবল্লী ও রসামৃতা, বাসুকোট, আর বাসিরা—যার আরেক নাম কাম্পিল্ল। পাষাণভেদক, অরিষ্ট, কুট্টভেদক, ঘণ্টাকা ও শুষ্কক, বচ ও সূচক—এদেরও জানতে হবে। তারা আরও বললেন—সুরসো, বিজক, পীতশালা, বজ্রবৃক্ষ, মহাবৃক্ষ, স্নুহী, স্নুক, সুধা ও গুড়া—এইসব গাছের কথাও মনে রাখতে হবে। তুলসী, যাকে সুরসা ও উপস্থাও বলা হয়, কুঠেরক, অর্জুনক, পর্ণ, এবং সৌগন্ধিপর্ণিক্র—এদেরও স্মরণ রাখতে হবে। নীল, সিন্ধুভার, সুগন্ধি নিরগুণ্ডী ও সুগন্ধিপর্ণোতি, বাসন্তী, কুলজ—এদের কথা জানা উচিত। কালিয়ক—হলুদ কাঠ, কাটকা—এদের আরেক নাম। গায়ত্রী-খদির ও তার রূপান্তর কন্দরাও স্মরণীয়। ইন্দী—শ্রেষ্ঠ, কুবলয়—নীলপদ্ম, পদ্ম—পদ্মফুল, নীলউৎপল, সৌগন্ধিক, শতদল, অভ্জ, কমল—সবই পদ্মের নানা নাম। অজবর্ণ—ঊর্জা, বাজিকর্ণ—অশ্বকর্ণক, শ্লেষ্মান্তক, শেলুর, বহুবার—এদেরও বলা হয়েছে। সুনন্দক, ককুদ্ভদ্র, ছত্রাকি, ছত্রসজ্ঞক, কবরী, কুম্ভক, ধৃষ্ট, ক্ষুদ্বিধ, ধনকৃত—এদেরও মনে রাখতে হবে। কৃষ্ণার্জক, করাল, কালমান, প্রাচী, বালা, নদীকান্তা, কাকজঙ্ঘা, বায়সী—এদের কথাও বলা হয়েছে। মূষিকপর্ণ, ভ্রমন্তী, আখুপর্ণিকা, বিষমুষ্টি, দ্রাবণ, কেশমুষ্টি—এদেরও বর্ণনা করা হয়েছে। কিম্লিহী, কটুকী, অন্তক—যার নাম আম্লবেতস, অশ্বত্থ, বহুপত্রা, আমলকি—এরা সকলেই পরিচিত। আরুষক্র, পত্র, শূক, ক্ষীরী, রাজাদন, মহাপত্র, ডালিম, করক—এদেরও উল্লেখ আছে। মসুরি, বিদলি, শষ্পা—যাদের কালিন্দী বলা হয়, কণ্টকাখ্যা, মহাশ্যামা, বৃক্ষপাদী—এরা সকলেই বর্ণিত। বিদ্যা, কুন্তী, নিকুম্ভা, ত্রিভঙ্গী, ত্রিপুটি, ত্রিবৃত, সপ্তলা, যবতিকা, চর্মা, চর্মকস—এদের নামও মনে রাখা উচিত। শঙ্খিনী, সুকুমারী, তিক্তাক্ষী, অক্ষিপীলুক, গবাক্ষী, অমৃতা, শ্বেতা, গিরিকর্ণ, গবাদিনী—এদেরও উল্লেখ আছে। কাম্পিল্লক, রক্তাঙ্গ, গুন্ডা, রোচনিক, হেমক্ষীরী—যাকে পীতা, গৌরী, কালাদুগ্ধিকা বলা হয়। গাঙ্গেরুকী, নাগবলা, বিশালা, ইন্দ্রভারুণী, তার্ক্ষ্য, শৈল, নীলবর্ণ, অঞ্জন, রসাঞ্জন—এদেরও বর্ণনা করা হয়েছে। শালমলীর রেজিনকে মোচর বলা হয়; প্রত্যাকপুষ্পী, খরী, অপামার্গ, ময়ূরক—এদেরও জানতে হবে। সিংহাস্য, বৃষবাসা, মাতরুষক, জীবক, জীবশাক, কার্বুর, শঠী—এদেরও স্মরণ রাখতে হবে। কটফল, সোমবৃক্ষ, অগ্নিগন্ধা, সুগন্ধিকা, শতাঙ্গ, শতপুষ্পা, মিমসির, মধুরিকা—এইসব গাছের কথাও বলা হয়েছে। পুষ্করমূল, পুষ্কর, পুষ্কর আহ্বয়, যাস, ধন্বয়াস, দুষ্পর্শ, দুরালভা—এদেরও উল্লেখ আছে। বাকুচী, সোমরাজী, সোমবল্লী, মার্কব, কেশরাজ, ভৃঙ্গরাজ—এদেরও স্মরণ করতে হবে। বিদ্বানরা বেদগজকে চক্রমর্দক বলে; সুরঙ্গীকে টগর, তার স্নায়ুকে কলনাশা, এবং বায়সী—এগুলোও নাম। মহাকাল—বেলা নামে পরিচিত; তণ্ডুলীয়—ঘনস্তন; ইক্ষ্বাকু—করলা, তিক্তালবু—এভাবেই নামকরণ হয়েছে। ধামার্গব, কোষাতকী, যামিনী—এদেরও জানতে হয়; কুষাতকীর বিভিন্ন রূপকে কৃতভেদন বলা হয়। জীমূত—আরো এক নাম খুড়্ডাক, দেবতাডক; গৃধ্রনখী, হিঙ্গুকাকাদনী—এগুলোও বিভিন্ন নাম। অশ্বরী, করবীর—যাকে অশ্বমারক বলা হয়; সিন্ধু, সৈন্ধব, সিন্ধূত্থ—সবই মনিমন্থের নাম। ক্ষার ও যবাগ্রজ—দু’টোই যবক্ষার; সর্জিকা ও সর্জিকাক্ষার—দ্বিতীয় প্রকার। কাশীশ ও পুষ্পকাশীশ—চোখের ওষুধ; ধাতুকাশীশ ও কাশী—এগুলোও নাম। সৌরাষ্ট্রী—মাটির ক্ষার; কাক্ষী—পঙ্কপর্পটি; সমাক্ষিক—একটি খনিজ, তাপ্য—তাপ্যুত্থ থেকে উৎপন্ন। শিলা ও মনঃশিলা, নেপালী, কুলটি, আলা বা মনস্তালক—হরিতাল নামে পরিচিত। গন্ধক—গন্ধপাষাণ, রস—পারদ; তাম্রমৌদুম্বর, শুল্ব, ম্লেচ্ছমুখ—এদেরও উল্লেখ আছে। অদ্রিসার—তীক্ষ্ণ লোহা, লোহকঞ্চ; মাক্ষিক, মধু, ক্ষৌদ্র—সব ফুলের সার। জ্যেষ্ঠ—জল মিশিয়ে—কাঞ্জিক ও সুবীরক; সীতা, সিতোপলা, মাছ্যণ্ডী—এগুলো চিনি জাতীয়। ত্বক, এলাচ, পত্রক—সম পরিমাণে মিশিয়ে হয় ত্রিসুগন্ধি বা ত্রিজাতক; নাগকেশর মিশলে হয় চতুর্জাত। পিপ্পলী, পিপ্পলীমূল, চব্যা, চিত্রক, নাগর—এগুলো পঞ্চকোল নামে খ্যাত; কোলক—আরেক নাম। প্রিয়ঙ্গু—কঙ্গুকা, কোরদূষ—কোদ্রব; ত্রিপুট—পুট, কলাপ—লঙ্গক। সতীনা, বৃতুল, বেণু, পিচুক, পিতল, চাক্স, বিড়ালপদক—এদেরও নাম স্মরণীয়। এভাবেই ঋষিরা একে একে ঔষধি গাছ, খনিজ, রস, ও তাদের নানা নাম ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করলেন, যাতে জ্ঞানীরা প্রকৃতির এই অপার ভান্ডারকে জানতে ও সম্মান করতে পারেন।