পূর্বখণ্ডের মহান গরুড় পুরাণের আচরণ ও জ্যোতিষশাস্ত্রের অংশে বলা হয়েছে, মানুষের হাতের রেখা তার আয়ু প্রকাশ করে। যদি এই রেখাটি কনিষ্ঠা আঙুলে বিশ্রাম নিয়ে মধ্যমা পর্যন্ত পৌঁছায়, তা বিশেষ অর্থ বহন করে। এইভাবেই 'শরীরে চিহ্নের বিবরণ' অধ্যায়টি শেষ হয়। এরপর, 'নারীর লক্ষণের বর্ণনা' অধ্যায়ে বলা হয়েছে—যার চুল কোঁকড়ানো এবং মুখ গোলাকার, যার গায়ের রং স্বর্ণের মতো, হাত পদ্মের মতো লাল ও কোমল, সেই নারী বিশেষ গুণের অধিকারী। যাঁর চুল ঢেউ খেলানো, চোখ গোলাকার, মুখ পূর্ণিমার চাঁদের মতো, এবং মুখের দীপ্তি উদিত সূর্যের মতো, সেই কুমারী প্রশংসিত। হাতের রেখা বেশি হলে বিপদ আসে, কম হলে ধন-সম্পদের অভাব দেখা দেয়। কর্মে নারী উপদেষ্টা, ধর্মে পতিব্রতা, আর কাজে দক্ষ। যার হাতে হাতির গদা, কর্ণফুল বা চক্রের চিহ্ন আছে; যার পার্শ্বদেশ ও স্তন চুলে আচ্ছাদিত; যার হাতের রেখা দুর্গ ও প্রবেশদ্বারের আকার ধারণ করে; যার কপালের রেখা উঁচু, পীতাভ ও নিরবচ্ছিন্ন; যার অনামিকা ও অঙ্গুষ্ঠ মাটি স্পর্শ করে না; যার হাঁটার ফলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে—তাঁরা বিশেষ সৌভাগ্যবতী। চোখের স্নিগ্ধতা সৌভাগ্য এনে দেয়, দাঁতের স্নিগ্ধতা খাদ্যে আনন্দ দেয়। নারীর পা শুভ হয় যখন নখ চকচকে ও লাল, পা উঁচু ও মসৃণ। নারীর পা প্রশংসিত হয় যখন ঘাম হয় না, তল মসৃণ ও কোমল। তাঁর গোপনাঙ্গ শ্রেষ্ঠ, প্রশস্ত, পিপল পাতার মতো; পেট ও স্তন চুলমুক্ত; এবং তাঁর তলদেশে তিনটি চুলহীন ভাঁজ থাকে। এইভাবেই 'নারীর লক্ষণের বর্ণনা' অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর, সমুদ্রের বর্ণনা অনুযায়ী, পুরুষ ও নারীর শুভ লক্ষণ প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের পায়ে ঘাম হয় না, তল কোমল, পদ্মের ভিতরের মতো। গোড়ালি কচ্ছপের মতো উঁচু, গোড়ালির গঠন রাজাদের মতো সুন্দর। পা শুষ্ক, নখ ফ্যাকাসে, আঙুল কম ও কাছাকাছি নয়। পায়ের হাড় বাঁশের মতো, পেশী শঙ্খ বা কুড়ালের মতো। উরু কোমল চুলে ঢাকা, সমান ও হাতির মতো দীপ্তিমান। যাদের উরু শেয়ালের মতো চুলহীন, শুধু শিকড়ে এক-দুটি চুল, তারা দুর্ভাগ্যবান ও নিন্দিত। হাঁটু মাংসহীন হলে সৌভাগ্য কম, এবং নারীর আনন্দও কম হয়। বড় উরু হলে দীর্ঘায়ু হয়; ছোট অঙ্গবিশিষ্ট পুরুষ ধনী হয়। অঙ্গ ছোট হলে সন্তান হয় না; ছোট অঙ্গে স্পষ্ট শিরা থাকলে সে সুখী হয়। অঙ্গ যদি অণ্ডকোষে লুকানো, লম্বা বা বাঁকা হয়, সে ধনহীন হয়। এক অণ্ডকোষবিশিষ্ট পুরুষ দুর্বল; অঙ্গ অসম হলে নারীর আনন্দ কম হয়। অণ্ডকোষ পাথরের মতো উঁচু ও খসখসে হলে সে প্রভু, এবং দীর্ঘায়ু হয়। যাদের মূত্র শব্দ করে বা একেবারে নীরব, তারা দরিদ্র। মূত্র ডানদিকে যায় বা ঘুরে যায়, তারা রাজা। নারীর মূত্র একধারায়, মসৃণ ও ঊর্ধ্বগামী হলে সে সৌভাগ্যবতী। মূত্র শুকনো, ফোঁসফোঁস বা রুক্ষ হলে দুর্ভাগ্যবান বলে গণ্য। বীর্য মাছের মতো গন্ধ হলে পুত্র, পাতলা হলে কন্যা জন্মায়। এইভাবেই গরুড় পুরাণের আচরণ ও শারীরিক লক্ষণের বিজ্ঞানভিত্তিক অধ্যায়গুলি একে একে শেষ হয়।