কুশদ্বীপের বিস্তার পূর্ববর্তী দ্বীপের দ্বিগুণ বলে বর্ণিত হয়েছে। এই মহাদেশে সর্বাধিক প্রধান পর্বতটি হল ক্রৈঞ্চ। অন্ধকার নামক পর্বতেরও ওপারে রয়েছে দিবাবৃত নামের এক মহৎ পর্বত। আবার দ্বিবিদ পর্বতের পরে দেখা যায় পুণ্ডরীক, এক বিশাল পর্বতশ্রেণী। এইভাবে ক্রৈঞ্চদ্বীপে সাতটি রত্নখচিত পর্বত বিস্তৃত, যেগুলি একটির তুলনায় পরবর্তীটি দ্বিগুণ প্রশস্ত এবং প্রতিটিই আনন্দবর্ধক। ক্রৈঞ্চভূমি অত্যন্ত দক্ষ, আর ভামনভূমি মনকে আনন্দ দেয়। উষ্ণের পরে আছে পীবরক, এবং পীবরার পরে অন্ধকারক পর্বত। ঋষিদের ভূমি পেরিয়ে আছে দুন্দুভিস্বন নামক স্থান। এখানে সাতটি নদী প্রবাহিত, প্রতিটিই পুণ্য ও সর্বত্র বিখ্যাত। খ্যাতি, পুণ্ডরীকা এবং সপ্তগঙ্গা এখানে স্মরণীয়। এই সব নদী জলসম্পদে পরিপূর্ণ এবং প্রচুর জলধারায় প্রবাহিত। এই মহিমান্বিত অঞ্চলটি চারদিক থেকে পরিবেষ্টিত, যার বিস্তার ক্রৌঞ্চদ্বীপের সমান। প্রাকৃতিক এই দ্বীপগুলি তাদের নিজ নিজ স্থানে সুবিন্যস্ত, এবং এখানেই জীবের উৎপত্তি ও বিলয় ঘটে। এখন আমি তোমাকে সত্য ও যথাযথভাবে এই বিষয়গুলি বলছি, মনোযোগ দিয়ে শোনো। এই দ্বীপটি সমুদ্র দ্বারা পরিবেষ্টিত, যার জল দুধের মতো শুভ্র। এখানে দুর্ভিক্ষ, বার্ধক্য ও রোগের ভয় কোথা থেকে আসে, সে কথাও জানতে পারো। এখানকার রত্নখনি ও নদীগুলির নামও শোনো। পূর্বদিকে আছে উদয় নামের সুবর্ণ পর্বত। তার পরে রয়েছে সুমহান, এক বিশাল পর্বত, যার অসংখ্য জলধারা প্রবাহিত হয়। এখান থেকেই বর্ষাকালে জীবদের জন্য বৃষ্টি হয়। আকাশে রেবতী নামে একটি নক্ষত্র আছে; প্রজাপতি ব্রহ্মা এই নিয়ম স্থাপন করেছিলেন। সেই কারণে পূর্ববর্তী জীবরা কালো বর্ণ ধারণ করেছিল। এর পরে আছে অম্বিকেয়া, এক দুর্গসম পর্বত ও মহাশিখর। কেশরী নামের পদ্মালঙ্কৃত পর্বত থেকে প্রাণীদের অধিপতি বায়ু উৎপন্ন হয়। দ্বিতীয় নদীটির নাম সুখুমার, যার শুভ্র বৃষ্টিকে কুসুমোত্তর বলা হয়। এই মহাদেশের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ, এবং তার পরিসীমা নির্ধারিত। এখানে শাক নামের এক উচ্চ পর্বত আছে, যার অধিবাসীরা অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়। এখানে আরও আছে মহান ও পুণ্যবতী নদী, এবং গঙ্গার সাতটি রূপ। ইক্ষু, ভেনুকা, গাভস্তি এবং সপ্তম নদী সপ্তমী— এদের কথা স্মরণীয়। হাজার হাজার নদী এখানে প্রবাহিত, যেখান থেকে ইন্দ্র বৃষ্টি বর্ষণ করেন। এই পবিত্র নদীগুলিকে গণনা করা সম্ভব। এই মহাদেশটি শালমলি বৃক্ষের মতো প্রশস্ত এবং চক্রাকার বিন্যাসে অবস্থিত। এখানে নানা রত্ন, প্রবাল ও খনিজ দ্বারা শোভিত, এবং চারদিকে ফুল ও ফলে ভরা বৃক্ষ, সম্পদ ও শস্যে পরিপূর্ণ। শাকদ্বীপের বিস্তার সবদিকে সমান। এই সাতটি অঞ্চল নানা বর্ণ ও আশ্রমের মানুষের দ্বারা পরিপূর্ণ। এখানে ধর্মে অবিচল থাকার ফলে সকলেই সর্বোচ্চ সুখে বাস করেন।