একদিন মহর্ষিরা যখন তীর্থমহিমা আলোচনা করছিলেন, তখন তাঁরা পরম ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে একে একে স্মরণ করলেন সেই সমস্ত পবিত্র স্থান, যেগুলির দর্শন ও স্নান মানুষের পাপ মোচন ও কল্যাণ সাধন করে। তাঁরা বললেন, “পঞ্চহ্রদ, পবিত্র পিণ্ডারক, মালব্য, গোপ্রভাব, গোবর, এবং বটমূলক—এই সকল তীর্থ অত্যন্ত মহৎ। স্নানদণ্ড, প্রয়াগ, গুহ্য বিষ্ণুপদ, কন্যাশ্রম, বায়ুকুণ্ড, এবং উৎকৃষ্ট জাম্বুমার্গও তেমনই পবিত্র। গভস্তি তীর্থ, যযাতি পতন, শুচি, কোটি তীর্থ, ভদ্রবট এবং মহাকাল বনের মহিমা অপরিসীম। নর্মদার আরেকটি তীর্থ, বজ্র তীর্থ, অর্বুদ, পিঙ্গু তীর্থ, সৱশিষ্ঠ এবং পৃথসঙ্গম নামক তীর্থও অতি পবিত্র। দৌর্বাসিক তীর্থ, শুভ পিঞ্জরক, ঋষি তীর্থ, ব্রহ্মতুঙ্গ, বসু তীর্থ এবং কুমারিকা—সবই তীর্থযাত্রার মহাসাধন। শক্র তীর্থ, পঞ্চনদ, রেণুকা তীর্থ, পিতামহ-পবিত্র তীর্থ ও উৎকৃষ্ট রুদ্রপদও স্মরণীয়। মনিমত্ত, কামাক্ষ্যা, কৃষ্ণ তীর্থ, কুশবিলা, যজন, আবারও যজন এবং ব্রহ্মবলুকা—এগুলোও তীর্থের মর্যাদায় অভিষিক্ত। পুষ্পন্যাস, পুণ্ডরীক, মণিপুর, উত্তরাঞ্চল, দীর্ঘসত্র, হয়পদ ও অনশন নামক তীর্থও অতি পবিত্র। গঙ্গার উৎস, শিবের উৎস, নর্মদার উৎস, বস্রপদ, দারুবল, ছায়ারোহণ—এসবও মহাপুণ্যতীর্থ। সিদ্ধেশ্বর, মিত্রবল, কালিকাশ্রম, বটবট, ভদ্রবট, কৌশাম্বী ও দিবাকর—তীর্থযাত্রার পথে এরা অনন্য। সরস্বত দ্বীপ, বিজয়, কামদ, রুদ্রকোট, সুমনস এবং সদ্রবনমিত তীর্থও অশেষ পুণ্যবাহী। শ্যামন্তপঞ্চক তীর্থ, ব্রহ্ম তীর্থ, সুদর্শন, সমগ্র পৃথিবী সর্বদা, এবং পরিপ্লব পৃথুদক—এদেরও স্মরণ করা হয়। দশ অশ্বমেধতুল্য তীর্থ, সর্পিজ, বিষয়ান্তিক, কোটি তীর্থ, পঞ্চনদ, বরাহ ও যক্ষিণী হ্রদ—সবই পবিত্রতার আধার। পুণ্ডরীক, সোম তীর্থ, উৎকৃষ্ট মুণ্জবট, বদরীবন, অসিন ও রত্নমূলকও তীর্থমহিমায় প্রসিদ্ধ। লোকদ্বার, পঞ্চতীর্থ, কপিল তীর্থ, সূর্য তীর্থ, শঙ্খিনী এবং গাভীর আশ্রম—এসবও তীর্থযাত্রার পথচিহ্ন। যক্ষরাজের তীর্থ, ব্রহ্মবর্ত, সুতিতীর্থ, কামেশ্বর, মাত্রিতীর্থ ও শীতবন তীর্থ—এদের মহিমা অপরিসীম। স্নানলোমপহ, মাসসংসরক, দশাশ্বমেধ, কেদার ও ব্রহ্মোদুম্বর—সবই পুণ্যতীর্থ। সপ্তর্ষিকুণ্ড, দেবী তীর্থ, সুজম্বুক, ইতস্পদ, কোটি কুট, কিমদান ও কিমজপ—এসবও তীর্থের অন্তর্ভুক্ত। করন্দব, অবেধ্য, আরেকটি ত্রিবিষ্টপ, পানিশত, মিশ্রক, মধুবট ও মনোজব—তীর্থযাত্রার গন্তব্য। কৌশিকী, ঐশ্বর্য তীর্থ, ঋণমুক্তি তীর্থ, দেবতীর্থ নৃগধূমা ও বিষ্ণুপদ—সবই পুণ্যক্ষেত্র। অমর হ্রদ, কোটি তীর্থ, প্রসিদ্ধ শ্রীকুঞ্জ, শালিতীর্থ ও খ্যাতিমান নৈমিষ—তীর্থযাত্রার শ্রেষ্ঠ স্থান। ব্রহ্মস্থান, সোমতীর্থ, কন্যাতীর্থ, ব্রহ্মতীর্থ, মনস্তীর্থ ও পবিত্র কারুপাবন—এদেরও বিশেষ মান্যতা। সগন্ধিকবন, মণিতীর্থ, সরস্বতী, উৎকৃষ্ট ও পবিত্র ঈশানতীর্থ এবং পঞ্চযজ্ঞ স্থল—সবই তীর্থের মহিমা বহন করে। ত্রিশূলধার, মাহেন্দ্র, দেবতাদের প্রতিষ্ঠিত আশ্রম, শাকম্ভরী, দেবতীর্থ এবং সুবর্ণ হ্রদ—এগুলোও তীর্থের অন্তর্গত। ক্ষীরশ্রব, বিরূপাক্ষ, ভৃগু তীর্থ, কুশোদ্ভব, ব্রহ্মতীর্থ, ব্রহ্মযোনি ও নীলপর্বত—এসবও তীর্থের মর্যাদায় অভিষিক্ত। কুবজাম্বক, ভদ্রবট, বসিষ্ঠের আসন, স্বর্গদ্বার, ভুতদ্বার ও কালীর আশ্রম—তীর্থমহিমায় প্রসিদ্ধ। রুদ্রাবর্ত, সুগন্ধাশ্ব, কপিলাবন, ভদ্রকর্ণ হ্রদ ও শঙ্কুকর্ণ হ্রদ—এসবও তীর্থের অন্তর্ভুক্ত। সাত সরস্বত, ঔশনস তীর্থ, কপালমোচন, অবকীর্ণ ও কাম্যক—এগুলোও পুণ্যতীর্থ। চতুঃসমুদ্রিক, শতক, সহস্রিক, রেণুকা, পঞ্চবটক, বিমোচন ও ওজস—তীর্থযাত্রার মহাপথ। স্থানু তীর্থ, কুরু তীর্থ, স্বর্গদ্বার, কুশধ্বজ, বিশ্বেশ্বর, মানবক, কূপ ও নারায়ণের আশ্রয়—এরা সকলেই তীর্থের মহিমা বহন করে। গঙ্গাহ্রদ, অশ্বত্থ বৃক্ষ, বদরীপাটন, ইন্দ্রমার্গ, একরাত্র ও ক্ষীরকাবাস—সবই তীর্থের অন্তর্ভুক্ত। সোমতীর্থ, দধীচ, শ্রুততীর্থ, দ্বিজশ্রেষ্ঠগণ, কোটি তীর্থস্থলী ও ভদ্রকালী হ্রদ—তীর্থযাত্রার গন্তব্য। অরুন্ধতী বন, শ্রেষ্ঠ ব্রহ্মবর্ত, অশ্ববেদী, কুব্জাবন ও যমুনার উৎস—এসবও পুণ্যতীর্থ। বীর, প্রমোক্ষ, উৎকৃষ্ট সিন্ধু, ঋষ, কুল্যা, সকৃত্তিক, উর্বীসংক্রমণ ও মায়াবিদ্যা উৎস—তীর্থের মহিমা বহন করে। মহাশ্রম, বৈতসিকারূপ, সুন্দরিকাশ্রম, বাহু তীর্থ, সুন্দর নদী ও বিমলাশোক—তীর্থযাত্রার পথে উল্লেখযোগ্য। পঞ্চনদ তীর্থ, জ্ঞানী মর্কণ্ডেয়ের স্থান, সোমতীর্থ, সিতোদা ও মৎস্যোদরী তীর্থও পুণ্যক্ষেত্র। সূর্যপ্রভা, সূর্যতীর্থ, অশোকবন, অরুণাস্পদ, কামদ ও শুক্রতীর্থের বালুকা—তীর্থযাত্রার গন্তব্য। পিশাচমোচন, সুবদ্রা হ্রদ, বিমলদণ্ড কুণ্ড ও চণ্ডেশ্বর তীর্থ—সবই পবিত্র স্থান। পবিত্র জ্যেষ্ঠস্থান হ্রদ, ব্রহ্মসর, জৈগীষব্য গুহা ও হরিকেশ বৃক্ষবন—এগুলোও তীর্থের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও অজামুখ হ্রদ, ঘণ্টাকর্ণ হ্রদ, পুণ্ডরীক হ্রদ ও কার্কোটক কূপ—সবই তীর্থমহিমায় প্রসিদ্ধ। এভাবেই মহর্ষিগণ একাগ্রচিত্তে সকল পবিত্র তীর্থের নাম উচ্চারণ করলেন এবং জানালেন, এইসব স্থানে যাত্রা, স্নান ও পূজা মানুষের জীবনের পাপ নাশ করে, পরম কল্যাণ ও মুক্তি দান করে।