প্রাচীন শাস্ত্রের বর্ণনায় মানবদেহের নানা লক্ষণের মধ্য দিয়ে মানুষের ভাগ্য, সুখ-দুঃখ, ধন-সম্পদ ও আয়ুষ্কাল নির্ধারিত হয়—এমনই এক বিস্ময়কর বিবরণ পাওয়া যায় এখানে। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, যদি কোনো পুরুষের যৌনাঙ্গ ছোট হয়, তবে তার সন্তান হবে না। আবার যৌনাঙ্গ ছোট হলেও যদি তাতে স্পষ্ট শিরা দেখা যায়, সে ব্যক্তি সুখী হয়। যৌনাঙ্গ যদি অণ্ডকোষে লুকানো, লম্বা বা বাঁকা হয়, তবে সে ধন-সম্পদহীন হয়। একজন পুরুষের যদি একটি মাত্র অণ্ডকোষ থাকে, সে দুর্বল হয়; আর যদি যৌনাঙ্গ অসমান হয়, সে নারীদের বেশি আনন্দ দিতে পারে না। তবে যার অণ্ডকোষ উঁচু এবং পাথরের মতো শক্ত ও খসখসে, সে দীর্ঘায়ু ও প্রভুত্বশালী হয়। যাদের মূত্রত্যাগে শব্দ হয় বা একেবারে শব্দহীন, তারা দরিদ্র বলে বিবেচিত। আবার যাদের মূত্র ডানে প্রবাহিত হয় বা বাঁক নেয়, তারা রাজা হয়। নারীদের মধ্যে যাদের মূত্র এক ধারায়, মসৃণভাবে ও উঁচু হয়ে যায়, তারা ভাগ্যবতী। কিন্তু যাদের মূত্র শুকনো, সিসকার মতো বা জ্বলন্ত, তারা দুর্ভাগা। সন্তান লাভের ক্ষেত্রেও বিশেষ লক্ষণ আছে—যদি বীর্য মাছের মতো গন্ধযুক্ত হয়, পুত্র জন্ম নেয়; আর যদি বীর্য পাতলা হয়, কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বীর্য যদি ক্ষারাক্ত গন্ধযুক্ত হয়, সন্তান দরিদ্র হয়; আর যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, স্ত্রী দ্রুত মিলনে সক্ষম হয়। যার নিতম্ব মাংসল, সে সুখী হয়; সিংহের মতো নিতম্ব যার, সে রাজা। সাপের মতো পেট বা একেবারে সমতল বা হাঁড়ির মতো পেট যাদের, তারাও দরিদ্র হয়। সমান কোমর যাদের, তারা ভোগে সমৃদ্ধ; আর ডোবা কোমর যাদের, তারা ধন-সম্পদহীন। মাছের মতো পেট যাদের, তারা ধনবান; আর যাদের নাভি উঁচু, তারা সুখী। তবে নাভি যদি ঠিক পেটের মাঝখানে থাকে, তা বেদনার কারণ হয়। যারা পাশ প্রসারিত করে বসতে পারে, তারা দীর্ঘজীবী ও ধনসম্পদের অধিকারী হয়। যিনি একবার আহুতি দেন, তিনি শতবর্ষ আয়ু পান; দু'বার দিলে তিনি সমৃদ্ধির স্মরণীয় হন। রাজারা যদি নিষিদ্ধের পথে যান, বক্রভাবে কাজ করেন এবং মাংসল পাশ থাকে, তারা শাস্ত্রভ্রষ্ট হন। উল্টানো পাশ যাদের, তারা অন্যের দাস হয়ে ধন-সুখ হারান। রাজাদের মধ্যে যাদের বাহু অসমান, পাতলা ও শীর্ণ, তারা দরিদ্র হয়। নিম্নস্তরের রাজাদের চুল রুক্ষ ও কম থাকে। যাদের বুক অসমান, তারা স্বর্গলাভ থেকে বঞ্চিত হয়; অস্ত্রে নিহতরাও তাই। উঁচু বুক যাদের, তারা সুখভোগী; ডোবা বুক যাদের, তারা ধনহীন; পূর্ণ বুক যাদের, তারা ধনবান। মহাবীরের গলদেশ মহিষের মতো; অস্ত্রে নিহতের গলা হরিণের মতো। যাদের পিঠে চুল নেই ও বাঁকা, তারা শুভ; অন্যথায় অশুভ। উদ্দেশ্যহীনদের জন্যও এটি দারিদ্র্যের কারণ। একজন রাজার বাহু হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছে, গোল ও পূর্ণ হয়। হাতের আঙুলে অস্ত্রের চিহ্ন থাকলে তা শুভ। মোটা আঙুল যাদের, তারা ধনহীন; পাতলা ও বাঁকা আঙুল যাদের, তারা শীর্ণ। ডোবা তালু যাদের, তারা পিতৃসম্পদ হারায়। কাটা, শব্দযুক্ত হাত যাদের, তারা ধনহীন। যাদের দাঁত উঁচু ও অসমান, তাদের চরিত্রও অসমান হয়। অন্য নারীতে আসক্ত, হলুদ ও রুক্ষ দাঁত যাদের, তারা দরিদ্র। নখ না থাকলে, বিকৃত নখ বা বিবর্ণ নখ যাদের, তারা অন্যের অধীন। নারীর পরিচয় পাওয়া যায় বৃদ্ধাঙ্গুলির গোড়ায় রেখা ও দীর্ঘ আঙুলের সন্ধি দেখে। মোটা আঙুল ও ধনবান ব্যক্তির হাতে তিনটি রেখা থাকে। দুই মাছের চিহ্ন যার হাতে, সে লজ্জাবোধে দান করে। একজন রাজার হাতে শঙ্খ, ছাতা, পালকি, হাতি বা পদ্মের চিহ্ন থাকে। গো-সম্পদে ধনী যাদের, তাদের হাতে দড়ির মতো চিহ্ন দেখা যায়; আর সর্বশ্রেষ্ঠ রাজার হাতে স্বস্তিক চিহ্ন থাকে। এইভাবেই, মানবদেহের নানা লক্ষণ দেখে শাস্ত্রকারেরা মানুষের ভাগ্য, চরিত্র, সুখ-দুঃখ ও মর্যাদা নির্ধারণ করেছেন—এ এক বিস্ময়কর ও গভীর জ্ঞানের পরিচয়।