এই শাস্ত্রের ধারাবাহিক বর্ণনায় বলা হয়েছে, এক ভয়ঙ্কর, তিন পা বিশিষ্ট, তিন মাথা ও ছয় বাহু বিশিষ্ট, নয় চোখওয়ালা এক সত্তার কথা। তার উৎপত্তি দুর্বল অগ্নি থেকে—এই দুর্বল অগ্নি তিনটি কারণে সৃষ্টি হয়: বাত, পিত্ত এবং কফ। এই তিন দোষ থেকেই নানা রোগের জন্ম হয়—যেমন পাণ্ডু, কামলা, কুষ্ঠ, শোথ, প্লীহা ও শূল। এছাড়া, মূত্রের অসুখ, পেটে গাঁঠ, এবং রক্তের অশুদ্ধি থেকে উদ্ভূত নানা রোগও রয়েছে। আরও আছে ভ্রমরী, ত্রিদোষজনিত অসুখ, এবং ভয়ঙ্কর বিষূচি রোগ। এরা সকলেই মৃত্যুর কন্যা, আর বার্ধক্য তার কুমারী। তবে, যিনি যথাযথ পন্থা জানেন এবং আত্মসংযমী, তাঁদের কাছে এই রোগগুলি আসে না। চোখ ধোয়া, শরীরচর্চা, এবং পায়ের নিচে তেল মালিশ—এগুলো নিয়মিত পালন করলে, এবং বসন্তকালে অল্প আগুনের সংস্পর্শে থাকলে, শরীর সুস্থ থাকে। গ্রীষ্মকালে ঠান্ডা জল দিয়ে স্নান, চন্দনের প্রলেপ, এবং বাতাস এড়িয়ে চললে বার্ধক্য আসে না। বর্ষায় গরম জল দিয়ে স্নান করা, ঘন জল ব্যবহার না করা; শরৎকালে কঠোরতা এড়িয়ে চলা এবং বাইরে ঘুরে বেড়ানো থেকে বিরত থাকা; শীতকালে গর্তে স্নান করা ও আগুনের ব্যবহার; ঠান্ডার সময় সূর্য ও আগুনের সংস্পর্শে থাকা, এবং সদ্য গরম খাবার খাওয়া—এগুলো বার্ধক্য ও রোগকে দূরে রাখে। নতুন মাংস, নতুন চাল, এবং যুবতীর দুধ—এগুলো খাওয়া উচিত। ক্ষুধার সময় ভালো খাবার খেতে হবে, তৃষ্ণার সময় জল পান করতে হবে। দই, ঘি, তাজা মাখন, গুড়—এগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে শুকনো মাংস, বৃদ্ধা, কিশোর সূর্য, এবং পুরনো দই; রাতের বেলায় দই খাওয়া; পতিতা ও ঋতুমতী নারী; ঋতুমতী, পতিতা, বন্ধ্যা নারী ও বৃদ্ধা দালাল—এদের সংস্পর্শে খাওয়া ব্রাহ্মণ হত্যার পাপের সমান। পাপের সঙ্গে রোগ সর্বদা যুক্ত, তাদের সম্পর্ক অব্যাহত ও নিশ্চিত। পাপ থেকেই রোগ জন্ম নেয়, পাপ থেকেই বার্ধক্য আসে। তাই পাপই বড় শত্রু, দোষের বীজ ও অশুভতার উৎস। যিনি নিজের কর্তব্য ও আচরণে নিবেদিত, যিনি দীক্ষিত ও হরির সেবায় নিয়োজিত, যিনি নিয়ম পালন ও উপবাসে ব্যস্ত, এবং সর্বদা তীর্থ দর্শন করেন—তাঁকে বার্ধক্য ও দুর্জয় রোগ স্পর্শ করে না। জ্বরকে সব রোগের উৎপত্তি বলা হয়েছে। যেমন এই রোগগুলি ঘুরে বেড়ায়, তেমনি তারা দেহধারীদের মধ্যে প্রবেশ করে। যখন তীব্র ক্ষুধা থাকে, কিন্তু খাবার নেই; তাল বা বেল ফল খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে জল পান করলে, কিংবা মাথায় গরম জল ঢালা (বিশেষত ভাদ্র মাসে), বা তিতকুটে কিছু খেলে; ধনে গুঁড়ো, চিনি ও ঠান্ডা জল একসঙ্গে খেলে; পাকা বেল বা তাল ফল, এবং আখজাত দ্রব্য খেলে—এগুলো পিত্ত দ্রুত কমায় ও দেহে শক্তি ও পুষ্টি দেয়। খাওয়ার পরপরই স্নান, তৃষ্ণা না থাকলেও জল পান; বাসি খাবার, ছাঁচ, পাকা কলা, দই; নারকেলের জল, ঠান্ডা জল দিয়ে স্নান, এবং বাসি জল; বর্ষাকালে খাওয়ার পর স্নান, এবং মূলা খাওয়া—এগুলো কফ বাড়ায়। এইভাবে, শাস্ত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, রোগ ও বার্ধক্য থেকে মুক্ত থাকতে হলে, জীবনযাপনের শুদ্ধতা ও শাস্ত্রের বিধান মেনে চলা জরুরি।