বর্ষাকাল ও শরতে, সূর্য চারটি ধারা নিয়ে পৃথিবীতে বর্ষণ করেন। এই সময়ে ইন্দ্র, ধাতা, ভাগ, পুষা, মিত্র, তারপর বরুণ ও যম—এই দেবতারা সূর্যের কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করেন। প্রতি মাসে একেক দেবতার প্রভাব সূর্যের মধ্যে দেখা যায়: মাঘ মাসে বরুণ, ফাল্গুনে পুষা, জ্যৈষ্ঠ মাসে ইন্দ্র, আষাঢ়ে সবিতা সূর্য, আশ্বিন মাসে পার্জন্য, কার্তিক মাসে ত্বষ্টা সূর্যরূপে প্রকাশিত হন। সূর্যরশ্মির মধ্যে বরুণের পাঁচ হাজার রশ্মি, ধাতার আট হাজার, শতক্রতু ইন্দ্রের নয় হাজার রশ্মি রয়েছে। সিত্রা সাতটি রশ্মিতে দীপ্তিমান, ত্বষ্টাও আটটি রশ্মিতে জ্বলজ্বল করেন। বিষ্ণু ছয় হাজার রশ্মি নিয়ে পৃথিবীকে আলোকিত করেন। বর্ষাকালে সূর্য শুভ্রবর্ণ ধারণ করেন, আর শরতে তার বর্ণ ফ্যাকাশে হয়। এভাবেই ঋতু অনুযায়ী সূর্যের নানা রং প্রকাশিত হয়। তবে, সূর্য এমন এক ত্রৈধ অমৃত দান করেন না, যা অমরদের মধ্যেও সহজলভ্য নয়। ঋতুর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই অমৃত জল, শীতলতা ও উষ্ণতার ধারা হিসেবে বিভক্ত হয়ে যায়। সূর্যই নক্ষত্র, গ্রহ ও চন্দ্রের মূলভিত্তি ও গর্ভ। নক্ষত্রদের অধিপতি হলেন সোম, আর গ্রহরাজ হলেন সূর্য। বলা হয়, অগ্নিই সূর্য, আর জলই চন্দ্র। দেবসেনাপতি হলেন স্কন্দ, যিনি মঙ্গলেরও নাম। রুদ্র স্বয়ং বৈবস্বত যম, যিনি প্রাণীর অধিপতি। দুই মহান গ্রহ—দেবতা ও অসুরের গুরু—তারা উভয়েই দীপ্তিমান। তিনটি জগতের উৎপত্তি সূর্য থেকেই, এতে কোনো সন্দেহ নেই। রুদ্র, উপেন্দ্র, ইন্দ্র, চন্দ্র, শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণগণ ও স্বর্গীয় দেবতারা—সবারই আধার, সকল জগতের ঈশ্বর, মহাদেব, সৃষ্টির আদিপুরুষ তিনি। সমস্ত কিছু তাঁর থেকেই উদ্ভূত হয় এবং শেষে তাঁর মধ্যেই বিলীন হয়। ব্রাহ্মণগণ, জেনে রাখো—সূর্যগ্রহ, যিনি উজ্জ্বল ও দীপ্তিমান, তিনিই জগতের জ্ঞানী। ক্ষণ, মুহূর্ত, দিন, রাত, পক্ষ—সমস্ত কালের হিসাব সূর্য ছাড়া অসম্ভব। ঋতুর পার্থক্য না থাকলে ফুল, মূল কিংবা ফলও হতো না। তখন স্বর্গে বা পৃথিবীতে, জীবদের কোনো কর্মও থাকত না। তিনি-ই কাল, তিনি-ই অগ্নি, তিনি-ই বারো রূপে প্রজাপতি। তিনি-ই আলোর আধার, অন্ধকারের বিনাশকারী, সমস্ত জগতে সর্বব্যাপী। তিনি চারদিকে, উপরে ও নিচে—সবকিছু উত্তাপিত করেন। তিনি সমভাবে চারদিকে, উপরে ও নিচে অন্ধকার দূর করেন। সূর্য তার রশ্মি দিয়ে সমস্ত জগৎকে আলোকিত করেন। এই রশ্মিগুলোর মধ্যে সাতটি প্রধান, গ্রহদের পথপ্রদর্শক। এদের মধ্যে অন্যতম বিশ্বশ্রবা, যিনি সচ্চরিত্র ও সমৃদ্ধির মধ্যে শ্রেষ্ঠ। সুষুম্ণা নামের একটি সূর্যরশ্মি চন্দ্র যখন ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, তখন তাকে পুষ্টি জোগায়। হরিকেশা সামনে, যিনি নক্ষত্রদের উৎপত্তি-দানকারী। বিশ্বশ্রবা পেছনে, জ্ঞানীরা তাঁকে শুক্রের মূল জানেন। ষষ্ঠ রশ্মি অর্বাবসু, যিনি বৃহস্পতির উৎপত্তি। এভাবেই সূর্যের শক্তিতেই গ্রহ, নক্ষত্র ও তারা—সবকিছু টিকে আছে ও বিকশিত হয়।