বৃষধ্বজকে শঙ্কর বললেন, “প্রতি দ্বীপের পরবর্তী দ্বীপ পূর্বের দ্বীপের দ্বিগুণ বৃহৎ, আর সাগরও দ্বিগুণ বিস্তৃত। সেই দ্বীপের উচ্চতা চুরাশি হাজার যোজন, আর নিচে ষোল হাজার যোজন পর্যন্ত পদ্মের কোরের মতো বিন্যস্ত। নীল, শ্বেত ও শৃঙ্গী—এই তিনটি উত্তর দিকের পর্বতশ্রেণী অঞ্চলগুলির সীমা নির্ধারণ করে। শঙ্কর, এইসব অঞ্চলে যুগের কোনো বিভাজন নেই। নাভি, কিমপুরুষ ও হরিবর্ষ—এই তিন অঞ্চল ইলা দ্বারা পরিবেষ্টিত। রাজা কেতুমালা এই অঞ্চলগুলিকে এই নাম দিয়েছিলেন এবং অঞ্চলগুলিকে ভাগ করেছিলেন। তাঁর পুত্র ছিল ভারত, যিনি শালগ্রামে বাস করতেন এবং ব্রত-পরায়ণ ছিলেন। ভারত থেকে ইন্দ্রদ্যুম্ন জন্ম নেন, যিনি পরমেষ্ঠী নামে বিখ্যাত। ইন্দ্রদ্যুম্নের পুত্র প্রস্তর, আর প্রস্তরের পুত্র বিভু। গয়ার পুত্র নর, বিভুর পুত্র হন এবং তাঁর পুত্র বিরাদগতা। ত্বষ্টা ত্বষ্টুর পুত্র, এবং বিরজা রাজসের পুত্র। এইভাবে প্রিয়ব্রতের বংশের বর্ণনা শেষ হলো, যা বিশ্ববৃত্তের বিবরণে উপযোগী। এরপর শঙ্করকে বলা হলো, “মধ্যভাগে ইলাবৃতি ভূমি, পূর্বদিকে বিস্ময়কর ভদ্রাশ্ব। মেরুর দক্ষিণে কিমপুরুষ অঞ্চল, পশ্চিমে কেতুমালা এবং উত্তর-পশ্চিমে রাম্যক। রুদ্র, সকল অঞ্চলে স্বাভাবিকভাবে সফলতা আসে, শুধু ভারত অঞ্চলে নয়। সেখানে নাগদ্বীপ, কটাহ, সিংহল ও বরুণও আছে। পূর্বে কিরাতরা, পশ্চিমে যবনরা বসবাস করে। অভ্যন্তরে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্ররা বাস করে। সাতটি প্রধান পর্বত—বিন্দ্য, পরিয়াত্র এবং আরও কয়েকটি; নদীগুলির মধ্যে তাপ্তি, পয়োষ্ণী, সরযু, কাবেরী, গোমতী আছে। কেতুমালা, তাম্রপর্ণী, চন্দ্রভাগা ও সরস্বতীও নদী। বিদর্ভ, শতদ্রু ও অন্যান্য পুণ্য নদী পাপ নাশ করে। অঞ্চলগুলির মধ্যে পঞ্চাল, কুরু, মত্স্য, যৌধেয়, পাতচ্চার; পদ্ম, সুত, মগধ, চেদি; কলিঙ্গ, বঙ্গ, পুন্ড্র, অঙ্গ, বৈদর্ভ, মুলক; পুলিন্দ, অশ্মক, জীমূত, নয়া ও রাষ্ট্র অঞ্চলের অধিবাসী; আম্বষ্ঠ, দ্রাবিড়, লাট, কম্বোজ, স্ত্রিমুখ, শাক; স্ত্রিরাজ্য, সৈন্ধব, ম্লেচ্ছ, নাস্তিক, যবন; মান্ডব্য, তুষার, মুলিক, অশ্বমুখ, খাশ; লম্ব, স্তননাগ, মাদ্রক, গন্ধার, বাহ্লিক; ত্রিগর্ত, নীল, কোল, ব্রহ্মপুত্র ও শতঙ্কন—এইসব জাতি ও অঞ্চল এখানে বাস করে। এইভাবেই গরুড় মহাপুরাণের আচারকাণ্ডের পঞ্চান্নতম অধ্যায়ে ভূবনকোষের বর্ণনা শেষ হয়। প্লক্ষদ্বীপের অধিপতি মেধাতিথির সাত পুত্র ছিল: সুখোদয়, নন্দ, শিব, ক্ষেমক, গোমেদ, চন্দ্র, নারদ এবং দুণ্ডুভি। অনুতপ্ত, শিখি ও বিপাশা—এরা একে একে স্বর্গে গমন করেন। শালমলার অধিপতি বপুষ্মানের পুত্রদের নাম অঞ্চল অনুসারে রাখা হয়েছিল। বৈদ্যুত, মানস এবং সপ্তমটি ছিল সপ্রভাস। এইভাবে দ্বীপ, অঞ্চল, পর্বত, নদী, জাতি ও বংশের বিস্ময়কর বিবরণ গরুড় পুরাণে শ্রদ্ধার সঙ্গে উপস্থাপিত হয়েছে।