প্রিয়, এখন আমি তোমাকে সৃষ্টির এক মহিমান্বিত ধারাবাহিকতা বলবো, যেখানে দেবতাদের, ঋষিদের এবং মহাশক্তির উদ্ভবের কথা বর্ণিত হয়েছে। প্রথমেই জানা যায়, আটজন বিখ্যাত বসু—প্রত্যূষ এবং প্রভাস—তাঁদের নাম উচ্চারিত হয়। ধ্রুবের পুত্র ছিলেন কাল, যিনি জগৎকে প্রকাশ করেন। চন্দ্রের পাঁচ পুত্র—ধরর্মী এবং কলিল—তাঁর বংশধর। তেজসের পদ থেকে জন্ম নেন স্কন্দ এবং সনৎকুমার। তাঁর শাখা থেকে বিশাখ এবং নৈগমেয়, যাঁদের জন্ম হয় পশ্চাৎদেশ থেকে। অনিলের দুই পুত্র—অবিজ্ঞান এবং গতি। দেবল ঋষিরও দুই পুত্র জন্মগ্রহণ করেন, যাঁরা ধৈর্যশীল ও জ্ঞানী ছিলেন। যোগে সিদ্ধ এক নারী, যিনি জগৎজুড়ে ঘুরে বেড়াতেন, কিন্তু ছিলেন শক্তিহীন। তাঁরই পুত্র বিশ্বকর্মা, যিনি প্রজাপতির অধিপতি এবং মহাবলশালী। ক্রতু, দক্ষ, শ্রব, সত্য, কাল এবং ঐ ঋষি—এঁরা সকলেই ধর্মের পুত্র, বিশ্বার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। মুহূর্তা থেকে মুহূর্তাগণ জন্ম নেন, সঙ্গে ঘোষলম্বাও। জামা থেকে জন্ম নেয় নয়টি ঋথি, যাঁরা তিনটি পথের সঙ্গে যুক্ত। হে জ্ঞানী, এইভাবেই ধর্মের এই সৃষ্টি বর্ণিত হয়েছে। এখন আমি তাঁদের নাম বলবো, মনোযোগ দিয়ে শোনো। মুহূর্তা, সকল নক্ষত্র, দিন ও রাতের বিভাজন—এগুলোই সেই সৃষ্টি। সূর্যের গতি, বিশেষত সব ঋতুতে, অবিরত চলতে থাকে। অবিভক্ত সময়ে সূর্যকে সাবিতৃ বলে জানতে হবে। আপ্য, বৈশ্বদেব ও ব্রাহ্ম মুহূর্তা মধ্যাহ্নের সঙ্গে যুক্ত। আবার, বারুণ, আর্যমান ও ভাগ মুহূর্তাও দিবসের সঙ্গে সম্পর্কিত। ঘনোমনের ছায়া যথাযথভাবে মাপা ও বোঝা উচিত। অগ্নেয় ও প্রজাপত্য বিভাজনও জানতে হবে। তেমনি সাবিত্র, ত্বষ্ট্র ও বায়ব্যও অন্তর্ভুক্ত। চন্দ্রের গতি ও উদয় এবং নাড়িকার হিসাবও শুরু থেকেই জানা উচিত। সব গ্রহের জন্য তিনটি অবস্থান নির্ধারিত হয়েছে। সাধ্য নক্ষত্রের জন্য জারদগব অবস্থান, এবং আইরাবত হলো উত্তরীয় পথ। অশ্বিনী ও কৃত্তিকা দক্ষিণ দিকের সাপের পথ বলে পরিচিত। পুষ্য, আশ্লেষা এবং আদিত্য আইরাবত পথের অংশ। পূর্ব ও উত্তর দিকের দুই ফাল্গুনী এবং মঘা, এরা বৃশভগণের অন্তর্ভুক্ত। জ্যেষ্ঠা, বিশাখা ও অনুরাধা হল জারদগব পথ। মূলে ও দুই আষাঢ়া আজবিথি (ছাগলের পথ) নামে পরিচিত। বৈশ্বানরী, ভাদ্রপদা এবং রেবতীও উল্লেখযোগ্য। দক্ষ তাঁর কন্যা—আটাশটি কুমারী—চন্দ্রের হাতে অর্পণ করেছিলেন। তাঁদের সন্তানরাই অসীম দীপ্তিময়, উজ্জ্বল সত্তায় পরিণত হয়। তাঁদের মধ্যে চৌদ্দজন, মহান সৌভাগ্যবতী, সকল জগতের জননী। এঁদের মধ্যে রয়েছেন—সুরভি, বিনতা, তাম্রা, মুনী এবং ক্রোধবশা। প্রিয়, স্বায়ম্ভুব মন্বন্তরের সময়ে বারো জন প্রধান দেবতা ছিলেন। পরে, যখন বৈবস্বত মন্বন্তর এল, সেই সৌভাগ্যশালী দেবতারা আদিতির মধ্যে প্রবেশ করেন এবং তাঁরই পুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করেন। আমাদের জন্য এ ঘটনা সর্বদা মঙ্গলজনক।