গরুড় মহাপুরাণের পূর্বখণ্ডের আচারকাণ্ডে বর্ণিত এই মহিমান্বিত অধ্যায়গুলিতে ভুবনকোষের ও বিভিন্ন দ্বীপ ও অঞ্চলের বর্ণনা অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। এখানে নানা জাতি ও জনপদের কথা বলা হয়েছে—মাণ্ডব্য, তুষার, মূলিক, অশ্বমুখ ও খাশ; তারপর লম্ব, স্তননাগ, মাদ্রক, গান্ধার ও বাহ্লিক; ত্রিগর্ত, নীল, কোল, ব্রহ্মপুত্র ও শতঙ্কন। এভাবে বিভিন্ন জনপদ ও জাতির নাম একে একে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর, প্লক্ষ দ্বীপের অধিপতি মেধাতিথির সাত পুত্রের কথা বলা হয়েছে—সুখোদয়, নন্দ, শিব, ক্ষেমক, গোমেদ, চন্দ্র, নারদ এবং দুন্দুভি। অনুতপ্ত, শিখি ও বিপাশা একে একে স্বর্গে গিয়েছেন। শালমল দ্বীপের অধিপতি বপুষ্মানের পুত্রদের নামও অঞ্চল অনুযায়ী রাখা হয়েছে—বৈদ্যুত, মানস, সপ্রভাসা ও সপ্তম। ক্রাঞ্চ ও ককুদ্মান—এরা পর্বত, এবং এরা নদীও। বিদৃতি সপ্তম হিসেবে স্মরণীয়, কারণ সে পাপের ক্ষয় ঘটায়। উদ্ভিদ, ভেণুমান, দ্বৈরথ, লম্বন ও ধৃতি; বিদ্রুম, হেমশৈল, দ্যুতিমত ও পুষ্পবান; ধূতপাপা, শিবা, পবিত্রা ও সন্মতি—এরা সবাই বিভিন্ন দ্বীপের পর্বত ও নদী। ক্রাঞ্চ দ্বীপে মহান আত্মা দ্যুতিমতের সাত পুত্রের কথা বলা হয়েছে—মুনি ও দুন্দুভি সহ সাতজন। পঞ্চম পুত্র হল দিবাবৃত, এবং দুন্দুভি হল পুণ্ডরীকবান। খ্যাতি ও পুণ্ডরীকা—এরা সেই ভূমির নদী। জলদ, কুমার, সুকুমার, ওরুণী ও বাক; সুকুমারী, কুমারী, নলিনী ও ধেনুকা—এরা নদী। শবলা ও পুষ্করেশ থেকে মহাবীর ও ধাতকির উৎপত্তি হয়েছে। এই অঞ্চল পঞ্চাশ হাজার যোজন উচ্চতায় উঠে গেছে। পুষ্কর দ্বীপকে মধুর জলে পরিপূর্ণ এক মহাসাগর ঘিরে রেখেছে। স্বর্ণভূমি দ্বিগুণ বিস্তৃত, যেখানে কোনো জীব নেই; পর্বতটি অন্ধকারে ঢাকা, এবং সেই অন্ধকার মহাবিশ্বের ডিম্বাকারে আবৃত। এইভাবেই গরুড় পুরাণের আচারকাণ্ডের ছাপ্পান্নতম অধ্যায়, ‘ভুবনকোষের বর্ণনা’ শেষ হয়েছে। পৃথিবীর উচ্চতা সত্তর হাজার যোজন বলে বলা হয়েছে। অতল, বিতল, নিতল ও গভস্তিমত—এদের উল্লেখ আছে। কালো, সাদা, লাল, হলুদ, কঙ্কর, পর্বত ও সোনা—এদেরও বর্ণনা করা হয়েছে। ভয়ংকর পুষ্কর দ্বীপে নরকের কথা বলা হয়েছে। সেখানে রয়েছে জ্বলন্ত, উত্তপ্ত পাত্র, যার মধ্যে লবণ ভর্তি, মনকে বিভ্রান্ত করে। আছে কালো বন, যেখানে তরবারি-পাতা বিশিষ্ট গাছ, এবং নানা ভয়ংকর খাদ্য। লোহা চিমটি, কালো সুতো, এবং অবিচি নরকের অন্ধকার। পাপীরা সেখানে সিদ্ধ হয়—যারা বিষ, অস্ত্র ও অগ্নি দেয়। চারপাশে জল, অগ্নি, বায়ু, আকাশ ও জীব রয়েছে। ডিম্বাকারে দশগুণ বিস্তৃত, এবং সেই ডিম্বের মধ্যে নারায়ণ অবস্থান করেন। এইভাবে গরুড় পুরাণের সপ্তান্নতম অধ্যায়, ‘ভুবনকোষ, পাতাল, নরক ও অন্যান্য বর্ণনা’ সম্পূর্ণ হয়েছে। এরপর সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের পরিমাপ ও অবস্থান ব্যাখ্যা করার কথা বলা হয়েছে। প্রভুর দণ্ডও দ্বিগুণ দৈর্ঘ্যের, ও বৃষধ্বজ (শিব) কে এই কথা বলা হয়েছে। তার অক্ষ যোজন দ্বারা পরিমাপ করা হয়, এবং চাকা সেখানে স্থাপিত। এইভাবে গরুড় মহাপুরাণের আচারকাণ্ডের এই অধ্যায়গুলিতে বিভিন্ন দ্বীপ, পর্বত, নদী, নরক ও মহাবিশ্বের গঠন ও পরিমাপের কথা শ্রদ্ধাভরে বর্ণনা করা হয়েছে।