একদিন প্রাচীন ঋষি তাঁর শিষ্যদের সামনে মানবদেহের বিভিন্ন লক্ষণ ও তাদের ফলাফল নিয়ে গভীর আলোচনা করছিলেন। তিনি বললেন, “যাদের হাতের তালু চ্যাপ্টা বা নিচু, তাদের পিতৃপুরুষের সম্পদ হারাতে হয়। রাজাদের হাত কাটা বা চিৎকারকারী হলে, তারাও ধন-সম্পদ থেকে বঞ্চিত হয়। যাদের দাঁত উঁচু-নিচু ও অসমান, তাদের স্বভাবও তেমনি অস্থির ও অসমান। আবার, যারা পরনারীতে আসক্ত এবং যাদের দাঁত হলদে ও খসখসে, তাদের নিঃস্ব বলে গণ্য করা হয়। যাদের নখ নেই, নখ বিকৃত বা বিবর্ণ, তাদের অন্যের বলে বিবেচনা করা উচিত। নারীর চিহ্ন বোঝা যায় বুড়ো আঙুলের গোড়ার রেখা ও লম্বা আঙুলের গাঁট থেকে। যাদের আঙুল মোটা এবং যারা ধনবান, তাদের তালুতে তিনটি রেখা দেখা যায়। কারও হাতে দুটি মাছের চিহ্ন থাকলে, সে দান করতে সংকোচ বোধ করে। রাজাদের হাতে শঙ্খ, ছাতা, পালঙ্ক, হাতি বা পদ্মের মতো চিহ্ন থাকে। গবাদি পশুতে ধনী ব্যক্তির হাতে দড়ির মতো চিহ্ন দেখা যায়; রাজপুরুষের হাতে স্বস্তিক চিহ্ন। যিনি যজ্ঞে ধনী, তাঁর হাতে মুসলের চিহ্ন; যজ্ঞকারীর হাতে বেদীর চিহ্ন। বুড়ো আঙুলের গোড়ার রেখা পুত্রের সংকেত দেয়; সূক্ষ্ম রেখা কন্যার। এই রেখা দীর্ঘায়ু দেয়, তবে যদি তা ছিন্ন হয়, বৃক্ষ থেকে মৃত্যুভয় জন্মে। যাদের ঠোঁট মাংসল, তারা ধনী; রাজাদের ঠোঁট লালচে। যাদের দাঁত অস্বাভাবিক, তারা দরিদ্র; মসৃণ, ঘন ও সুন্দর দাঁত শুভ। তালু মসৃণ ও লম্বা হলে তা জানা উচিত; সাদা হলে ধনহানি ঘটে। রাজাদের তালু পরিষ্কার ও মসৃণ; বিপরীত হলে দুঃখ হয়। ধনীদের তালু গোল ও বাঁকা; নিঃস্বদের লম্বা। যাদের সন্তান নেই, তাদের তালু গর্তযুক্ত ও বেঁকা; দুর্ভাগাদের ছোট তালু। যার দাড়ি লাল ও ঠোঁট একত্রিত, সে চোর। যাদের কান মাংসলহীন ও চ্যাপ্টা, তারা সামান্য ভোগ করে; দুর্ভাগাদের কান ছোট। বড় কান যাদের, তারা ধনী রাজা। যাদের গাল গর্তযুক্ত, তারা কামাসক্ত; পূর্ণ গাল জ্ঞানীর। নাকের ডগা কাটা বা কূপযুক্ত হলে, সে অযোগ্য নারীর প্রতি আসক্ত। নাক চ্যাপ্টা হলে, সে ভাগ্যবানদের ওপর নির্ভরশীল হয়। ক্রূর ব্যক্তির ডান পার্শ্ব বেঁকা হয়; বলবানদের একবার হাঁচি হয়। যাদের চোখের কোণ উঁচু ও পদ্মের পাপড়ির মতো, তারা সুখী হয়। ময়ূরের চোখের মতো চোখ যাদের, তারা নিষ্ঠুর; সবুজ চোখ অপবিত্র। গর্তযুক্ত চোখ অধিপতির, বড় চোখ মন্ত্রীর। চোখের তারা কালো হলে, চোখ হারানোর আশঙ্কা। ভেজা ও বড় চোখ ভোগের ইঙ্গিত দেয়; ছোট ও উঁচু চোখ স্বল্প আয়ুর। ঘন, লম্বা ও সংলগ্ন ভ্রু, এবং অর্ধচন্দ্রের মতো উঁচু ভ্রু, সৌভাগ্যের লক্ষণ। যারা সহজলভ্য নারীতে আসক্ত, তারা পুত্রহীন হয়। অর্ধচন্দ্রের মতো ভ্রু যাদের, তারা কখনো দরিদ্র, কখনো ধনী। উঁচু শিরা ও স্বস্তিক চিহ্ন যাদের, তারা ধনের অধিপতি। ঢাকা কপাল দুঃখের, উঁচু কপাল রাজত্বের চিহ্ন। প্রচুর অশ্রু, করুণ ও কঠিন কান্না সুখ আনে। ঘন ঘন উচ্চ হাসি অশুভ এবং নানা প্রকার পাগলামির লক্ষণ। রাজত্ব আসে চারটি চিহ্নে; তখন আয়ু হয় পঁচানব্বই বছর। আর যার চুল শেষ পর্যন্ত পৌঁছায়, তার আয়ু আশি বছর হয়।” ঋষির মুখনিঃসৃত এই বাণী শুনে শিষ্যরা মানবদেহের গভীর রহস্য ও লক্ষণের মাহাত্ম্য উপলব্ধি করল।