ঋষিদের উদ্দেশ্যে বর্ণনা শুরু হলো পাতাললোকের বিস্ময়কর নগর ও অধিবাসীদের কথা। রাক্ষসরাজা, কুম্ভিলা ও খরার শহর রয়েছে সেখানে। আবার সাপ হেমক ও পান্ডুরকের শহরও আছে। তৃতীয় স্তরে, নিঃসন্দেহে, এটি নীলভূমি—ঋষিগণ, এ তথ্য সন্দেহাতীত। সেখানে গজকর্ণের নগরী ও কুঞ্জরার শহরও রয়েছে। আরও আছে মুঞ্জ, যিনি বহু জগতের অধিপতি, এবং বৃকবক্ত্রের বাসস্থান। চতুর্থ স্তরে রয়েছে বৈনতের শহর। সেখানে দানবদের মাঝে সিংহের মতো বুদ্ধিমান বিরোজনার নগরী এবং রাক্ষসরাজা বিদ্যুজ্জিহ্বার শহরও আছে। এছাড়া সাপ কির্মীর, স্বস্তিক ও জয়ের শহরও সেখানে। পঞ্চম স্তরটি সর্বদা ‘কাঁকড়ার স্তূপ’ নামে পরিচিত। এখানে সুপার্বন, পুলোমন ও মহিষের শহর রয়েছে। সুরমার পুত্র শতশীর্ষ, আনন্দে পরিপূর্ণ, এখানেই বাস করেন। এভাবে পাতাললোকের বিভিন্ন স্তরে নাগ, দানব ও রাক্ষসদের হাজার হাজার শহর বিদ্যমান। সপ্তম স্তরটি, পাতাল নামে পরিচিত, পশ্চিমের সবচেয়ে দূরবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। সেখানে অসুর ও বিষাক্ত সাপেরা, দেবতাদের শত্রু হলেও, সন্তুষ্টভাবে বাস করে। দিতিপুত্রদের বিশাল নগর, দৈত্য ও দানবদের ঘনবসতিপূর্ণ বড় বড় শহর রয়েছে সেখানে। পাতাললোকের শেষ প্রান্তে, বহু যোজনজুড়ে বিস্তৃত, এক মহান সত্তা বিরাজমান। তাঁর দেহ ধৌত শঙ্খের মতো শুভ্র, নীলবস্ত্রে আবৃত, অসীম শক্তির অধিকারী। তাঁর সোনালী শৃঙ্গ, উজ্জ্বল মুখমণ্ডল, দীপ্তি ছড়ায় চারদিকে। তাঁর গলায় জিহ্বার মালা, জ্বলন্ত আগুনের শিখার মতো। হাজার চোখে তিনি আলোকিত, আর ততোধিক আরও চোখ তাঁর শরীরে। জুঁই ফুল ও চাঁদের মতো উজ্জ্বল চোখের মালা তাঁকে শোভিত করে। তাঁর দেহ বিশাল ও উত্তোলিত, কখনো শায়িত, কখনো উপবিষ্ট অবস্থায় দেখা যায়। তাঁর সঙ্গী বহু বিশালাকৃতি সাপ, শক্তিশালী কুণ্ডলী, গভীর জ্ঞান ও মহান আত্মা। তিনি সকল নাগের রাজা—শেষ, অনন্ত, অপূর্ব দীপ্তিতে ভাসমান। এভাবে সাতটি নিম্ন অঞ্চল—রসাতল—বর্ণনা করা হলো। এর বাইরে রয়েছে এক অদৃশ্য, দুর্লভ অঞ্চল, যা সিদ্ধ ঋষিদেরও অগম্য। এই অঞ্চল মাটি, জল, আগুন, বায়ু ও আকাশের সংমিশ্রণে গঠিত। এবার সূর্য ও চন্দ্রের পথের কথা বলা হবে। তাদের দীপ্তি ও আলোর কারণে, তারা নিজ নিজ কক্ষপথে উত্তোলিত হয়। পৃথিবীর অর্ধেক অংশকে অন্যত্র বাহ্যিক বলে বিবেচনা করা হয়। স্বর্গের পরিধি পৃথিবীর পরিধির সমান বলেই গণ্য। সূর্যকে আলোর উৎস হিসেবে জানানো হয়, এবং মনে করা হয়, সূর্য পৃথিবী থেকে উদিত হয়। এই অঞ্চলে ‘মহী’ শব্দটি পৃথিবীর মূলতত্ত্ব বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এখন সূর্যপথের যোজনার সংখ্যা জানো। তার ব্যাসার্ধ তিনগুণ, আর কক্ষপথের পরিধি সেই অনুযায়ী মাপা হয়। এরপর পৃথিবীর পরিমাপ ও তার যোজনার সংখ্যা বলা হবে। এভাবেই পুরাণে এসব বিস্তৃতি ও পরিমাপ নির্ধারিত হয়েছে।