শোনো, মহর্ষিগণ কৌতূহল নিয়ে মানব ও নারীর শরীরের লক্ষণসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন। প্রথমেই বলা হয়েছে, চল্লিশটি লক্ষণ আছে যেগুলো বক্র, আর ত্রিশটি লক্ষণে ভ্রু দুটি যুক্ত থাকে। রাজাদের মস্তক ছাতার মতো আকারের হয়; যাঁদের মস্তক নিম্নমুখী, তাঁরা ধনবান হন। যার মস্তক কলসের মতো এবং অশুভ চেহারার, তার ধন-সম্পদ ও সৌভাগ্য থাকে না। রাজাদের দেহের অঙ্গপ্রান্তের শীর্ষভাগ ভাঙা নয়, কোমল এবং অত্যধিক সংখ্যায় নয়। যার চুল অল্প, অতিরিক্ত পাকানো, ঘন ও কালো, তার সৌভাগ্য থাকে না। প্রতিটি লক্ষণ নিজস্ব শুভফল দেয়; অন্যথায় ফল ভিন্ন হয়। রাজাদের ছয়টি অঙ্গ উঁচু, চারটি ছোট, সপ্তমটি লাল—এগুলো রাজাদের চিহ্ন। একজন পুরুষের কপাল, মুখ ও বক্ষ অত্যন্ত প্রশস্ত হওয়া উচিত। উরু, গলা ও গোপনাঙ্গ হয় উঁচু বা ছোট। চোখের কোণ, পদ, জিহ্বা ও ঠোঁট—এই পাঁচটি অঙ্গ সুন্দর গঠনের। স্তনের মধ্যবর্তী স্থান, বাহু, দাঁত, চোখ ও নাসিকা দীর্ঘ হয়। রাণীদের উভয় পা মসৃণ ও সমান, পাতা তাম্রবর্ণ এবং নখও তাই। রাণীর গোড়ালি ঢাকা ও পূর্ণ, পদতল পদ্মবর্ণ ও মঙ্গলজনক। পদে বজ্র, পদ্ম বা লাঙ্গলের চিহ্ন থাকলে সে দাসী; নচেৎ ফল ভিন্ন। গাঁটগুলো উঁচু নয়, উভয় হাঁটু সমান ও মঙ্গলময়। গোপনাঙ্গ উৎকৃষ্ট, প্রশস্ত ও অশ্বত্থপাতার মতো। রত্ন গোপন ও সৌভাগ্যদায়ক; কোমর ভারী ও মঙ্গলজনক। নাভি ডানদিকে ঘোরানো এবং কোমরে তিনটি ভাঁজ শোভা পায়। দৃঢ় ও লোমশ উরু প্রশংসিত, আর গলা শঙ্খের মতো কোমল। দাঁত যূথিকা ফুলের মতো সাদা, বাক্য কোকিলের মতো মধুর। নাক সমান ও সুন্দর হলে নারী সৌভাগ্যবতী হয়। ভ্রু অর্ধচন্দ্রের মতো, কপাল প্রশস্ত হওয়া অনুচিত। কর্ণযুগল পূর্ণ, সমান, কোমল ও সুন্দরভাবে স্থাপিত। নারীর মস্তক সমান হলে সর্বোত্তম, পদতল ও করতলও তাই। পতাকা, চামর, মালা, পর্বতাকৃতি কর্ণফুল ও বেদীচিহ্ন—এগুলো শুভলক্ষণ। অঙ্কুশ প্রভৃতি চিহ্নযুক্ত নারী রাজাদের প্রিয় হয়। নারীর করতল ডোবা বা উঁচু নয়; কব্জি থেকে মধ্যমাঙ্গুলিতে উঠে যাওয়া রেখা মঙ্গলজনক। যে রেখা করতলে বা উঁচু পদতলে থাকে—তাও শুভ। কনিষ্ঠার গোড়া থেকে যে রেখা উঠে, তা দীর্ঘায়ু দেয়। বুড়ো আঙুলের গোড়ায় রেখা থাকলে আয়ু কম হয়। ছোট বা ভাঙা রেখা অল্প আয়ুর, দীর্ঘ ও অবিচ্ছিন্ন রেখা দীর্ঘ আয়ুর লক্ষণ। নারীর কনিষ্ঠা বা অনামিকা যদি মাটিতে না ছোঁয়—এটি লক্ষণ বিশেষ। পিণ্ডলী অতিরিক্ত শিরাযুক্ত ও উরুর ওপরে উঠলে—এও লক্ষণ। বামদিকে, ডোবা বা ছোট গোপনাঙ্গ নারীর দুঃখের কারণ। যাদের গোপনাঙ্গ মোটা ও ভয়ঙ্কর, তাদের বিষয়ে সন্দেহ নেই। হাসলে গালে টোল পড়লে সে নারী অবিশ্বস্ত। পেটে চিহ্ন থাকলে শ্বশুরকে, উরুর ওপরে চিহ্ন থাকলে স্বামীকে হত্যা করে। স্তনে চুল না থাকা ও অশুভ, কান অসমান—এগুলোও লক্ষণ। গাঢ় মাংস ও দীর্ঘ পেট যাদের, চুরি করলে তারা মৃত্যুবরণ করে। শিরা অসমান ও শুষ্ক হলে ধন-সম্পদ হারায়। এইভাবে, শরীরের প্রত্যেকটি লক্ষণ তার নিজস্ব ফল নিয়ে আসে—কখনো মঙ্গল, কখনো অমঙ্গল। মহর্ষিগণ এই লক্ষণসমূহের মাধ্যমে মানুষের ভাগ্য ও চরিত্র নির্ধারণ করেন।