গরুড় পুরাণের আচরণসংহিতার এই অংশে শরীরের বিভিন্ন লক্ষণ ও চিহ্নের মাধ্যমে মানুষের ভাগ্য, আয়ু, সৌভাগ্য ও গুণাবলির বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে—যাদের প্রস্রাব শব্দহীন, তারা রাজা; আর যাদের প্রস্রাবের শব্দ হয়, তারা রাজা নন। যাদের পেট সাপের মতো আকৃতির, তারা দরিদ্র; আর মানুষের আয়ু নির্ধারিত হয় তার শরীরের রেখা দেখে। যে ব্যক্তি সুখী এবং পুত্রসম্ভ্রান্ত, তার আয়ু ষাট বছর। কারো করতলে একটি রেখা কানের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছালে তার আয়ু একশো বছর হয়। যদি দুটি রেখা থাকে, তবে আয়ু সত্তর বছর; তিনটি রেখা থাকলে ষাট বছর। আর যদি রেখা কম হয়, তবে সেই ব্যক্তি চল্লিশ বছর বাঁচে। যদি কারো কপালে ত্রিশূল বা বর্শার চিহ্ন দেখা যায়, তবে তা বিশেষ লক্ষণ। জীবনের রেখা নির্দেশিত হয় তর্জনী ও মধ্যমার মাঝে, আর জ্ঞানরেখা চলে আসে বৃদ্ধাঙ্গুল থেকে। জীবনের রেখা ছোট আঙুলে এসে প্রবেশ করে এবং করতলের রেখা দেখে মানুষের আয়ু জানা যায়। যদি এই রেখা ছোট আঙুলে ভর দিয়ে মধ্যমা পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তবে তা বিশেষ অর্থবহ। এইভাবেই 'দেহে চিহ্নের বর্ণনা' অধ্যায়টি শেষ হয়। পরবর্তী অধ্যায়ে নারীর দেহে শুভ লক্ষণসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে—যার চুল কোঁকড়ানো, মুখ গোলাকার, গায়ের রং সোনালি, আর হাত পদ্মফুলের মতো লাল, তিনি বিশেষ সৌভাগ্যবতী। যার চুল ঢেউ খেলানো, চোখ গোলাকার, মুখ পূর্ণিমার চাঁদের মতো, এবং মুখমণ্ডল উদিত সূর্যের মতো উজ্জ্বল—তিনিও অতি সৌভাগ্যবতী। করতলে বেশি রেখা থাকলে জীবনে বিঘ্ন আসে, আর কম রেখা থাকলে ধন-সম্পদের অভাব হয়। কর্মে তিনি উপদেশদাত্রী, চরিত্রে সতী, আর কাজে দক্ষ। যদি নারীর করতলে হাতির অঙ্কুশ, কুণ্ডল বা চক্রের চিহ্ন থাকে, দেহের পাশে এবং স্তনে লোম থাকে, করতলের রেখা দুর্গ ও প্রবেশদ্বারের মতো আকৃতি ধারণ করে, চুলের রেখা উঁচু, হলদেটে ও অবিচ্ছিন্ন হয়, এবং অনামিকা ও বৃদ্ধাঙ্গুলি মাটি স্পর্শ না করে, এমন নারী বিশেষ লক্ষণধারী। এমনকি যার হাঁটার ফলে মাটি কেঁপে ওঠে, তারও বিশেষ গুণ আছে। চোখের আর্দ্রতা সৌভাগ্য নিয়ে আসে, আর দাঁতের আর্দ্রতা খাদ্যভোগের ইঙ্গিত দেয়। নারীর পা তখনই শুভ, যখন নখ উজ্জ্বল ও লালচে, পা উঁচু ও মসৃণ। আবার, সে পা ঘামে না, তলা নরম ও কোমল হলে প্রশংসিত হয়। নারীর গোপনাঙ্গ পিপল পাতার মতো প্রশস্ত ও সুন্দর, পেট ও স্তন লোমহীন, আর কোমরে তিনটি লোমহীন ভাঁজ থাকলে তা শ্রেষ্ঠ লক্ষণ বলে বিবেচিত হয়। এইভাবে 'নারীর লক্ষণবর্ণনা' অধ্যায়টি শেষ হয়। এরপর সমুদ্রের বর্ণনা অনুসারে, পুরুষ ও নারীর শুভ লক্ষণসমূহ বলা হয়েছে। যাদের পা ঘামে না, পায়ের তলা নরম ও পদ্মফুলের অভ্যন্তরের মতো, তাদের শুভ লক্ষণ আছে। তাদের পায়ের গোড়ালি কচ্ছপের মতো উঁচু, গোড়ালি ঢাকা, এবং গঠন রাজাদের মতো। পা শুকনো, নখ ফ্যাকাশে, আঙুলগুলো দূরে দূরে ও ঘন নয়, শাঁস পাতলা, হাড় বাঁশের মতো, পিণ্ডলী শাঁখ বা কুঠারের মতো আকৃতির। উরুতে নরম লোম, উরু সমান ও হাতির উরুর মতো দীপ্তিমান। আবার, কারো উরু শিয়ালের মতো লোমহীন, শুধু গোড়ায় এক-দুটি লোম থাকে, তাহলে তা অশুভ লক্ষণ। যাদের হাঁটুতে মাংস নেই, তাদের ভাগ্য কম, এবং নারীর সঙ্গে মিলনে তারা কম আনন্দ পায়। যাদের উরু মোটা, তারা দীর্ঘজীবী; আর যার যৌনাঙ্গ ছোট, সে ধনবান হয়। এইভাবেই গরুড় পুরাণের আচরণসংহিতার এই অংশে শরীরের চিহ্ন, রেখা ও লক্ষণের মাধ্যমে মানুষের ভাগ্য ও গুণাবলির মনোজ্ঞ বর্ণনা করা হয়েছে।