সূর্যের আলোয় সমস্ত প্রাণী তাদের চোখ দিয়ে দেখতে পায়। তাঁর ইচ্ছাতেই খাদ্য ও পানীয় আহার ও পান করা হয়। সেই অপরাজেয় শক্তির মাধ্যমে তিনি সকল জীবকে ধারণ করেন। জীবদের দেহে যে প্রাণশক্তি বিরাজমান, তারই দ্বারা দেহের অভ্যন্তরে আহার ও পানীয় হজম হয়। দেহের ভিতরে যত গহ্বর বা শূন্যস্থান রয়েছে, সেগুলোও তাঁরই দ্বারা ধারণ করা। বৈতান্য থেকে দীক্ষিত যাঁরা, যাঁরা ব্রহ্মজ্ঞ, তাঁদের অবস্থাও তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন। সমস্ত জীবের মধ্যে যে সংকল্পের উৎস, তা তিনিই প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই মহাশক্তি সদা নূতন, বারবার উদিত হয়। সেই অমর স্বরূপ মহাদেবকে চন্দ্ররূপে স্মরণ করা হয়, যিনি কলুষমুক্ত। তাঁর পত্নী সুবর্তলা, এবং তাঁর পুত্র শনৈশ্চর। অপরদিকে, ধাত্রী তাঁর পত্নী, এবং উশন তাঁর পুত্ররূপে পরিচিত। বিকেশী তাঁর আরেক পত্নী, এবং অঙ্গারক তাঁর পুত্র। শিবা নাম্নী তাঁর পত্নী, এবং মনোজব তাঁর পুত্র। পশুপতির যে রূপ, দ্বিজেরা তাকে অগ্নি বলে স্মরণ করেন। ষষ্ঠ যে ভয়ঙ্কর রূপ, তাকে আকাশ নামে ডাকা হয়। সপ্তম, শ্রেষ্ঠ রূপটি দীক্ষিত ব্রাহ্মণরূপে স্মরণীয়। অষ্টম, মহৎ রূপটি চন্দ্র নামে পরিচিত। এভাবেই তাঁর এই সমস্ত রূপ ও নাম একত্রে বর্ণিত হয়েছে। সূর্য, পৃথিবী, বায়ু, অগ্নি, আকাশ এবং দীক্ষিতদের মধ্যে এই রূপ ও নাম বিদ্যমান। যে ব্যক্তি এই দেবতার রূপ ও নাম জানে, সেই প্রকৃত জ্ঞানী। এইভাবে ভীমাস্যের গৌরবময় গোপন কথা তোমাদের জানানো হলো। হে ভৃগুবংশীয়গণ, এবার শুনো মহাদেবের কাহিনি। এই পৃথিবীতে সকল জীবের শুভ ও অশুভ ফলদাতা দুই শক্তি আছেন। তাঁদের দ্বারা জন্ম নিয়েছিলেন জ্যেষ্ঠা দেবী শ্রী, যিনি জগতের সৃষ্টি করেন। তাঁর থেকেই নারায়ণের দুই পুত্র, বাল ও উন্মাদ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মানসপুত্ররা আকাশে বিচরণ করতেন। মেরু যুগে বিধাতা ও ধাতার পত্নীরা স্মরণীয়। প্রাণ ও মৃকণ্ড এই দুই চিরন্তন ব্রহ্মভাণ্ডার। তাঁর পত্নী ধূম্রা থেকে জন্ম নিয়েছিলেন তাঁর পুত্র বেদশিরা। মর্কণ্ডেয়রা বিখ্যাত ঋষি, যারা বেদজ্ঞানে পারদর্শী। উনতা ও দ্যুতিমত, স্বনবাতা—এঁরাও উল্লেখযোগ্য। এবার শুনো, অতীত স্বায়ম্ভুব মন্বন্তরে মারীচির বংশধরদের কথা। প্রজাপতি পূর্ণমাসার কন্যাদের কথাও জানো। পূর্ণমাসা সরস্বতীর গর্ভে দুই পুত্রের জন্ম দেন। জ্ঞানী ও প্রসিদ্ধ সুধামা ছিলেন বিরজার পুত্র। তিনি জগতের রক্ষক, ধর্মপরায়ণ এবং গৌরীর মহাপুত্র। পার্বশা ও পার্বশা—এই দম্পতি দুই পুত্র মাসার জন্ম দেন। তাঁদের দুই পুত্র, যারা বংশপ্রবর্তক, বৈরাগ্যের জন্য নির্ধারিত হন। এক পুত্র ও চার কন্যা, যাঁরা গুণবতী ও জগতে প্রসিদ্ধ, তাঁদেরও জন্ম হয়।