হে দ্বিজগণ, এখন আমি আপনাদের মান্বন্তরগুলির ধারাবাহিক কাহিনি শ্রদ্ধাভরে বলছি, যেমন ঋষি ও পুরাণকাররা বলেছেন। সর্বপ্রথম, স্বায়ম্ভূব মনুর দশ মহাবলশালী পুত্র ছিলেন—জ্যোতিষ্মান, দ্যুতিমান, হব্য, সবল ও পুত্রসঞ্জ্ঞক; এঁদের নামেই প্রথম মান্বন্তর পরিচিত। এই প্রথম মান্বন্তরে ঋষিদের মধ্যে ছিলেন ঔর্ব (যিনি ঋষি বসিষ্ঠের পুত্র), স্তম্ভ ও কশ্যপ। এছাড়াও ছিলেন প্রাণ, বৃহস্পতি, দত্ত, অত্রি ও চ্যবন—এঁরা সকলেই বিখ্যাত মহর্ষি, যাঁরা কঠোর ব্রত পালন করতেন, যেমন বায়ু দেবতা বলেছেন। পরবর্তী দ্বিতীয় মান্বন্তরে স্বরোচিষ মনুর পুত্ররা ছিলেন প্রতীত, নাভস্য, নাভ ও ঊর্জা। দেবতাদের মধ্যে তুষিতগণ স্মরণীয়, এবং হঋঘ্ন, সুকৃতি, জ্যোতির, আপ ও মূর্তি—এঁরা সেই সময়ের বিখ্যাত দেবতা। এই মান্বন্তরের রাজারা ছিলেন অসাধারণ শক্তি ও বীর্যের অধিকারী। এরপর তৃতীয় মান্বন্তর—উত্তম মনুর যুগ। এখানে বসিষ্ঠ ঋষির সাত পুত্র, যাঁরা ‘বাসিষ্ঠ’ নামে পরিচিত, ছিলেন প্রধান ঋষি। হিরণ্যগর্ভের ঊর্জা থেকে উৎপন্ন ঋষিরাও এখানে প্রসিদ্ধ। উত্তমা থেকে জন্ম নেওয়া মনুর দশ পুত্র হলেন—ঈষ, ঊর্জা, তনূর্জ, মধুর, مادৱ, শুচি, শুক্র, সহ, নাভস্য, নাভ ও ভানব। এই মান্বন্তরের দেবতারাও উল্লিখিত। চতুর্থ মান্বন্তরে তামস মনুর পুত্রদের মধ্যে ছিলেন—কাব্য, পৃথু, অগ্নি, জাহ্নু ও ধাতা। এখানকার সাত ঋষি হলেন কপীবান, অকপীবান প্রমুখ। পুরাণে তাঁদের পুত্র ও পৌত্রদেরও প্রশংসা করা হয়েছে। দেবতাদের মধ্যে ছিলেন দ্যুতি, তপস্যা, সুতপস, তপোভূত ও সনাতন। তামস মনুর দশ পুত্র—তপোরতি, অকল্পমাষ, তন্বী, ধন্বী, পরন্তপ, এবং আরও পাঁচজনের নামও এখানে ঘোষিত হয়েছে। এই মান্বন্তরে বিখ্যাত ঋষিদের মধ্যে দেববাহু, যদুধ্র, বেদশিরা, হিরণ্যরোমা, পার্জন্য, ঊর্ধ্ববাহু, সোমজ, সত্যনেত্র ও আত্রেয় ছিলেন। দেবতাদের মধ্যে অভূতরাজস ও প্রকৃতি স্মরণীয়, এবং বারিপ্লব ও রৈভ্যও এই সময়ে উল্লেখিত। রৈভ্য মনুর দশ পুত্রের মধ্যে ধৃতিমান, অব্যয়, যুক্ত, তত্ত্বদর্শী, নিরুৎসুক, আরণ্য, প্রকাশ, নির্মোহ, সত্যবাক ও কৃতি—এঁরা পঞ্চম মান্বন্তরের পুত্র। ষষ্ঠ মান্বন্তরে চাক্ষুষ মনুর যুগে সাত ঋষি ছিলেন—ভৃগু, নাভ, বিবস্বান, সুধামা, বিরজা, অতিনামা ও সহিষ্ণু। দেবতাদের মধ্যে ছিলেন ঋষি অঙ্গিরসের পুত্র ও নাড়্বলেয়া, এঁরা দশজন বিখ্যাত পুত্র। ঋষিদের মধ্যে রুরু থেকে শুরু করে আরও অনেকে এই মান্বন্তরে ছিলেন। এইভাবে ষষ্ঠ মান্বন্তরের বর্ণনা শেষ হল। এবার সপ্তম মান্বন্তর, অর্থাৎ বর্তমান বৈবস্বত মনুর যুগের কথা বলি। এখানে সাত ঋষি হলেন—অত্রি, বসিষ্ঠ, মহর্ষি কশ্যপ, গৌতম, ভরদ্বাজ, বিশ্বামিত্র এবং ঋচিকপুত্র জামদগ্নি। দেবতাদের মধ্যে সদ্য, রুদ্র, বিশ্বেদেব, বসু, মরুত, আদিত্য, দুই অশ্বিনী ও দুই বৈবস্বত দেবতা স্মরণীয়। বৈবস্বত মনুর দশ বিখ্যাত পুত্রের মধ্যে ইক্ষ্বাকু প্রধান; এঁদের সন্তান ও পৌত্ররা চারদিকে ছড়িয়ে আছেন। প্রতিটি মান্বন্তরে ধর্মের প্রতিষ্ঠা ও পৃথিবীর রক্ষা করতে সাতটি করে ঋষিগোষ্ঠী ছিল। যখন একটি মান্বন্তর শেষ হয়, তখন চারটি ঋষিগোষ্ঠী ব্রহ্মার নির্দোষ ধামে গমন করেন; তাদের স্থানে অন্য সাধকরা আসেন। অতীতে যারা ছিলেন ও বর্তমানে যারা আছেন, তাঁরা এইভাবে পালাক্রমে স্থান দখল করেন। ভবিষ্যতে, সাৱর্ণ মনুর যুগে স্বর্গে স্মরণীয় সাত ঋষি হবেন—রাম, ব্যাস, অত্রি, জ্যোতির্ময় ও বিদ্বান, ভরদ্বাজ, দ্রৌণী এবং তেজস্বী অশ্বত্থামান। আরও থাকবেন গৌতম, অজর, শরদ্বান (গৌতম), কৌশিক, গালব, ঔর্ব ও কশ্যপ। এই সাত মহাত্মা ভবিষ্যতে প্রধান ঋষি হবেন। সাৱর্ণ মনুর দশ পুত্রের মধ্যে বৈরী, আধ্য্বরী, শমন, ধৃতিমান, বসু, অরিষ্ট, অধৃষ্ট, বাজী ও সুমতি—এঁরা বিখ্যাত ঋষি হবেন। যে ব্যক্তি প্রত্যুষে উঠে এই ঋষিদের নাম স্মরণ ও উচ্চারণ করেন, সে সুখ, মহাপ্রতিষ্ঠা ও দীর্ঘায়ু লাভ করে। হে ব্রাহ্মণগণ, এই সাতটি ঋষিগোষ্ঠীর কথা সত্য ও যথাযথভাবে বলা হল। এখন সংক্ষেপে আসন্ন মান্বন্তরগুলির কথা শুনুন। জেনে রাখুন, পাঁচজন সাৱর্ণ মনু আছেন—তাঁদের মধ্যে একজন বৈবস্বত এবং চারজন প্রজাপতির বংশধর। এইভাবেই মান্বন্তর থেকে মান্বন্তরে, ঋষি, দেবতা, মনু ও তাঁদের পুত্রগণ, পৃথিবীতে ধর্ম ও সৃষ্টির ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছেন।