হরি-রূপের বর্ণনা দিয়ে শুরু হয় এই অধ্যায়। তাঁর রূপ শুভ চক্র, পদ্ম, গদা ও শঙ্খ দ্বারা অলঙ্কৃত। শালগ্রাম শিলার প্রবেশদ্বারে দুটি চক্রচিহ্ন দেখা যায়, এবং যখন এই দুটি চিহ্ন একত্রিত হয়, তখন তা লালচে আভা ধারণ করে, পূর্বদিকটি পূর্ণ হয়ে ওঠে। এই শিলাটি দীর্ঘ, মাথার মতো এক ফাঁকা অংশ রয়েছে; অনিরুদ্ধের রূপ গোলাকার। মাঝখানে একটি রেখা আছে, যেন খাদের মতো, আর সেখানে নাভির মতো চক্র, যা উঁচুতে অবস্থান করে। আবার কখনও পাঁচটি বিন্দুর চিহ্ন দেখা যায়, যা ব্রহ্মচারীদের পূজার জন্য উপযুক্ত। নীলবর্ণ, তিনটি রেখাযুক্ত, মোটা—এই চিহ্ন কূর্মের রূপ, যেখানে একটি বিন্দু রয়েছে। শ্রীধর পাঁচটি রেখায় চিহ্নিত, দ্বনামালীর চিহ্ন হল খাদের মতো। নানা রঙের, বহু রূপের, সর্প-সজ্জিত—এটাই অনন্তকের রূপ। প্রবেশদ্বার সরু হলে, অত্যন্ত লালবর্ণ ব্রহ্মা রক্ষা করুক। প্রশস্ত প্রবেশদ্বার, মোটা চক্র—কৃষ্ণ বা বিষ্ণু বিল্বফলের মতো। বৈকুণ্ঠ রত্নের মতো, এক চক্র ও পদ্মচিহ্নসহ, এবং গাঢ়বর্ণ। রামের চিহ্ন চক্র, ডানদিকে রেখা, গাঢ়বর্ণ—তিন পা বিশিষ্ট ত্রিবিক্রম। এক প্রবেশদ্বার, চারটি চক্র, বনফুলের মালায় অলঙ্কৃত। তাঁর রূপ কদম্বফুলের গুচ্ছের মতো; লক্ষ্মী-নারায়ণ রক্ষা করুন। লক্ষ্মী-নারায়ণের রূপ দুই বা তিনটি আকারে প্রকাশিত হয়; ত্রিবিক্রমও তাই। প্রদ্যুম্নের ছয়টি অঙ্গ, সংকर्षণও নানা ভাবে। দশাবতার দশটি অঙ্গ নিয়ে প্রকাশিত; অনিরুদ্ধ তখন রক্ষা করুন। যিনি বিষ্ণুর এই রূপের স্তোত্র পাঠ করেন, তিনি স্বর্গে গমন করেন। মহেশ্বর সামনের দিকে ঝুঁকে, দশটি বাহু নিয়ে, ষাঁড়ের পতাকা ধারণ করেন। মহালক্ষ্মী ও মাতৃগণ, হাতে পদ্ম নিয়ে, দিবাকরও আছেন। এই সকল দেব-দেবীকে যথাযথভাবে পূজা ও স্থাপনা করলে, মন্দির বা প্রতিষ্ঠিত ভবনে, কল্যাণ হয়। এভাবে শেষ হয় গরুড় মহাপুরাণের প্রথম ভাগের আচারা অংশের পঁয়তাল্লিশতম অধ্যায়—‘শালগ্রামের রূপের লক্ষণ’। এবার সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয় বাস্তু, যা গৃহের শুরুতে বাধা দূর করে। বাস্তুতে মাথা উত্তর-পূর্বে, পা দক্ষিণ-পশ্চিমে, হাত দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমে। মন্দির, উদ্যান, দুর্গ, উপাসনাগৃহ ও মঠে—ঈশ, পার্জন্য, জয়ন্ত, বজ্রধারী ইন্দ্র, পুষা, বিতথ, গ্রহ ও ক্ষেত্রপাল প্রতিষ্ঠিত হন। দ্বাররক্ষক, সুগ্রীব, পুষ্পদন্ত, গণপতি, অসুর, শেষ, পাপ, দৌর, রোগ, ঢহিমুখ, খ্য—এরা থাকেন। ভল্লাট, সোম, দুই সর্প, অদিতি ও দিতি—এদেরও চার কোণে ঈশান থেকে শুরু করে পূজা করা উচিত। মাঝখানে নবম স্থানে ব্রহ্মা, তাঁর পাশে আটজন। আর্যমান, সভিতৃ, বিবস্বত, জ্ঞানীদের অধিপতি। অষ্টম জন অপবৎসা; এরা ব্রহ্মাকে ঘিরে থাকেন। দক্ষিণ-পূর্ব কোণ থেকে শুরু হয় এক কঠিন বংশ। অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন কালিকা; এরপর ইন্দ্রের গন্ধর্বগণ। দেব-উপাসনার স্থান সামনে রাখা উচিত, দক্ষিণ-পূর্বে বৃহৎ রান্নাঘর। উত্তর-পূর্বে সুগন্ধি ফুলের ঘর, কাপড় দিয়ে সাজানো। উত্তর-পশ্চিমে জলঘর, জানালা দিয়ে সজ্জিত। অতিথি-গৃহ আনন্দদায়ক, বিছানা, আসন ও পাদুকা দিয়ে সাজানো। এইভাবে শালগ্রামের রূপ, দেব-দেবীর স্থাপন ও বাস্তু-সংক্রান্ত নির্দেশাবলী একত্রে বর্ণিত হয়েছে, যা গৃহ, মন্দির ও পূজার জন্য কল্যাণকর।