সাপের উৎপত্তির কারণ তিনিই, আবার সকল কল্যাণের মূলেও তিনিই বিরাজমান। দেহের আত্মা, ইন্দ্রিয়ের আত্মা এবং বুদ্ধির আত্মা—সব কিছুর অন্তর্যামী তিনি। জাগরণে ও নিদ্রায়, মহাত্মা ও পরমাত্মা—সব রূপেই তিনি বিরাজ করেন। পৃথিবীর পরমাত্মা, স্বাদের আত্মা, শব্দের আত্মা, বাক্যের আত্মা, স্পর্শের আত্মা এবং ব্যক্তিত্ব—সবই তাঁরই প্রকাশ। গন্ধের আত্মা, হাতের আত্মা, পায়ের আত্মা, এবং সর্বোচ্চ সত্তা—সবই তিনি। ইন্দ্রের আত্মা, ব্রহ্মার আত্মা, শান্ত রুদ্রের আত্মা এবং মন—সব কিছুতেই তিনি বিরাজমান। ঈশ্বরের আত্মা, পরমাত্মা, রুদ্রের আত্মা এবং মুক্তির জ্ঞান—সবই তাঁর থেকে উদ্ভূত। তিনি লজ্জা ও কর্মের আধার, এবং তপস্বীদের মঙ্গলে আনন্দিত হন। চেতনা, বুদ্ধি, কাল, তাপ, বৃষ্টি, মন—সবই তাঁরই অংশ। তিনি দুষ্টদের বিভ্রান্তকারী, মাণ্ডব্য, এবং সমুদ্রের নিচের অগ্নি। অত্রি, বসিষ্ঠ, পুলহ, পুলস্ত্য, কুত্স, যাজ্ঞবল্ক্য, দেবল, ব্যাস, এবং পরাশর—এ সকল ঋষিতেও তাঁরই প্রকাশ। শর্ম্মদ, গাঙ্গেয়, হৃষীকেশ, ও বৃহচ্ছ্রব—তাঁরই রূপভেদ। নারায়ণ, মহাভাগ্যবান, এবং প্রাণের অধিপতি তিনিই। উদান ও সমানের অধিপতি, সকল রূপের প্রথম অধিপতি, খড়্গধারী, এবং হালধারী—তিনিই। তিনি প্রকৃতি, কণ্ঠে কৌস্তুভ মণি, গায়ে পীতবস্ত্রধারী। অনন্ত, অসীম রূপধারী, সুন্দর নখবিশিষ্ট, দেবসৌন্দর্যের অধিকারী তিনি। হিরণ্যকশিপুকে বধকারী, হিরণ্যাক্ষকে দমনকারী তিনি। কেশিনাশক, মুষ্টিকবিজয়ী, অরিষ্টবিধ্বংসী, অক্রূরের প্রিয়—সবই তিনি। তিনি বিপদনাশক, পুণ্যবান, দীপ্তিমান, এবং স্বয়ং ভাগবতের ভক্ত। চক্রধারী, সদা গতি, আবার গতি ও স্থিতির ঊর্ধ্বে তিনি। বায়ু, দৃষ্টি, শ্রবণ, জিহ্বা, গন্ধগ্রহণ—সবই তাঁর রূপ। শঙ্কর, সর্বত্রব্যাপ্ত, সহিষ্ণুতাদাতা, মানবের মধ্যে ধৈর্য সৃষ্টি করেন তিনি। ভক্তদের দ্বারা প্রশংসিত, ভক্তপ্রিয়, যশোদাতা ও যশবর্ধক তিনি। দান, দাতা, কর্তা, বিশুদ্ধ, দেবতাদের প্রিয়—সবই তাঁর গুণ। সহস্রশিরা, রোগনাশক, মুক্তির দ্বার—তিনিই। শুক্র, সুকীর্তি, সুগ্রীব, কৌস্তুভ—সবই তাঁর ভিন্ন রূপ। মাছ, পরশুরাম, প্রহ্লাদ, বলি—তিনিও তাঁদের মধ্যে প্রকাশিত। খর ও দুষণবিধ্বংসী, রাবণসংহারক, কুম্ভেন্দ্রজিনদমনকারী, কুম্ভকর্ণনাশক—সবই তিনি। দুষ্ট অসুরবিনাশী, শম্ভরশত্রু, যমল-অর্জুনবৃক্ষভঞ্জক, তপস্যার ফলদাতা তিনিই। সার, সারপ্রিয়, সৌর, কালবিধ্বংসী, বিচ্ছেদকর্তা—তিনিও। প্রাণ, অপান, ব্যান, রজঃ, সত্ত্ব, তমঃ ও শরৎ—সব তাঁর মধ্যেই। তিনি অপরিবর্তনীয়, বিশুদ্ধরূপ, সকল দেহের ঊর্ধ্বে। তিনি স্পর্শহীন, পদহীন; জাগরণ ও বুদ্ধিহীন; অপান ও ব্যানবিহীন—তিনিই সেই পরমাত্মা, যিনি সর্বত্র, সর্বকালে, সকল রূপে বিরাজমান।