হে কৌতূহলী পাঠক, এই মহৎ কাহিনিতে দেবাদিদেব স্বয়ং এক শিশুর প্রতি স্নেহভরে বলেন, “তোমার লীলায়, হে বৎস, অগণিত ব্রহ্মার পতন তুমি প্রত্যক্ষ করেছো। ধীরে ধীরে তুমি মহিমা ও ঐশ্বর্যে আমার সমকক্ষ হয়ে উঠবে। আমার কাছে তোমার চেয়ে প্রিয় আর কেউ নেই; এমনকি তুমি আমার নিজের থেকেও অধিকতর। যতদিন চন্দ্র ও সূর্য বিরাজমান, ততদিন সকলেই কালের সুতোয় গাঁথা থাকে।” তিনি আরও বলেন, “আমার বাক্য কখনও বৃথা যায় না, তাই তুমি অবশ্যই আমার কথা পালন করবে। তুমি আমার আদেশ এবং নিজের প্রতিশ্রুতি—উভয়ই রক্ষা করবে। এতে তোমার সন্দেহ নেই, তুমি অপার সুখ ও আনন্দ ভোগ করবে। সময়ের সাথে তুমি গার্হস্থ্য, বৈরাগ্য ও যোগ—এই তিন অবস্থার মধ্য দিয়ে তোমার ইচ্ছানুযায়ী জীবন যাপন করবে।” এরপর তিনি ধর্মের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, “এক দুরাচারিণী স্ত্রী স্বামীর দুঃখের কারণ হয়, কিন্তু একনিষ্ঠা পত্নী কখনও নয়। স্নেহবশত সে তার স্বামীর যত্ন নেয়, যেন সে তার যোগ্য পুত্র। স্বামী পতিত হোক বা না হোক, দীন হোক বা প্রভু—তাতে কিছু আসে যায় না। বরং, যারা সর্বদা স্বামীকে নিন্দা করে, তারা অবশ্যই অন্যের ভোগ্য হয়। কিন্তু সৎ পত্নী স্বামীর সঙ্গে গোকুলে এক কোটি যুগ ধরে আনন্দ ভোগ করে।” তিনি বলেন, “আমার আদেশে, তুমি সেই সৎ নারীকেই পত্নী রূপে গ্রহণ করবে, যা তোমার কল্যাণ ও সমৃদ্ধির জন্য। যে ব্যক্তি ভক্তিসহকারে পাঁচ প্রকার দ্রব্যে সহস্র তীর্থে পূজা করে, সে গোকুলে আমার সঙ্গে এক কোটি যুগ ধরে সুখভোগ করে। গোকুল থেকে তার আর প্রস্থান নেই; সে আমাদের সমতুল্য হয়।” তিনি আরও বলেন, “যদি কেউ একবার শিবলিঙ্গ নির্মাণ করে পূজা করে, সে স্বর্গে দশ হাজার যুগ পর্যন্ত বাস করে। জ্ঞানী, মুক্ত, ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি শিবলিঙ্গের পূজার দ্বারা এ ফল লাভ করে; এমনকি পাপীও সেখানে মৃত্যুবরণ করলে শিবলোকে গমন করে। যারা বারবার ‘মহাদেব, মহাদেব, মহাদেব’ উচ্চারণ করে, কিংবা মৃত্যুর সময় ‘শিব’ নাম উচ্চারণ করে, তাদের জন্য শিবের মঙ্গলময় বাক্যই মুক্তিদানকারী।” তিনি বলেন, “ধন ও আত্মীয় বিচ্ছেদে দুঃখের সাগরে নিমজ্জিত হলেও, এই নাম পাপ নাশ করে এবং সন্তান ও দাস-দাসীদেরও মুক্তি দেয়। যার বাক্যে সর্বদা ‘শিব’ নাম উচ্চারিত হয়, তারও এই ফল হয়।” এইভাবে ত্রিশূলধারীর প্রতি কথা বলে, কৃষ্ণ তাঁকে ইচ্ছাপূরণকারী মন্ত্র দেন। ভগবান বলেন, “এক সময় তুমি শিবের পূজা করবে, যিনি মঙ্গলদানকারী ও মঙ্গলের আশ্রয়। দেবগণের সকল জ্যোতির মাঝে তুমি প্রকাশ পাবে, হে সুন্দরবদনে। বিশেষ এক যুগে, সত্যযুগে, যখন সত্যেরই বিজয়, তখন যজ্ঞপতির নিন্দায় দেহত্যাগ করবে। তারপর শম্ভুর সঙ্গে সহস্র দেববর্ষ ধরে সুখভোগ করবে।” তিনি আরও বলেন, “যখন সমস্ত জগতে মহোৎসবের মাধ্যমে পূজা হবে, গ্রাম ও নগরে গ্রামদেবীর পূজা চলবে, তখন আমার আদেশে শিব রচিত নানা তন্ত্রের দ্বারা পূজা হবে। তখন মহাপুরুষগণ কেবল তোমার সেবক হবেন। আর, ভারতভূমিতে যারা তোমার পূজা করবে, হে জননী, তাদের জন্যও মহাফল নির্দিষ্ট।” এরপর ভগবান তাঁকে একাদশাক্ষরী মন্ত্র প্রদান করেন এবং যথাবিধি ধ্যান করান, ভক্তদের প্রতি দয়া করে। তিনি সৃষ্টির জন্য উপযুক্ত শক্তি, সমস্ত সিদ্ধি ও মনোবাসনা পূরণের ক্ষমতা প্রদান করেন। সর্বশেষে, জগৎপতি ত্রয়োদশাক্ষরী মন্ত্রও তাঁকে দান করেন। এভাবেই দেব-দেবীর মহিমা, অনুগ্রহ ও ধর্মের পথ এই কাহিনিতে সুন্দরভাবে প্রকাশিত হয়েছে।