নিরব মেঘেরা, যারা আকারে বিশাল, তারা বাতাসের ইচ্ছার অধীন। পাহাড়ের ঢালে ও চূড়ায় সেই মেঘেরা বৃষ্টি ঝরায়, এবং জল ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসে। এইসব মেঘের মধ্যে ব্রহ্মজা নামক মেঘগুলি ব্রহ্মার শ্বাস থেকে জন্ম নেয়। তাদের অবিরাম গর্জনে, পৃথিবী—নিজের অঙ্গ থেকে উদ্ভূত—অটুট থাকে ও টিকে থাকে। এই মেঘের মধ্যেই বর্ষাকাল প্রতিষ্ঠিত হয়, যার থেকে সমস্ত জীবের জীবন উৎপন্ন হয়। তবে, সাধ্যরা এক যোজন দূর থেকেও এই মেঘের কাছাকাছি আসে না। আবার, পুষ্করাবর্ত্তক নামে পরিচিত মেঘগুলি ডানার থেকে উদ্ভূত হয়। যাদের আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পেয়েছে, যারা কল্যাণ কামনা করে—তাদের জন্যই এই পুষ্করাবর্ত্তক নামকরণ হয়েছে। এই মেঘেরা যুগের শেষে বৃষ্টির সৃষ্টি করে, এবং প্রলয়ের আগুনের নিয়ন্ত্রকও হয়। নানা রূপ ও চেহারায় তারা পৃথিবীর পৃষ্ঠভাগ পূর্ণ করে তোলে। যখন আদিম ডিম ভেঙে যা কিছু উৎপন্ন হয়েছিল, সেগুলোই মহাবিশ্বের ডিমের খোল বলে পরিচিত, এবং সবই মেঘ নামে পরিচিত। এইসব মেঘের মধ্যে পার্জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ, এবং চার দিকের হাতিগুলোও উল্লেখযোগ্য। এদের এক বিশেষ বংশ ও এক মূল আছে, যা জল বলে পরিচিত। বাকিরা বরফ ও বৃষ্টি বর্ষণ করে, যাতে ফসল বৃদ্ধি পায়। আকাশে চলমান সেই ধন্যজন, যিনি স্বর্গীয় গঙ্গা বহন করেন, তার স্রোত থেকে দিকের হাতিগুলো তাদের প্রশস্ত শুঁড় দিয়ে জল টেনে নেয়। দক্ষিণে হেমকূট নামে একটি পর্বত আছে। সেখানে পুন্ড্র নামে একটি বিশাল নগরী রয়েছে। তখন, সেই সময়ে, বাতাস হেমবন্ত পর্বতকে নিয়ে যায়। হিমবত পার হয়ে, বাকি বৃষ্টি আরও দূরে চলে যায়। দুই বছরের একটি সময়কাল ফসলের বৃদ্ধি ঘটায় বলে বলা হয়। আসলে, সূর্যকেই বর্ষার স্রষ্টা বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ধ্রুব দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সূর্য বর্ষাকালে তার পথ অনুসরণ করে চলে। সূর্য থেকে একটি গ্রহ উৎপন্ন হয়ে সমস্ত নক্ষত্রের অঞ্চলে ঘুরে বেড়ায়। এবার শুনুন সূর্যের রথের বিন্যাস। সেই ধন্য সূর্য স্বর্ণালী, সবুজ আভাযুক্ত যোক দ্বারা সাজানো। সূর্য তার রথে দীপ্তিময় চক্র নিয়ে এগিয়ে চলে। রথের মাপের দ্বিগুণ একটি মাপের দণ্ড (ঈষাদণ্ড) আছে। এটি সংযুক্ত নয়, স্বর্ণের তৈরি, দেবত্বময়, এবং বাতাসের গতিতে চলা ঘোড়া দ্বারা যুক্ত। এই রথের বৈশিষ্ট্য বরুণের রথের মতো। এবার সূর্যের রথের অংশগুলি শুনুন। দিনের সময় সূর্যের একচাকা রথের কেন্দ্রীয় অংশ। সেটি রথের আসন, আর দুটি খুঁটি হলো দাক্ষিণায়ন ও উত্তরায়ন। অক্ষ হলো দণ্ড, যোক হলো খুঁটি, এবং মুহূর্ত হলো পেগ। রাত হলো রথের আচ্ছাদন, ধর্ম হলো তার পতাকা, এবং পতাকা উচ্চভাবে উত্তোলিত। ছন্দগুলি, সাতটি ঘোড়ার রূপে, বাম পাশে যোক বহন করে। পংক্তি, বৃহতি, ও উষ্ণিক—এরা সপ্তম ছন্দ। একটি সঙ্গী চক্র নিয়ে ঘূর্ণায়মান অক্ষ ঘুরে যায়; একটি সঙ্গী অক্ষ নিয়ে ধ্রুবও ঘুরে যায়। এভাবেই, মেঘ, জল, পাহাড়, সূর্য, এবং মহাবিশ্বের রথের গঠন—সবকিছু এক মহাজাগতিক নিয়মে আবর্তিত হয়, জীবের কল্যাণ ও সৃষ্টির ধারায়।