সহদেব রচনা করেছিলেন ‘রোগের মহাসাগরকে চূর্ণকারী’ গ্রন্থটি। মহামুনি চ্যবন রচনা করেন ‘জীবন দাতা’ নামক গ্রন্থ। চন্দ্রের পুত্র রচনা করেন ‘সর্বসার’, আর জাবালা রচনা করেন ‘শাস্ত্রসার’। পৈলা রচনা করেন ‘রোগ নির্ণয়’, এবং করথা রচনা করেন ‘সর্বাধার’ নামক শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। এই ষোড়শ গ্রন্থই চিকিৎসা বিজ্ঞানের বীজরূপ। জ্ঞানমন্ত্র দ্বারা আয়ুর্বেদের মহাসাগরকে মন্থন করে, এই সব গ্রন্থসমূহ পর্যায়ক্রমে দেখে, দেবতা ভাস্কর সংহিতা রচনা করেন। রোগের প্রকৃত উপলব্ধি এবং যন্ত্রণা নিয়ন্ত্রণ—যে ব্যক্তি আয়ুর্বেদ জানেন ও চিকিৎসায় নিখুঁত, তিনিই প্রকৃত জ্ঞানী। সব রোগের উৎপত্তি সেই জ্বর থেকে, যা দমন করা কঠিন ও ভয়ানক। এই জ্বরের তিনটি পা, তিনটি মাথা, ছয়টি হাত এবং নয়টি চোখ। দুর্বল অগ্নি (হজম শক্তি) থেকেই এর উৎপত্তি, আর দুর্বল অগ্নির তিনটি কারণ—বায়ু, পিত্ত ও কফ। পাণ্ডু, কামলা, কুষ্ঠ, শোথ, প্লীহা, শূলক; মূত্রবিকার, উদরনাল, ও রক্তদোষজনিত রোগ; ভ্রমরী, ত্রিদোষজনিত বিকার, এবং কঠিন ‘বিশূচি’ রোগ—এরা মৃত্যুর কন্যা, আর বার্ধক্য তাদের কুমারী। কিন্তু যিনি সঠিক উপায় জানেন ও আত্মসংযমী, তাদের কাছে এরা আসে না। চোখ ধোয়া, শরীরচর্চা, এবং পায়ের নিচে তেল মালিশ; বসন্তকালে হাঁটা ও সামান্য আগুনের সংস্পর্শ; গর্তের ঠান্ডা জল দিয়ে স্নান, চন্দনের প্রলেপ—গ্রীষ্মে বাতাস এড়িয়ে চললে বার্ধক্য আসে না। বর্ষাকালে গরম জল দিয়ে স্নান, ঘন জল ব্যবহার না করা; শরৎকালে কঠোরতা গ্রহণ না করা ও ঘোরাফেরা এড়ানো; শীতকালে গর্তে স্নান ও আগুনের ব্যবহার; শীতল ঋতুতে সূর্য ও আগুনের সংস্পর্শ, এবং সদ্য গরম খাবার গ্রহণ—এই নিয়মে জীবন সুস্থ থাকে। তাজা মাংস, নতুন ধান, এবং নবযুবতীর দুধ খাওয়া উচিত। ক্ষুধার সময় ভালো খাবার ও তৃষ্ণার সময় জল পান করা উচিত। দই, ঘি, তাজা মাখন, এবং গুড়; শুকনো মাংস, বৃদ্ধা নারী, নবসূর্য, ও বাসি দই; যারা রাতে দই খান, পতিতা ও ঋতুমতী নারী; ঋতুমতী, পতিতা, বন্ধ্যা নারী ও বৃদ্ধা দালাল—তাদের মধ্যে খাবার খেলে ব্রাহ্মণহত্যার পাপ হয়। পাপ সর্বদা রোগের সঙ্গে থাকে; তাদের সম্পর্ক চিরন্তন ও নিশ্চিত। পাপ থেকেই রোগ জন্মায়; পাপ থেকেই বার্ধক্য আসে। তাই পাপই মহাশত্রু, দোষের বীজ ও অশুভতার উৎস। যিনি নিজের কর্তব্য ও আচরণে নিবেদিত, যিনি দীক্ষিত ও হরির সেবা করেন, যিনি ব্রত ও উপবাসে রত, এবং সর্বদা তীর্থ দর্শন করেন—তাদের কাছে বার্ধক্য বা কঠিন রোগের দল আসে না। জ্বরই সব রোগের মূল। যেমন রোগেরা ঘুরে বেড়ায়, তেমনি তারা দেহধারী জীবের মধ্যে প্রবেশ করে।