প্রাচীন শাস্ত্রের বর্ণনা অনুযায়ী মানুষের দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, তাদের গঠন ও চিহ্নের মধ্যেই লুকিয়ে আছে তার ভাগ্য, আয়ু, সৌভাগ্য কিংবা দুঃখের সংকেত। সেখানে বলা হয়েছে, যাদের চোখ বড়, আর্দ্র ও কোমল, তারা ভোগবিলাসপ্রিয়; আবার যাদের চোখ ছোট এবং উঁচু, তাদের আয়ু হয় সংক্ষিপ্ত। যাদের ভ্রু ঘন, লম্বা, কাছাকাছি যুক্ত এবং অর্ধচন্দ্রের মতো উঁচু, তারা ভাগ্যবান। কিন্তু যে পুরুষ সহজলভ্য নারীদের প্রতি আসক্ত, তারা পুত্র সন্তানের থেকে বঞ্চিত হয়। ভ্রু যদি অর্ধচন্দ্রের মতো হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি কখনো দরিদ্র, কখনো ধনী হয়। যাদের রক্তনালিকা উঁচু এবং স্বস্তিক চিহ্নযুক্ত, তারা ধনসম্পদের অধিকারী। আবার যাদের কপাল ঢাকা, তারা দুঃখী; আর যাদের কপাল উঁচু, তারা রাজা হয়। অতিরিক্ত চোখের জল, করুণ ও কঠিন কান্না—এসবই সুখের লক্ষণ। কিন্তু যে ব্যক্তি ঘন ঘন, উচ্চস্বরে হাসে, তার জন্য তা অশুভ এবং নানা রকম উন্মত্ততার সংকেত। রাজত্ব লাভের জন্য চারটি বিশেষ চিহ্ন থাকে; তখন আয়ু হয় পঁচানব্বই বছর। যার চুল দেহের প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে, তার আয়ু আশি বছর। শরীরের চল্লিশটি লক্ষণ বাঁকা, ত্রিশটি লক্ষণ যুক্তভ্রু দ্বারা চিহ্নিত। রাজাদের মাথা ছাতার মতো আকৃতির হয়; যাদের মাথা নিচু, তারা ধনী। যার মাথা হাঁড়ির মতো এবং দেখতে অপ্রীতিকর, সে ধন-সম্পদ ও শুভফল থেকে বঞ্চিত। রাজাদের অঙ্গপ্রান্ত ভাঙ্গা নয়, কোমল এবং অত্যাধিক সংখ্যায় নয়। যাদের চুল পাতলা, অতিরিক্ত পাকানো, ঘন ও কালো, তারা সৌভাগ্যহীন। এইসব লক্ষণের প্রত্যেকটিরই নিজস্ব শুভফল আছে; অন্যথায় ফল ভিন্ন হয়। রাজাদের জন্য ছয়টি অঙ্গ উঁচু, চারটি খাটো, সপ্তমটি লাল—এগুলো রাজলক্ষণ। পুরুষের কপাল, মুখ ও বুক অত্যন্ত প্রশস্ত হওয়া উচিত। উরু, গলা ও গোপনাঙ্গ হয় উঁচু বা খাটো। চোখের কোণ, পা, জিহ্বা ও ঠোঁট—এই পাঁচটি সুন্দর গঠনের হয়। স্তনের মধ্যবর্তী স্থান, বাহু, দাঁত, চোখ ও নাক দীর্ঘ হয়। রানীদের জন্য উভয় পা মসৃণ ও সমান, পায়ের তলা তাম্রবর্ণ, নখও তেমনি। গোড়ালি ঢাকা ও পূর্ণ, পায়ের তলা পদ্মবর্ণ ও শুভ। পায়ে বজ্র, পদ্ম বা লাঙ্গল চিহ্ন থাকলে সে দাসী; অন্যথায় ফল ভিন্ন। গিঁটগুলো স্পষ্ট নয়, উভয় হাঁটু সমান ও শুভ। গোপনাঙ্গ উৎকৃষ্ট, প্রশস্ত ও অশ্বত্থপত্রের মতো। গোপন রত্ন গোপন থাকে এবং শুভ ফল আনে; নিতম্ব ভারী ও শুভ। নাভি ডানদিকে ঘোরে, কোমরে তিনটি ভাঁজ সৌন্দর্য বাড়ায়। দৃঢ় ও লোমশ উরু প্রশংসিত, শঙ্খাকৃতির কোমল গলা প্রশংসনীয়। দাঁত যেন বেলি ফুলের মতো, বাক্য কোকিলের মতো মধুর। নাক সমান ও সুন্দর হলে নারীর জন্য তা সৌভাগ্যের চিহ্ন। ভ্রু অর্ধচন্দ্রের মতো, কপাল চওড়া নয়। কানের জোড়া মাংসল, সমান, কোমল ও সুন্দর স্থাপিত। নারীর জন্য মাথা সমান হওয়াই শ্রেষ্ঠ, যেমন পায়ের তলা বা তালু। পতাকা, যক্ষপুচ্ছ, মালা, পর্বতাকৃতি কর্ণফুল ও বেদী চিহ্নযুক্ত নারীরা রাজাদের প্রিয় হয়। নারীদের তালু কখনো দেবে যায় না, কখনো খুব উঁচু নয়; কব্জি থেকে উঠে মধ্যমায় পৌঁছানো রেখা শুভ। যে রেখা তালুতে বা উঁচু পায়ের তলায় থাকে, সেটিও শুভ। কনিষ্ঠার গোড়া থেকে উঠে যাওয়া রেখা দীর্ঘায়ু দেয়। আবার বুড়ো আঙুলের গোড়ায় রেখা থাকলে আয়ু কমে যায় বা সংক্ষিপ্ত হয়। এভাবেই শাস্ত্রকার দেহের প্রত্যেকটি অঙ্গ, রেখা ও চিহ্নের মাধ্যমে মানুষের ভাগ্য, আয়ু, সৌভাগ্য ও দুঃখের ইঙ্গিত প্রকাশ করেছেন।