অধর্মের পত্নী মিথ্যা—তাঁকে সকল দুষ্ট ব্যক্তিই সম্মান করে। সত্যযুগে তিনি অদৃশ্য এবং ত্রেতাযুগে তিনি সূক্ষ্মরূপে বিরাজমান, তখন তাঁকে আদর্শনা নামে ডাকা হয়। কিন্তু কলিযুগে মিথ্যা সর্বত্র প্রবলভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং নির্লজ্জভাবে প্রকাশিত হয়। শান্তি ও লজ্জা—এই দুইজন সদাচারী ব্যক্তিদের পত্নী এবং তাঁরা সর্বত্র সম্মানিত। জ্ঞানের তিনজন পত্নী—বিবেক, বুদ্ধি ও স্মৃতি। মূর্তি নাম্নী ধর্মময় পত্নী উজ্জ্বল রূপ ও অপূর্ব সৌন্দর্যে সকলকে মুগ্ধ করেন। সর্বত্র লক্ষ্মী দেবী সৌন্দর্য ও মঙ্গলরূপে প্রকাশমান। নিদ্রা হলেন কালাগ্নি-রুদ্রের পত্নী, যিনি সিদ্ধ যোগীদের গভীর নিদ্রা দান করেন। সময়েরও তিনজন পত্নী—সন্ধ্যা, রাত্রি ও দিবস। লোভের পত্নী হলেন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা, আবার ধন, মান ও সম্মানও তাঁর পত্নী। তেজের দুই পত্নী—প্রভা ও দাহ। সময়ের কন্যা মৃত্যু ও বার্ধক্য, যাঁরা জ্বরের প্রিয়। নিদ্রার কন্যা হলেন তন্দ্রা, আর অন্য কন্যা আনন্দ, যিনি সুখের প্রিয়। বৈরাগ্যের দুই পত্নী—বিশ্বাস ও ভক্তি, এবং তাঁরা সম্মানিত। অদিতি দেবতাদের জননী এবং সুরভি গো-মাতার উৎস। এই সকল শক্তি প্রকৃতির অংশ হিসেবে সৃষ্টিকর্মে নিয়োজিত। রোহিণী চন্দ্রের পত্নী, সংজ্ঞা সূর্যের প্রিয়। তারা বৃহস্পতির পত্নী, অরুন্ধতী বসিষ্ঠের পত্নী। দেবহূতি হলেন কর্দমের পত্নী, প্রসূতি দক্ষের প্রিয়। লোপামুদ্রা, হূতি এবং কুবেরের প্রিয়ার কথাও উল্লেখ আছে। কুন্তী, দাময়ন্তী, যশোদা এবং ধর্মপরায়ণা দেবকীর কথাও স্মরণীয়। কলাবতী, যিনি রাধার জননী ও বৃশভানুর প্রিয়া। রেবতী, সত্যভামা, কালিন্দী ও লক্ষ্মণা—তাঁরা সকলেই স্মরণীয়। লক্ষ্মণা, রুক্মিণী ও সীতা—তিনি স্বয়ং লক্ষ্মীরূপে প্রসিদ্ধ। বাণের কন্যা, ঊষা এবং তাঁর সখী চিত্রলেখার কথাও আছে। রেণুকা, ভৃগুর জননী, হলিমাতা ও রোহিণীর কথাও স্মরণীয়। ভারতে প্রকৃতির অগণিত শক্তি ও রূপ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকৃতির অংশ ও খণ্ড থেকে জন্মগ্রহণকারী নারীরা সর্বত্র ছড়িয়ে আছেন। ব্রাহ্মণী, যিনি পূজিতা, পতিপরায়ণা এবং পুত্রবতী, এবং আট বছরের কুমারী, যিনি অলংকার, বস্ত্র ও চন্দন দ্বারা শোভিত—তাঁরাও প্রকৃতিরই অংশ। উচ্চ, মধ্যম ও অধম—সব রকম নারী প্রকৃতি থেকেই জন্ম নেন। মধ্যম নারী রাজোগুণের অংশ, ভোগের যোগ্য; অধম নারী তমোগুণের অংশ, অজ্ঞাত বংশে জন্মগ্রহণ করেন। যারা স্বেচ্ছাচারী, তাঁরা পৃথিবীতে এবং অপ্সরাগণ স্বর্গে অবস্থান করেন। এইভাবে প্রকৃতির পঞ্চভেদ সম্পূর্ণরূপে বর্ণিত হয়েছে। দুর্গা, যিনি দুঃখনাশিনী, প্রথমে সুরথ দ্বারা পূজিত হয়েছিলেন। পরে তিনি তিনলোকে জগতের জননী রূপে পূজিতা হন। যজ্ঞে স্বামীর তিরস্কারে তিনি দেহ ত্যাগ করেন। গণেশ, স্বয়ং কৃষ্ণ, স্কন্দ ও বিষ্ণুর অংশ থেকে জন্ম নেওয়া দেবতাদের কথাও স্মরণীয়। লক্ষ্মী প্রথমে মঙ্গলভূপ দ্বারা পূজিতা হয়েছিলেন।