গরুড় মহাপুরাণের আচারকাণ্ডের অন্তর্গত জ্যোতিষশাস্ত্রের আলোকে, দেবগণ ও ঋষিদের মাঝে শাস্ত্রজ্ঞরা যেভাবে নক্ষত্র, গ্রহ ও যোগের ফল বর্ণনা করেছেন, সেই মঙ্গলময় কাহিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে বলা যাক। প্রথমে বলা হয়েছে—বিশ্কম্ভ যোগে পাঁচ ঘড়ি, আর শূল যোগে সাতটি ঘড়ি বিশেষভাবে গণ্য। আবার, ব্যতীপাত, পরিঘ ও বৈধৃতি—এই যোগগুলো প্রতিদিন বিশেষ গুরুত্ব পায়। হস্ত নক্ষত্রে সূর্য, পুষ্যে বৃহস্পতি এবং অনুরাধা নক্ষত্রে বুধবার শুভ বলে বিবেচিত। শুক্রবারে রেবতী সর্বশ্রেষ্ঠ, আর অশ্বিনী নক্ষত্র মঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত হলে মঙ্গলজনক। শুক্রের সঙ্গে ভরণী, চন্দ্রের সঙ্গে চিত্রা, আবার বৃহস্পতির সঙ্গে শতভিষা এবং শুক্রের সঙ্গে রোহিণী শুভফলদায়িনী। পুষ্য, পুনর্বসু এবং রেবতী একত্রে চিত্রার সঙ্গে শুভ বলে গণ্য হয়। শাস্ত্রজ্ঞরা বলেন, জন্মসংক্রান্ত ক্রিয়াদি শতভিষা নক্ষত্রে করা উচিত। তবে, অশ্লেষা ও কৃত্তিকা নক্ষত্রে মৃত্যুকালে বিদায় নিলে অশুভ ফল হয়। এভাবেই গরুড় পুরাণের পুর্বখণ্ডের আচারকাণ্ডের জ্যোতিষশাস্ত্রের ঊনষাটতম অধ্যায়—নক্ষত্র, তাদের অধিদেবতা ও যোগসমূহ নিয়ে—সমাপ্ত হয়। পরবর্তী অধ্যায়ে বলা হয়েছে, ছয়টি আদিত্যতে দশটি তিথি, এবং সোমে পনেরোটি তিথি স্মরণীয়। শনির দশা দশ বছর, বৃহস্পতির উনিশ বছর। সূর্যের দশা দশ বছর, যা কষ্ট ও রাজাদের বিনাশ ডেকে আনে। মঙ্গলের সময়কালেও কষ্ট ও রাজ্য-সম্পত্তির বিনাশ হয়। শনির দশায় রাজ্যহানি, বন্ধন ও দুঃখ আসে; রাহুর দশায় রাজ্যহানি, রোগ ও দুঃখ। রাশিচক্রে মেষ মঙ্গলের, বৃষ শুক্রের; সিংহ সূর্যের, কন্যা বুধের; ধনু বৃহস্পতির, মকর ও কুম্ভ শনির। পূর্ণিমা থেকে দুটি, এবং পূর্বাষাঢ়া থেকে দুটি বিশেষভাবে গণ্য। অশ্বিনী, রেবতী, চিত্রা ও ধনিষ্ঠা নক্ষত্রে অলংকার ধারণ শুভ। যাত্রার সময় ডান দিকে নেউল বা ইঁদুর দেখা শুভলক্ষণ। বাঁশির শব্দ, নারী বা পূর্ণ জলপাত্র দেখা যাত্রার জন্য মঙ্গলজনক। তুলা, ঔষধি, তেল, সিদ্ধ কয়লা ও সাপও উল্লেখিত। হেঁচকির লক্ষণ বর্ণনা করে বলা হয়েছে—বাঁ পাশে হেঁচকি হলে মহালাভ হয়। দক্ষিণ-পশ্চিমে হেঁচকি হলে দুঃখ, পশ্চিমে মিষ্টান্ন লাভ, উত্তর-পূর্বে মৃত্যু হয়—এগুলো হেঁচকির ফলাফল। সূর্য যে রাশিতে অবস্থান করেন, সেখানে মস্তকে তিনটি চিহ্ন থাকে। দুই বাহুতে একটি করে, দুই হাতে একটি করে চিহ্ন। গোপনাঙ্গে একটি, হাঁটুতে একটি করে চিহ্ন থাকে। পায়ে চিহ্ন থাকলে স্বল্পায়ু জন্ম হয়। নাভিতে থাকলে অল্পে সন্তুষ্টি, হৃদয়ে থাকলে মহেশ্বর সদৃশ গুণ লাভ। কাঁধে থাকলে ধনাধিপতি, মুখে থাকলে সুস্বাদু খাদ্য লাভ হয়। এইভাবেই ষাটতম অধ্যায়—গ্রহের দশা নির্ধারণ ও অন্যান্য বিষয়ে—সমাপ্ত হয়। পরবর্তী অধ্যায়ে বলা হয়েছে, সপ্তম রাশি থেকে চন্দ্র যদি বর্ধমান রাশিতে অবস্থান করেন, তবে সর্বদা শুভফল দেন। যখন মানুষ চন্দ্রকে সম্মানিত করে, তখন তিনি গুরুরূপে প্রকাশিত হন। এবার তিনটি নক্ষত্র, অর্থাৎ অশ্বিনী থেকে শুরু করে প্রতিটি ত্রয়ী বর্ণিত হয়েছে—যেখানে হাসি, খেলা ও আনন্দের অবস্থা আসে। আবার, কম্পন, সুখ এবং মোট বারোটি অবস্থা বর্ণিত হয়েছে। দুঃখ, ভোগ, জ্বর, কম্পন ও সুখ—এই ক্রমে ফল আসে। তৃতীয় অবস্থায় রাজসম্মান, চতুর্থ অবস্থায় দ্বন্দ্বের আগমন ঘটে। এইভাবেই গরুড় মহাপুরাণের আচারকাণ্ডের জ্যোতিষশাস্ত্রে নক্ষত্র, গ্রহ, যোগ ও তাদের ফলাফল সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে—যা মানবজীবনের শুভাশুভ নির্ধারণে অনন্য পথপ্রদর্শক।