সৃষ্টির ধারায় যখন জীবের বিবর্তন ঘটতে শুরু করল, তখন তার বুদ্ধি চারভাগে প্রকাশ পেল। মানুষের ক্ষেত্রে এই চাররূপ বুদ্ধি কখনো জন্মগত, কখনো বা অর্জিত—এভাবে বোঝা উচিত। কারণ, ক্ষেত্র বা জ্ঞেয় বিষয়ের সমস্ত জ্ঞান এই বুদ্ধির উপর নির্ভর করে, কিংবা সেখান থেকেই উৎসারিত হয়। বুদ্ধির উপরই জ্ঞান প্রতিষ্ঠিত, তাই বুদ্ধি আসলে জ্ঞানেরই স্বরূপ। এইভাবে ‘ক্ষেত্রজ্ঞ’, অর্থাৎ ক্ষেত্রের জ্ঞাতা, ক্ষেত্র-জ্ঞানসহ নিজেকে প্রকাশ করে। সে সর্বোচ্চকে উপলব্ধি করে বলে তার এই শ্রেষ্ঠ দর্শন প্রতিষ্ঠিত। আবার, সে নিজেই নিজের মধ্যে অবস্থিত বলে তাকে 'দ্রষ্টা'ও বলা হয়। মহৎ বা মহত্ত্ব, যাদের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়, সেইসব সৃষ্ট জীবদের দ্বারা পরিবেষ্টিত বলে সে শ্রেষ্ঠ। তাই যারা এই বুদ্ধির সর্বোচ্চ সত্য দর্শন করেন, তারা 'মহর্ষি' নামে খ্যাত। এই মহর্ষিরা ঋষিত্ব ও তপস্যা আয়ত্ত করেছেন। তাঁদের পুত্ররা, যাদের ঋষিকা বলা হয়, মিলন ও গর্ভধারণের দ্বারা জন্মগ্রহণ করেন। এই সাত ঋষি ও তাঁদের বংশধররাও পরম সত্যের দ্রষ্টা। তাঁদের ‘ঋষি’ বলা হয়, কারণ তাঁরা বিশ্ববিধান ও তার বিশেষ বিশেষ সত্য দর্শন করেন। তাঁরা অব্যক্ত আত্মা, মহৎ আত্মা এবং অহংকারাত্মাও উপলব্ধি করেন। এখন শুনো, এই ঋষিদের পাঁচটি বংশের কথা, যাদের এভাবে নামকরণ করা হয়েছে। প্রথমত, মনু, দক্ষ, বসিষ্ঠ, পুলস্ত্য—এরা দশজন। যেহেতু এই ঋষিরা সর্বোচ্চ বলে স্মরণীয়, তাই তাঁদের 'মহার্ষি' বলা হয়। এরপর কাব্য, বृहস্পতি, কশ্যপ ও ব্যবন; তারপর কर्दম, বিশ্বরবাস, শক্তি ও বালখিল্যগণ। এবার শুনো, ঋষিদের গর্ভজাত পুত্রদের কথা—ঋষিদীর্ঘতমা, বৃহদুক্ত, শরদ্বত; দধীচ, শংসপা এবং রাজা বৈশ্রবণ। এঁরা প্রভু, ঋষি এবং ঋষিকা—এই তিন নামেই স্মরণীয়। এরপর ভৃগু, কাব্য, প্রচেতস, ঋচীক (যিনি আত্মনিয়ন্ত্রিত), আর্ষ্টিষেণ, যুধাজিত, বিতহব্য, সুবর্তস—এঁরা উনিশজন ভৃগু, যাঁরা তাঁদের মন্ত্রের জন্য প্রসিদ্ধ। আরও আছেন ঋতবাক, গর্গ, শিনি, সংকৃতি; যুবনাশ্ব, পৌরুকুত্স, ত্রসদস্যু, দস্যুমান; বৃষাদর্ভ, বিরূপাশ্ব, কণ্ব, মুদ্গল; আয়াস্য, চক্রবর্তিন, বামদেব; কক্ষীবান এবং আরও তেত্রিশজন—এঁরা সকলেই প্রসিদ্ধ আঙ্গিরস। এরপর কশ্যপ, ভৎসার, নৈধ্রুব, রৈভ্য; অত্রি, অর্বসন, শ্যাবাশ্ব, গবিষ্ঠির—এই তিনটি মহর্ষিগোষ্ঠী, যাঁরা মন্ত্রের স্রষ্টা, এভাবে বর্ণিত হলেন। চতুর্থ গোষ্ঠী হলেন ইন্দ্রপ্রমতি, পঞ্চম হলেন ভরদ্বসু। এভাবে, এই সাতজনই বসিষ্ঠগণ, যাঁরা ব্রহ্মবাক্য বলেন। এছাড়াও, জ্ঞানী মধুচ্ছন্দা এবং অপর ঋষি অঘমর্ষণ; দেবশ্রবা, রেণু, পূরণ, ধনঞ্জয়; অগস্ত্য, আয়ু, দৃঢ়ায়ু, বিধ্মবাহ; এছাড়া বিবস্বতের পুত্র মনু, ইলা এবং রাজা পুরূখা—এঁদের কথাও স্মরণ করো। এইভাবে, মহর্ষিদের বিভিন্ন বংশ, তাঁদের পুত্রগণ এবং তাঁদের গৌরবময় কর্ম ও জ্ঞানের কথা এখানে শ্রদ্ধার সঙ্গে বর্ণিত হল।