রাজা রণধীরের নগরীতে এক গভীর সংকট দেখা দিল। চোরেরা প্রচুর চুরি করা ধন-সম্পদ জোরপূর্বক এক গর্তে রেখে দিল। রাজাকে বলা হলো, ‘‘হে রাজন, চলুন আমরা আপনার এই নগরী ত্যাগ করি—এখানে চোর-ডাকাতদের উৎপাত বেড়ে গেছে, যারা হিংসা ও চুরির পথে নিবেদিত।’’ রাজা আদেশ দিলেন, তারপর তিনি গৃহে গেলেন। সবাই শুনে সেই অনুযায়ী কাজ করল। এরপর রাক্ষসীর মায়াজালে সমস্ত প্রহরীরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ল। আবার তারা রাজা রণধীরের কাছে গিয়ে সব ঘটনা জানাল। মধ্যরাতে, যখন চারদিক অন্ধকার, সেই চোর রাজা’র কাছে এল। রাজা বললেন, ‘‘আমি রাজা, আর তুমি চোর; তুমি আমার আহ্বানে এসেছ।’’ রাজা আরও বললেন, ‘‘আমার সঙ্গে প্রচুর ধন-সম্পদ নিয়ে সুখে থাকো।’’ রাত্রে গর্তে গিয়ে চোর রাজাকে বাইরে রেখে দিল। সে বলল, ‘‘হে রাজন, দ্রুত আপনার গৃহে ফিরে যান।’’ এই কথা বলে সে রাজাকে অন্য পথ দেখিয়ে দিল। এরপর রাক্ষসী সৈন্যসহ সেই চোরের কাছে এল। সে চোরকে সম্মান জানিয়ে সব ঘটনা বর্ণনা করল; হাসতে হাসতে রাক্ষসী বলল, ‘‘তুমি আমার আহারের ব্যবস্থা করেছ।’’ তিনি বললেন, ‘‘আজ আমি সকল পুরুষকে ভাগ্যের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে ভক্ষণ করব।’’ রাক্ষসী বিশাল সৈন্যবাহিনীকে গ্রাস করল; সবাই দশ দিক দিয়ে পালিয়ে গেল। তখন চোর রাজার কাছে গিয়ে ক্রুদ্ধভাবে কথা বলল। রাজা শুনে দ্রুত সেখানে এলেন। রাক্ষসীসহ সেই গর্ত মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেল। এরপর রাক্ষসী সমস্ত ধন-সম্পদ ও নারীদের সঙ্গে ফিরে গেল। নগরীর প্রতিটি ঘরে ঢাক-ঢোল বাজতে লাগল। সেই দিনে, নগরীতে চোরকে গাধার পিঠে বসিয়ে ঘোরানো হলো। তার চেহারা দেখে, সুখে মগ্ন নারী অজ্ঞান হয়ে পড়ল। চোর রাজাকে গিয়ে বলল, ‘‘পাঁচ লক্ষ ধন আমার।’’ রাজা হাসতে হাসতে বললেন, ‘‘সে চোর, ধন-সম্পদের লুটেরা।’’ এই কথা শুনে চোর নিরাশ হয়ে মৃত্যুবরণ করল। ঠিক সেই মুহূর্তে, তার কন্যা দেবী-মায়ায় বিভ্রান্ত হলো। এরপর দেবী দুর্গা প্রসন্ন হয়ে তাদের দীর্ঘায়ু বর দিলেন। এই কথা বলে তিনি আবার রাজাকে হাসিমুখে বললেন, ‘‘আমি আমার প্রতি স্নেহশীল তার জন্য কী দেব?’’ ‘‘তাই আমি পরে কেঁদেছিলাম—আমার হাসির কারণ শুনো। যে অধর্মে লিপ্ত, সে স্বর্গের ফল পাওয়ার যোগ্য নয়। তাই সে প্রথমে হাসল, কারণ সে হরির লীলায় বিভ্রান্ত ছিল। এই কারণে সে কঠোর কথা বলল, আর বিশুদ্ধজন জীবিত রক্ষা পেল।’’ হে রাজন, এরপর ছিল এক মনোরম নগরী—পুষ্পাবতী। সেখানে এক রাজা বাস করতেন। তার স্ত্রীর নাম ছিল চন্দ্রপ্রভা; তিনি ছিলেন সৌন্দর্য ও যৌবনে ভরপুর। একদিন, তিনি তাঁর সখীদের সঙ্গে ফুলে ভরা এক বনে গেলেন। সেখানে রানি মুগ্ধ হলেন, আর এক ব্রাহ্মণও ভূমিতে পড়ে গেলেন। রানি ফিরে গেলে, দুই ব্রাহ্মণ সেখানে এলেন। আগত ব্রাহ্মণকে দেখে, যিনি সৌন্দর্য ও যৌবনে সমৃদ্ধ ছিলেন, তিনি সব শুনে কেঁদে ফেললেন এবং সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন।