অসীম ভৌতিক উপাদানের দৃষ্টিভঙ্গি কখনোই স্থির নয়। এই মহাবিশ্বের গঠন নিয়ে নানা বর্ণনা পাওয়া যায়—প্রথমে আছে পৃথিবী, তারপর জল, তারপর আকাশ। এই অনুক্রমেই সৃষ্টির স্তরগুলি বিস্তৃত হয়েছে। পৃথিবীর নিচে রসাতল নামে একটি বিস্তৃত অঞ্চল আছে, যার পরিমাণ দশ যোজনের এক হাজার যোজন। এই রসাতলের উপরে প্রথম যে অঞ্চল, তার নাম আতল, তার পরেই আছে সুতল। সুতলের নিচে তালাতল, এরপর রসাতল। এইভাবে স্তরে স্তরে নিচের দিকে অঞ্চলগুলি সাজানো। পৃথিবীর প্রথম স্তরটি কৃষ্ণভূমি নামে পরিচিত, যা অন্ধকারে ঢাকা। চতুর্থ স্তর পীতাভূমি, যা হলুদ বর্ণের, এবং পঞ্চম স্তরটি কঙ্কর-পাথরে গঠিত। এই প্রথম স্তরেই বাস করেন অসুররাজের প্রাসাদ। এখানে রয়েছে শঙ্খুকর্ণ নগরী এবং কাবন্ধের প্রাসাদ। এখানেই রয়েছেন ভয়ংকর রাক্ষস ভীম এবং শূলদন্তের আবাস। ধনঞ্জয় নামে মহাত্মা নাগরাজের নগরীও এখানে অবস্থিত। এভাবেই হাজার হাজার নাগ, দানব ও রাক্ষসদের নগরী ছড়িয়ে আছে এই স্তরে। দ্বিতীয় স্তর সুতলে, হে ব্রাহ্মণগণ, অবস্থান করছে দৈত্যরাজ এবং রাক্ষসদের প্রাসাদ। এখানে আছে ইয়গ্রীব, কৃষ্ণ ও নিকুম্ভের প্রাসাদ। এছাড়া আছে অসুর নীলের প্রাসাদ, মেঘের কাহিনি, নাগ কম্বলের প্রাসাদ এবং অশ্বতর নগরী। এই স্তরেও অসংখ্য নাগ, অসুর ও রাক্ষসদের শহর রয়েছে। তৃতীয় স্তরে রয়েছে মহাত্মা প্রহ্লাদের বিখ্যাত নগরী। এখানে আছে তারকাসুর ও ত্রিশিরার নগরী, এবং আছে অসুর পুরঞ্জনের নগরী—যেখানে মানুষ সুখী ও সমৃদ্ধ। এখানেই আছে রাক্ষসরাজ, কুম্ভিল ও খরার নগরী, এবং নাগ হেমক ও পান্ডুরকের আবাস। নাগরাজ নেদকের প্রাসাদ এবং বিশালাক্ষের আবাসও এখানে। হে মুনি, এই তৃতীয় স্তরটি নিঃসন্দেহে নীলভূমি নামে পরিচিত। গজকর্ণের নগরী, কুঞ্জরার শহর, মুঞ্জ নামে লোকপালের আবাস ও বৃকবক্ত্রের স্থানও এখানে। চতুর্থ স্তরে আছে বৈনতেয় নগরী, এবং আছে অসুরদের মধ্যে সিংহসম বুদ্ধিমান বিরোজনার শহর। রাক্ষসরাজ বিদ্যুজ্জিহ্বের নগরী, নাগ কির্মীর, স্বস্তিক ও জয়ের শহরও এখানে। পঞ্চম স্তরটি সর্বদা কঙ্করের স্তূপ নামে পরিচিত। এখানে আছে সুপর্ণ, পুলোমন ও মহিষের নগরী। এখানে বাস করেন সুরমার পুত্র শতশীর্ষ, যিনি আনন্দে পরিপূর্ণ। এভাবেই প্রত্যেক স্তরে হাজার হাজার নাগ, দানব ও রাক্ষসদের নগরী ছড়িয়ে আছে। সপ্তম ও সর্বশেষ স্তর পাতাল, যা পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। এখানে অসুর ও বিষধর নাগেরা বাস করে, যারা দেবতাদের শত্রু হলেও নিজেদের মধ্যে সুখে থাকে। এখানে দিতিপুত্রদের অনেক মহানগর, এবং দানব-দৈত্যদের জনাকীর্ণ শহর রয়েছে। পাতালের শেষ প্রান্তে, বহু যোজন বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে, অবস্থান করছেন এক মহাশক্তিশালী, ধৌত শঙ্খের মতো শুভ্রদেহী, নীলবস্ত্রপরিধানকারী মহাপুরুষ।