গরুড় মহাপুরাণের আচারকাণ্ডের জ্যোতিষশাস্ত্র অধ্যায়ে বলা হয়েছে—সূর্যপুত্রের জন্য ষষ্ঠ তিথি এড়িয়ে চলা উচিত; এই দিনে যাত্রা বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা অনুচিত। বিশেষত, বুধবার যাত্রা করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, বৃষ ও কুম্ভ রাশিতে চতুর্থী, মকর ও তুলা রাশিতে দ্বাদশী তিথি—এই সময়গুলি যদি কোনো দোষে আক্রান্ত হয়, তবে সাধারণ মানুষের জন্য সেগুলো অনুকূল নয়, কারণ এতে দুঃখ ও বিপদের আশঙ্কা থাকে। মঙ্গলবারে তিনটি ধনিষ্ঠা নক্ষত্র এবং বুধবারে তিনটি রেবতী নক্ষত্র এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। শনিবারে তিনটি উত্তরফাল্গুনী নক্ষত্রও এড়ানো উচিত। সূর্য মূলে, চন্দ্র শ্রবণে, মঙ্গল উত্তরপ্রোষ্ঠপদায় অবস্থান করলে, সেসব সময়ও যাত্রা বা গুরুত্বপূর্ণ কাজ অনুচিত। আবার, শুক্রের সঙ্গে পূর্বফাল্গুনী, শনির সঙ্গে স্বাতী—এই সংযোগও অনুকূল নয়। সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে শক্তি থাকলেও, তা সবসময় কাম্য নয়; কখনও কখনও তা নিষ্ক্রিয় ও নিষ্ফল হয়। পুরুষ ও নারীর নামের অক্ষর নিয়ে তিন ভাগে ভাগ করে মিল করা হয়। বিষ্কম্ভা যোগে পাঁচ ঘড়ি, শূল যোগে সাত ঘড়ি শুভ বলে গণ্য হয়। ব্যতীপাত, পরিবাহ, বৈধৃতি—এই যোগগুলি দিনে দিনে পরিবর্তিত হয়। হস্ত নক্ষত্রে সূর্য, পুষ্যে বৃহস্পতি, অনুরাধায় বুধবার—এগুলি শুভ বলে ধরা হয়। শুক্রবারে রেবতী, মঙ্গলের সঙ্গে অশ্বিনী, শুক্রের সঙ্গে ভরণী, চন্দ্রের সঙ্গে চিত্রা, বৃহস্পতির সঙ্গে শতভিষা, শুক্রের সঙ্গে রোহিণী—এই সংযোগগুলি শুভ। পুষ্য, পুনর্বসু ও চিত্রাসহ রেবতীও শুভ বলে ধরা হয়। জন্মসংশ্লিষ্ট কাজের জন্য শতভিষায় কাজ করা উচিত, কিন্তু অশ্লেষা ও কৃত্তিকা নক্ষত্রে বিদায় বা মৃত্যু হলে তা অশুভ। এইভাবে নক্ষত্র, তাদের দেবতা ও যোগের ফলাফল বর্ণনা করে অধ্যায়টি শেষ হয়। পরবর্তী অধ্যায়ে বলা হয়েছে—ছয়টি আদিত্যে দশটি তিথি, সোমে পনেরোটি তিথি স্মরণে রাখা হয়। শনির দশ বছর, বৃহস্পতির উনিশ বছর—এভাবে গ্রহের দণ্ড নির্ধারিত। সূর্যের দশ বছরের সময়কাল রাজাদের জন্য বিপর্যয়কর ও কষ্টদায়ক। মঙ্গলের সময়ে রাজ্য ও সম্পদের ক্ষয়, শনির সময়ে রাজ্য হারানো, বন্ধন ও দুঃখ, রাহুর সময়ে রাজ্যহানি, রোগ ও দুঃখ হয়। মেষ রাশি মঙ্গলের, বৃষ শুক্রের, সিংহ সূর্যের, কন্যা বুধের, ধনু বৃহস্পতির, মকর ও কুম্ভ শনির বলে নির্ধারিত। পূর্ণিমা ও পূর্বাষাঢ়া থেকে দুটি করে গুণ্য। অশ্বিনী, রেবতী, চিত্রা ও ধনিষ্ঠা—এই নক্ষত্রগুলি অলংকার ধারণের জন্য শুভ। যাত্রার সময় ডানদিকে নেউল বা ইঁদুর দেখা শুভ লক্ষণ। বাঁশির শব্দ, নারী বা পূর্ণ জলপাত্র দেখা শুভ। তুলা, ঔষধি, তেল, পোড়া কয়লা ও সাপ—এগুলোও বিশেষ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়। হেঁচকির লক্ষণও বর্ণনা করা হয়েছে—বাঁদিকে হেঁচকি উঠলে বিশেষ মঙ্গল হয়; দক্ষিণ-পশ্চিমে দুঃখ, পশ্চিমে মিষ্টান্ন, উত্তর-পূর্বে মৃত্যু ঘটে বলে বলা হয়েছে। সূর্য যে রাশিতে অবস্থান করেন, মাথায় তিনটি চিহ্ন থাকে; দুই বাহুতে একটি করে, দুই হাতে একটি করে চিহ্ন থাকে। গোপন স্থানে একটি নক্ষত্র, হাঁটুতে দুটি, আর পায়ে থাকলে স্বল্পায়ু জন্ম হয়। এভাবেই গরুড় পুরাণের এই অধ্যায়ে নক্ষত্র, যোগ, গ্রহ ও তাদের ফলাফল, শুভ-অশুভ সময় ও লক্ষণসমূহের বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে—যা মানবজীবনের নানা আচার-আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে পথনির্দেশ করে।