পদ্মাবতী তাঁর সখীদের সঙ্গে হ্রদের মাঝখানে আনন্দময় খেলায় মেতে ছিলেন। সেই সময় তাঁর সৌন্দর্য ও গুণে সমান এক কুমারী পদ্মাবতীকে সকলেই দেখল। অন্যদিকে, বজ্রমুকুট ঘুম থেকে জেগে উঠে প্রার্থনা করলেন—‘শিব শঙ্কর, আমাকে রক্ষা করুন।’ তিনি নিজের মাথা থেকে একটি পদ্মফুল তুলে নিয়ে তা কানে গুঁজে দিলেন। পরে সেই ফুলটি আবার তুলে নিজের বুকে রাখলেন। এরপর বজ্রমুকুট তাঁর পিতার সঙ্গে তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে পর্বতের অরণ্যে এলেন। সেখানে তিনি প্রবল মানসিক যন্ত্রণায় পড়ে বিভ্রমে আক্রান্ত হলেন। তাঁর চিত্তে সদা তরুণী পদ্মাবতীর স্মৃতি ঘুরপাক খেতে লাগল, আর তিনি মৌনব্রত গ্রহণ করলেন। সর্বত্র লোকেরা দুঃখে বলাবলি করতে লাগল—‘রাজপুত্রের কী দশা হয়েছে!’ তখন কেউ বজ্রমুকুটকে বলল, ‘রাজন, সত্য কথা বলো।’ এই কথা শুনে জ্ঞানী বুদ্ধিদক্ষ হেসে রাজাকে বললেন, ‘তিনি কর্ণাটের রাজা দন্তবক্ত্রের কন্যা।’ তিনি আরও বললেন, ‘ফুলের চিহ্ন দেখে আমি তোমাকে তাঁর কাছে নিয়ে যাব।’ তখন তিনি বললেন, ‘রাজন, আদেশ দিন; আমি কর্ণাটে যাব।’ আবার বললেন, ‘আপনার পুত্রকে বাঁচাতে চাইলে—আমি অবশ্যই যাব, এতে সন্দেহ নেই।’ তখন ঘোড়ায় চড়ে দ্রুত তাঁরা দন্তবক্ত্রের নগরে পৌঁছালেন। বুদ্ধিদক্ষ সেই বৃদ্ধাকে অনেক ধন-সম্পদ দিলেন। সকালে সেই বৃদ্ধা রাজপ্রাসাদে গেলেন। তিনি গোপনে পদ্মাবতীর কাছে পৌঁছে আমার বার্তা দিলেন—‘তোমার জন্য এক সুন্দর পুরুষ এখানে এসেছে।’ পদ্মাবতী রেগে গেলেন, চন্দনের লেপে আঙুল ভেজা অবস্থায় কথা বললেন। আঙুলে গাল ছুঁয়ে তিনি বাড়ি ফিরে গেলেন। এদিকে, তাঁর দুঃখিত বন্ধুকে কেউ বলল, ‘বন্ধু, শোনো, দুঃখ ত্যাগ করো।’ আরও বলল, ‘তোমার জন্য আমার বক্ষ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে—কবে তুমি আমার বন্ধু হবে?’ ‘বন্ধু, ঋতুস্রাব শেষ হলে আমি তোমার মুখে চুম্বন দিয়েছিলাম।’ তিন দিন পর সেই বৃদ্ধা এসে পদ্মাবতীকে সব জানালেন। তিনি বললেন, ‘আজই তাঁর সঙ্গে একত্র হও, সুন্দর নিতম্বিনী, জীবন সার্থক করো।’ তখন জানালার দরজা দিয়ে বের করে তাঁকে পিঠ ও নিচে আঘাত করা হল। তবু সন্তুষ্ট ও চতুর মিত্র বলল, ‘বন্ধু, শোনো!’—‘মধ্যরাতে এসো, কামনায় ক্লান্ত আমাকে উপভোগ করো।’ মহান প্রেমিক দ্রুত এসে সেই নারীকে আনন্দ দিলেন। তিনি তাঁর প্রিয় পদ্মাবতীকে বললেন, ‘শোনো, চন্দ্রমুখী, আমার কথা।’ তখন সেই বন্ধু বুদ্ধিদক্ষ বললেন, ‘সে এখন কোথায়?’ বজ্রমুকুটের কথা বজ্রাঘাতের মতো কঠোর ছিল; তা শুনে বুদ্ধিদক্ষ চিত্রগুপ্তের পূজায় নিবেদিত হলেন। এদিকে রাজা তাড়াহুড়ো করে এসে পৌঁছালেন। তিনি বললেন, ‘বন্ধু, কেন তুমি আমার প্রিয়ার রান্না করা আহার গ্রহণ করোনি?’ পরে তিনি আহার করলেন এবং মৃত্যু বরণ করলেন; রাজা এই দৃশ্য দেখে বিস্মিত হলেন। তখন কেউ বলল, ‘বন্ধু, দ্রুত বাড়ি ফিরে যাও; পাপিষ্ঠ নারীকে আমি ত্যাগ করেছি।’ ‘ওই অলংকারটি নিয়ে এসে তাঁর হাঁটুর কাছে ত্রিশূল রাখো।’ এই কথা শুনে রাজা গিয়ে তাই করলেন এবং ফিরে এলেন।