সাতটি দ্বীপের মধ্যে হাজারটি বিভাজন আছে, এই বিস্ময়কর দ্বীপসমূহের রহস্যে ভরা। এখন আমি তোমাকে সেই সাত দ্বীপের বর্ণনা দেব, সঙ্গে চন্দ্র, সূর্য ও গ্রহের অবস্থানও বলব। তবে মনে রেখো, যেসব বিষয় মানববুদ্ধির সীমায় আসে না, তাদের যুক্তি দিয়ে বোঝা যায় না। তবু আমি জম্বুদ্বীপের নয়টি অঞ্চল নির্ভুলভাবে বর্ণনা করব। জম্বুদ্বীপের পরিধি এক লক্ষ যোজন; এই বিশাল দ্বীপ সিদ্ধ ও চারণদের দ্বারা পূর্ণ, এবং নানা পর্বতশ্রেণীতে সজ্জিত। চারিদিকে পর্বত থেকে উৎপন্ন নদীগুলো এই দ্বীপকে ঘিরে রেখেছে। সমস্ত দ্বীপের চারপাশে নয়টি বিশ্ব আছে, যেগুলো বিভিন্ন জীবের আবাস। জম্বুদ্বীপের বিস্তৃতি সবদিকে সমান। পূর্ব ও পশ্চিমে এটি মাসুদ্রার জলে নিমজ্জিত। সব ঋতুতেই মহান নিষধ পর্বত মনোরম। এর শীর্ষ বিস্তৃত ৩২ হাজার যোজন। পর্বতের বিভিন্ন পাশে নানা রঙের ছটা, এবং প্রজাপতির গুণে সমৃদ্ধ। পূর্ব দিকটি সাদা, তাই সেখানে ব্রাহ্মণ বাস করেন। এর ক্ষত্রিয় স্বভাব মেরু পর্বত থেকে আসে, নানা কারণে। পশ্চিম দিকে এটি মৌমাছার ডানার মতো ঢাকা। এই পর্বত স্বাভাবিকভাবে গোলাকার, রঙ ও আয়তনেও তা-ই। এর রঙ ময়ূরের পালকের মতো, স্বর্ণময় এবং শিখরে সজ্জিত। পর্বতের ভিতরের ব্যাস ৯ হাজার বলা হয়, এবং চারদিকে তা ৯ হাজার বিস্তৃত। মেরুর দক্ষিণে অর্ধেক বেদি, আর উত্তরেও অর্ধেক। প্রতিটি ২ হাজার যোজন প্রস্থ ও উচ্চতায়। এ দুটি পর্বত বিস্তৃত এক লক্ষ যোজন। শ্বেত, হেমকূট, হিমবত, এবং শৃঙ্গবত—এই পর্বতসমূহের মাঝে বাসযোগ্য অঞ্চল আছে, যেগুলো সাতটি রঙে বিভক্ত। নদীর শাখাগুলো দিয়ে তারা আলাদা, একে অন্যের কাছে যাওয়া যায় না। হিমবতের অঞ্চলই ভারত নামে পরিচিত। হেমকূটা থেকে নিষধ, সেখান থেকে হারিবর্ষ নামে পরিচিত। ইলাবৃত থেকে পিষ, আর নীল থেকে সাম্যক নামে জানা যায়। হিরণ্ময় ও শৃঙ্গবতের বাইরে কুরু নামে পরিচিত। সেখানে চারটি দীর্ঘ অঞ্চল আছে, মাঝেরটি ইলাবৃত। নীল ও অর্ধ বেদির বাইরে, সেটি উত্তরাঞ্চল। এই দুইয়ের মাঝে, ইলাবৃতের কেন্দ্রে মেরু পর্বত অবস্থান করে। উত্তরে আছে মহান পর্বত, নাম মাল্যবত। এর দৈর্ঘ্য ৩২ হাজার বলা হয়। মাল্যবতের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের জন্য বিখ্যাত। এটি চার বর্ণের, স্বর্ণময়, চতুষ্কোণ ও উচ্চ। নবসূর্যের মতো উজ্জ্বল, ধূমহীন অগ্নির মতো দীপ্ত। নিচে ১৬ বিস্তৃত, উপরে ১৬ বিস্তৃত। চারদিকে এর পরিধি প্রস্থের তিনগুণ। এইভাবে সাত দ্বীপ, পর্বত, নদী, অঞ্চল ও তাদের বিস্তৃতি এক অপরূপ ও রহস্যময় জগৎ সৃষ্টি করেছে, যেখানে দেবতা, সিদ্ধ, চারণ এবং নানা জাতির মানুষ বাস করে—সবই সনাতন ধর্মের বিস্ময়কর সৃষ্টি।