ভগবান বললেন, “এই চিরন্তন সৃষ্টি সংক্ষেপে তোমাকে বর্ণনা করেছি। এ বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে বিশ্লেষণ করা সাধকের পক্ষে সম্ভব নয়; একে বিশ্বাস করতে হয়। এখন আর কী বিশদভাবে ও ধারাবাহিকভাবে বলব? তখন শ্রোতা বললেন, ‘প্রভু, আমি তাদের উৎপত্তি ও প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই।’ ভগবান বললেন, ‘তবে মনোযোগ দিয়ে শোনো, আমি তোমাকে তাদের চারটি যুগ সম্পর্কে বলব। যুগ, যুগের বিভাজন এবং প্রত্যেক যুগের কর্তব্যসমূহ আমি ব্যাখ্যা করব। এই সময়কে “ছয় আলোকের যুগ” বলা হয়; এখন আমি তা তোমাকে বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে বলব। একটি চোখের পলকের সময়কে একটি সংক্ষিপ্ত অক্ষরের সময়ের সমান বলে জেনে রাখো। এমন ত্রিশটি বিভাজনে একটি মুহূর্ত হয়; এবং ত্রিশটি মুহূর্ত একত্রে একদিন ও একরাত্রি গঠন করে। সূর্য এই দিন ও রাতকে মানবীয় ও পার্থিব হিসাবে বিভক্ত করে। পিতৃলোকের ক্ষেত্রে, এক মাস একটি দিন ও একটি রাত নিয়ে গঠিত—এ বিভাগেরও ব্যাখ্যা আছে। ত্রিশটি মানুষের দিন এক মাস হয়; এটাই পিতৃদের জন্য এক মাস বলে গণ্য হয়। পিতৃদের এক বছর মানুষের হিসাবেই নির্ধারিত হয়। এখানে পিতৃদের তিন বছর গণনা করা হয়; সেটাই তাদের এক প্রকৃত বছর। পার্থিব হিসাবেই মানুষের বছর মনে রাখা হয়। দেবলোকে, এক বছর একটি দিন ও একটি রাত নিয়ে গঠিত—এ বিভাগেরও আবার ব্যাখ্যা আছে। দেবলোকে এই দিন ও রাত্রিরও পুনরায় সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে একশো মানুষের বছর তিনটি দেবমাসের সমান বলে জানা যায়। এই দেববর্ষও মানুষের হিসাব অনুযায়ী বর্ণিত হয়েছে। আরো আছে—ত্রিশটি বছর সপ্তঋষিদের এক বছর বলে ধরা হয়। এবং নব্বইটি বছর ধ্রুবর এক বছর হিসেবে বিবেচিত। একশো বছরই দেবশাসন বলে বুঝতে হবে। গণিতজ্ঞরা বলেন, এখানে তিন নিযুত মানুষের বছর আছে। যারা হিসাব জানেন, তারা বলেন, দেববর্ষ এক হাজার বছর। যুগের সংখ্যা নির্ধারণও দেবীয় হিসাব অনুযায়ী হয়েছে। তুমি জানো, কৃত, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি—এই চারটি ভাগে যুগ বিভক্ত। দ্বাপর ও কলিও যুগ হিসেবে বিবেচিত। প্রত্যেক যুগের জন্য সংধি (গোধূলি), সংধি অংশ এবং সংধির সমান সময় নির্ধারিত হয়েছে। এভাবে হাজারে ও শতকে এই বিভাজন চলে। তিনশো ও দুইশো—এগুলো সংধি, এবং তাদের অংশও সমান। এখানে সংধি একশো, সংধি অংশও সংধির সমান। আবার, কৃত, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি—এই চার ভাগেই যুগ বিভক্ত। এখন আমি কৃতযুগের বছর ঘোষণা করব, মন দিয়ে শোনো। চল্লিশ হাজার বছর এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে গঠিত কৃতযুগ। ত্রেতাযুগের সময় আশি হাজার বছর। দ্বাপরযুগের সময় বিশ হাজার বছর। কলিযুগের সময় ষাট হাজার বছর। যুগগুলির হিসাব ছয় গুণ ষাট শত সহস্র (ছয় লক্ষ) হিসেবে ধরা হয়। চার যুগের সংধি অংশ বিশ হাজার বছর। কৃত, ত্রেতা ও অন্যান্য যুগের সঙ্গে সংযুক্ত এই সময়ই মন্বন্তর নামে পরিচিত।