ভগবান তাঁর করুণাময় কণ্ঠে বললেন, ‘‘পৃথিবীতে তুমি গর্ভ থেকে নয়, কন্যা হিসেবে জন্ম নেবে।’’ তিনি আরও জানালেন, ‘‘সেখানে, ভাগ্যের দোষে, তুমি বৃক্ষরূপও লাভ করবে।’’ এরপর ভগবান আশ্বাস দিলেন, ‘‘পরবর্তীতে তুমি আমার পত্নী হবে—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’’ তিনি আদেশ দিলেন, ‘‘তোমার এক অংশ দ্বারা নদী হয়ে দ্রুত প্রবাহিত হও, হে সুন্দর মুখী।’’ ‘‘এক অংশে তুমি গঙ্গা হয়ে যাবে এবং পরে পৃথিবীকে শুদ্ধ করবে,’’ বললেন তিনি। ‘‘ভগীরথের কঠিন তপস্যায় তুমি পৃথিবীতে আসবে।’’ ‘‘আমার আদেশে, তুমি সমুদ্রের পত্নী হও, যে আমার মত্ততার অংশ।’’ ‘‘গঙ্গার অভিশাপে, তুমি ভারতবর্ষে এক অংশে যাবে, হে ভারতী।’’ ‘‘আর তুমি নিজে ব্রহ্মার লোকেতে গিয়ে ব্রহ্মার প্রিয়তমা হও।’’ ভগবান বললেন, ‘‘শান্ত, ক্রোধহীন, আমার প্রতি নিবেদিত ও আমারই রূপে তুমি থাকবে।’’ ‘‘তোমার অংশ ও অংশাংশ দ্বারা, সকলেই ধর্মপরায়ণ ও স্বামীর প্রতি নিবেদিত হবে।’’ ‘‘তিনজন স্ত্রী, তিনজন ভগ্নিপতি, তিনজন দাস ও আত্মীয় থাকবে।’’ ‘‘সে গৃহে, যেখানে নারীরা পুরুষদের উপর কর্তৃত্ব করেন, এবং স্বামী স্ত্রীর অধীনে থাকেন—’’ ‘‘যেখানে স্ত্রীর মুখ অশুদ্ধ, আচরণ অপবিত্র, ও ঝগড়া করতে ভালোবাসেন—’’ ‘‘সেখানে, মানুষ ও স্থান যেন প্রাচীন, আর শুধু দুর্ভাগ্যই পাওয়া যায়।’’ ভগবান বলেন, ‘‘আগুনে বা হিংস্র প্রাণীর মাঝে থাকাই শ্রেয়, কারণ সেখানে সুখ পাওয়া যায়।’’ ‘‘হে সুন্দর মুখী, পুরুষদের জন্য রোগ বা বিষের আগুনই শ্রেয়।’’ ‘‘নারী দ্বারা জয়ী পুরুষের জীবন ফলহীন।’’ ‘‘সে সর্বত্র নিন্দিত হয়, আর পরজগতে সে নরকে যায়।’’ ‘‘অনেক স্ত্রীদের এক স্থানে বাস করা ভালো নয়।’’ ভগবান বলেন, ‘‘হে সরস্বতী, শিবের স্থানে যাও, ব্রহ্মার স্থানে যাও, গঙ্গার স্থানে যাও।’’ ‘‘যার স্ত্রী সহজে নিয়ন্ত্রিত, ধর্মপরায়ণ ও স্বামীর প্রতি নিবেদিত—’’ ‘‘যার স্ত্রী স্বামীর প্রতি নিবেদিত, সে মুক্ত, শুদ্ধ ও সুখী।’’ এভাবে বলার পর, জগতের অধীশ্বর নারদ মুনি নীরব হলেন। তারপর, সবাই চিন্তা করে পালাক্রমে ভগবানকে প্রশ্ন করলেন। সরস্বতী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘ধর্মপরায়ণ স্বামী যদি পরিত্যাগ করেন, এমন নারীরা কোথায় বাস করেন?’’ ‘‘আমি নিশ্চিতভাবে যোগ দ্বারা ভারতবর্ষে আমার দেহ ত্যাগ করব।’’ গঙ্গা বললেন, ‘‘আমি আমার দেহ ত্যাগ করব; দোষহীনকে মৃত্যু দাও।’’ ‘‘যে এই পৃথিবীতে দোষহীন, প্রেমময় নারীকে পরিত্যাগ করে—’’ লক্ষ্মী বললেন, ‘‘আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করো, প্রভুর কাছে ক্ষমা চাও।’’ ‘‘যদি ভারতীর অভিশাপে, আমি নিজের অংশে ভারতবর্ষে যাই—’’ ‘‘তবে পাপীরা স্নান ও নিমজ্জনের মাধ্যমে তাদের পাপ আমায় দেবে।’’ ‘‘আমার অংশে আমি তুলসী হয়ে ধর্মধ্বজের ধর্মপরায়ণ কন্যা হব।’’ ‘‘আমি বৃক্ষরূপে, তার অধিষ্ঠাত্রী দেবী হব।’’ ‘‘যদি সরস্বতীর অভিশাপে গঙ্গা ভারতবর্ষে যায়, অথবা গঙ্গার অভিশাপে সরস্বতী ভারতবর্ষে যায়—’’ ‘‘তবে সরস্বতী ব্রহ্মার লোকেতে যাক, কিংবা গঙ্গা শিবের মন্দিরে যাক।’’ এভাবে বলার পর, লক্ষ্মী তাঁর প্রিয়তমের পদস্পর্শ ধরে প্রণাম করলেন। পদ্মনাভ তাঁর উজ্জ্বলতা নিজের বুকে টেনে নিয়ে লক্ষ্মীকে বললেন। নারায়ণ বললেন, ‘‘আমি সমতা প্রতিষ্ঠা করব; এখন ঘটনাগুলির ক্রম শুনো।