ভারতভূমি এবং তার নদী ও পর্বতসমূহের বর্ণনা দিয়ে এই মহাকাব্যিক কাহিনির সূচনা হয়। এরপর জম্বুদ্বীপসহ সাতটি সমুদ্র দ্বারা পরিবেষ্টিত অন্যান্য দ্বীপের কথা বলা হয়। এই সব বিশ্ব, তাদের পরিমাপসহ, এবং সাতটি মহাদেশসহ পৃথিবীর বিবরণ দেওয়া হয়। এই সমস্তই আদিম প্রকৃতির আংশিক রূপান্তর মাত্র। সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবীর পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা এখানে পাওয়া যায়। শুভ ও পবিত্র পর্বতসমূহ, যেমন মহেন্দ্র পর্বত, এবং মেরু পর্বতের শিখরে অবস্থিত পর্বতগুলির কথা বলা হয়। নাগদের পথ ও তারাগুলির বৈশিষ্ট্যও বর্ণিত হয়েছে। লোকালোকের সীমা, গোধূলি ও দিনের বিষুবের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। পিতৃপুরুষদের দক্ষিণ পথ এবং দেবতাদের উত্তর পথের কথাও এখানে আছে। বিষ্ণুর অধিবাসের বর্ণনা পাওয়া যায়, যেখানে ধর্ম ও অন্যান্য দেবতা অবস্থান করেন। জীবদের সৌভাগ্য ও অশৌভাগ্যের ফল, তাদের শক্তি অনুযায়ী, এখানে বর্ণিত হয়েছে। সেই ভাগ্যবান ঈশ্বরের কথা বলা হয়, যিনি স্বর্গে বিচরণ করেন এবং স্বর্গকে ক্ষয় করেন। গান্ধর্ব, অপ্সরা, প্রধান, সাপ এবং রাক্ষসদের সঙ্গেও এই কাহিনি সাজানো হয়েছে। চন্দ্রের দ্বারা চন্দ্রের ক্ষয় ও বৃদ্ধি কেমন হয়, তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। শিশুমারার রূপের কথা বলা হয়, যার লেজে ধ্রুব স্থিত। দেবতারা যেসব স্থানে শুভ কর্মের ফলে অবস্থান করেন, সেই আবাসগুলির বর্ণনা আছে। রশ্মির বিভাজন, নাম ও পবিত্র কর্ম অনুযায়ী, এখানে বর্ণিত হয়েছে। আদিম প্রকৃতির বিশাল পরিমাপ এবং তার রূপ, যেমন এক পতিতা, বর্ণনা করা হয়। পিতৃপুরুষদের দুই ধরনের মহিমা এবং মৃতদেরও মহিমা এখানে বলা হয়েছে। যারা স্বর্গলোকে গেছেন এবং যারা অধঃপতিত হয়েছেন, তাদের কাহিনি আছে। যুগগুলির সংখ্যা ও পরিমাপ ঘোষণা করা হয়, এবং কৃতযুগের বর্ণনা দেওয়া হয়। ধর্ম অনুযায়ী বর্ণ ও আশ্রমের প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা এখানে বর্ণিত হয়েছে। শব্দের প্রকৃতি, যা প্রধান থেকে উৎপন্ন, এবং স্বয়ম্ভূব মনুর ব্যতিক্রমের কথা বলা হয়। সংক্ষেপে দ্বাপর ও কলি যুগের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। সব মন্বন্তরের বৈশিষ্ট্য এখানে বলা হয়েছে, এবং মন্বন্তরের পরিবর্তনের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যও বর্ণিত হয়েছে। ঋষিদের পথ এবং সময়-জ্ঞান সম্পর্কে কাহিনি আছে। ত্রেতা যুগে বিশ্বচক্রবর্তী রাজাদের চিহ্ন ও জন্মের কথা বলা হয়। আঙুলের দ্বারা পরিমাপ এবং জীবদের হাসির কথাও এখানে আছে। বাক্যের সাতটি রূপ এবং ঋষিদের বংশের পাঠ এখানে বর্ণিত হয়। বেদসমূহের বিপদের কথা মহাত্মা ব্যাস ঋষিরা বলেছেন। মন্বন্তরের ক্রম এবং সময়-জ্ঞান এখানে ঘোষণা করা হয়। ব্রহ্মা ও অন্যান্যদের দ্বারা সৃষ্টির উৎপত্তি এবং জ্ঞানী দক্ষের দ্বারা সৃষ্টির কথা বলা হয়। ধ্রুব ও উত্তানপাদের দ্বারা সন্তানের উৎপত্তির কাহিনি এখানে আছে। ভেন রাজা কর্তৃক পৃথিবীকে দুধ দেওয়া শুরু হয়েছিল, তার বিবরণ পাওয়া যায়। পূর্বে ব্রহ্মা ও অন্যান্যরাও এই পৃথিবীকে দুধ দিয়েছিলেন। জ্ঞানী দক্ষের জন্মের আংশিক বিবরণ এখানে আছে। মনু ও অন্যান্যদের দিয়ে শুরু হওয়া কাহিনি, বহু কাহিনিতে সজ্জিত, এখানে বলা হবে। ব্রহ্মাণ্ডের উৎপত্তি এবং ভৃগু ঋষি দিয়ে শুরু হওয়া ঋষিদের সৃষ্টি বর্ণনা করা হয়। দক্ষের সৃষ্টি এবং বৈবস্বত মন্বন্তরে ধ্যানের কথাও এখানে বলা হয়েছে। এভাবেই এই মহাকাব্যিক কাহিনি বিশ্ব ও জীবনের রহস্য, দেবতা, ঋষি, যুগ, সৃষ্টির ধারাবাহিকতা এবং ধর্মের প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে শ্রদ্ধাভরে বর্ণনা করে।