রাজর্ষি, এখন আমি তোমাকে মহিমাপূর্ণ নারীর লক্ষণ ও তদনুসারে ফলাফলসমূহের এক অনুপম বর্ণনা শোনাবো, যেভাবে শাস্ত্রে নির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে। একজন মহিলার স্তন, বাহু, দাঁত, চোখ ও নাকের মধ্যবর্তী স্থান যদি দীর্ঘ হয়, তবে তা বিশেষ গুণের চিহ্ন। রাজমহিষীর জন্য উভয় পা মসৃণ ও সমান হওয়া, পদতল তাম্রবর্ণ এবং নখও তেমনই রক্তিম হওয়া কাম্য। তাঁর গোড়ালি আড়ালে ও পূর্ণ, পদতল পদ্মবর্ণ এবং অত্যন্ত মঙ্গলজনক। যদি পায়ে বজ্র, পদ্ম বা হাল চিহ্ন থাকে, তবে সে নারী দাসী স্বভাবের; অন্যথায় ফল ভিন্ন। নারীর সন্ধিগুলি উঁচু নয়, উভয় হাঁটু সমান ও মঙ্গলজনক। তাঁর গোপনাঙ্গ উৎকৃষ্ট, প্রশস্ত ও অশ্বত্থ পাতার মতো আকৃতির। এই গোপনাঙ্গ সুসজ্জিত ও মঙ্গলদায়ক; নিতম্ব ভারী ও শুভ। তাঁর নাভি ডানদিকে ঘুরে যায়, কোমরে থাকে তিনটি ভাঁজ, যা সৌন্দর্য বাড়ায়। সুদৃঢ় ও লোমশ উরু প্রশংসিত, আর গলা শঙ্খের মতো কোমল ও আকর্ষণীয়। দাঁত যেন জুঁই ফুলের মতো শুভ্র, কণ্ঠস্বর কোকিলের মতো মধুর। নাক সমান ও সুন্দর গঠনের হলে নারীর সৌন্দর্য ও মঙ্গল বৃদ্ধি পায়। ভ্রু যেন অর্ধচন্দ্রের মতো, কপাল চওড়া না হওয়াই শ্রেয়। কান যুগল সুগঠিত, সমান, কোমল ও পূর্ণ হওয়া কাম্য। নারীর মস্তক সমান হলে, পদতল বা করতলও সমান হলে তা শ্রেষ্ঠ গুণ বলে গণ্য। যদি নারীর দেহে পতাকা, চামর, মালা, পর্বত-আকৃতির কর্ণফুল বা বেদির চিহ্ন থাকে, তবে তা বিশেষ মঙ্গলজনক। গদা ও অন্যান্য শুভ চিহ্নবিশিষ্ট নারী রাজাদের প্রিয় হয়। নারীর করতল বেশি নিচু বা উঁচু হওয়া উচিত নয়; কব্জি থেকে উঠে মধ্যমায় পৌঁছানো রেখা মঙ্গলজনক। এই রেখা যদি পদতলে বা উঁচু পায়ে থাকে, তবুও তা শুভ। কনিষ্ঠার গোড়া থেকে উঠে আসা রেখা দীর্ঘায়ু প্রদান করে। আবার, বুড়ো আঙুলের গোড়ায় রেখা থাকলে আয়ু কমে যায়। ছোট বা ভাঙা রেখা অল্প আয়ুর নির্দেশক; দীর্ঘ ও অবিচ্ছিন্ন রেখা দীর্ঘজীবনের লক্ষণ। নারীর কনিষ্ঠা বা অনামিকা যদি মাটিতে না ছোঁয়, অথবা পিণ্ডলী অত্যধিক শিরাযুক্ত ও উরুর ওপরে উঠে যায়, তবে তা অশুভ। গোপনাঙ্গ যদি বামদিকে, ডেবে যাওয়া বা ছোট হয়, তবে সেই নারী কষ্টভোগী। আবার, যদি গোপনাঙ্গ মোটা ও ভয়ঙ্কর হয়, তবে সন্দেহ নেই তা অশুভের লক্ষণ। যদি হাসলে গালে টোল পড়ে, তবে সে নারী নিশ্চয়ই বিশ্বস্ত নয়। পেটে এমন চিহ্ন থাকলে সে শ্বশুরকে, উরুর ওপরে থাকলে স্বামীকে ক্ষতি করে। স্তনে লোমহীনতা ও অশুভ চিহ্ন, কিংবা অসমান কান— এগুলোও অশুভ। গাঢ় বর্ণের মাংস ও দীর্ঘ পেট থাকলে চুরি ও মৃত্যুর প্রবণতা দেখা যায়। অসমান ও শুষ্ক শিরাযুক্ত হলে ধন-সম্পদ নষ্ট হয়। নারীর দেহে বিকৃতি থাকলে দোষ প্রকাশ পায়; গুণ নির্ধারিত হয় পাতার আকৃতি অনুসারে। তবে, যদি কোনো নারীর শরীরে শুভ চিহ্ন না থাকে, তিনি যদি চক্রচিহ্নিত পাথর পূজা করেন, তবে তিনিও শুভফল লাভ করেন। তিনটি চক্রবিশিষ্ট হলে তিনি অচ্যুত, চারটি চক্রে চতুর্ভুজরূপে প্রকাশিত। অষ্টম চক্রে পুরুষোত্তম, নবমে নয় বিভাজন, দশমে দশগুণ রূপ। এর পরে অনন্ত, যেখানে রেখা ও অন্যান্য চিহ্ন সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়। যে স্থানে শালগ্রাম শিলা রয়েছে, সেখানকার দেবতা দ্বারাবতী উৎসের বলে বিবেচিত। শালগ্রাম, দ্বারকা, নাইমিষ, পুষ্কর ও গয়া— এই পবিত্র স্থানগুলি, গঙ্গা, নর্মদা, চন্দ্রভাগা ও সরস্বতী— এরা সকলেই সমস্ত পাপ নাশ করে, ভোগ ও মুক্তি দুই-ই প্রদান করে। অঙ্গিরা, শ্রীমুখ, ভব, যুব ও ধাতা— এদেরও একইরূপ গৌরব ও মহিমা রয়েছে। এভাবেই শাস্ত্রে নারীর শুভ ও অশুভ লক্ষণ, তাদের ফল, এবং পবিত্র স্থান ও শিলার মাহাত্ম্য বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে, যা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ ও পালনীয়।