শক জাতির বিনাশ ও মহৎ ধর্মের বিস্তারের জন্য এক বিশিষ্ট উদ্দেশ্যে জন্ম নিলেন বিক্রমাদিত্য। তাঁর পিতা তাঁকে পেয়ে পরম আনন্দে অভিভূত হলেন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বিক্রমাদিত্য তপস্যার জন্য অরণ্যে গমন করেন। পরে তিনি ঐশ্বর্যশালী অম্বাবতী নগরীতে উপস্থিত হন। শিবের প্রেরণায় তিনি সেখানে গৃহীত স্থান ও দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একদিন, সেই বীর রাজা মহাকালেশ্বরের পবিত্র স্থানে গেলেন। সেখানে তিনি এক বিশাল সভাগৃহ নির্মাণ করালেন, যা ধর্মপরায়ণতায় পূর্ণ ও বিস্তৃতভাবে সাজানো ছিল। নানা বৃক্ষ ও লতায় শোভিত, ফুলে ভরা সেই স্থানে তিনি শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণদের আহ্বান জানালেন—যাঁরা বেদ ও বেদাঙ্গে পারদর্শী। তখন সেই স্থানে এক দেবতা, ভেতাল, আবির্ভূত হলেন। এক ব্রাহ্মণ আসনে বসে রাজাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “আমি তোমাকে মহৎ কাহিনি, প্রাচীন উপাখ্যানের সংগ্রহ বর্ণনা করব।” শিবকে মনে স্থাপন করে তিনি রাজাকে বললেন, “মহেশ্বরের অধিষ্ঠান যেখানে, সেই মনোরম নগরী বারাণসী। সেখানে চতুর্বর্ণের মানুষ বাস করেন এবং রাজা গৌরবময় মুকুট ধারণ করেন। তাঁর পুত্র বজ্রমুকুট মন্ত্রিপরিষদ ও তাদের সন্তানদের প্রিয়। মন্ত্রীর পুত্র বুদ্ধিদক্ষ জ্ঞান ও দক্ষতায় প্রসিদ্ধ। একদিন সে এক মনোরম অরণ্য দেখল, যেখানে বিচিত্র পশু-পাখি বিচরণ করছিল। সেখানে ছিল এক অপূর্ব, দেবতুল্য হ্রদ, পাখিদের কলরবে মুখরিত। সেই স্থান দেখে দুই বীর—বজ্রমুকুট ও বুদ্ধিদক্ষ—পরম আনন্দ লাভ করলেন। ওদিকে দন্তবক্ত্র রাজার কন্যা, পদ্মাবতী, সবার কাছে সম্মানিত। তিনি তাঁর সখীদের সঙ্গে হ্রদের মাঝে আনন্দময় খেলায় মত্ত ছিলেন। পদ্মাবতীকে দেখে বজ্রমুকুট তাঁর সৌন্দর্য ও গুণে বিমুগ্ধ হন। স্বপ্নভঙ্গ হলে বজ্রমুকুট শিব শঙ্করকে প্রার্থনা করেন, ‘আমাকে রক্ষা করুন।’ পদ্মাবতী তাঁর শিরে থাকা পদ্মফুলটি নিয়ে কানে রাখেন, পরে সেটি আবার হৃদয়ে স্থাপন করেন। পরে বজ্রমুকুট পিতার সঙ্গে পাহাড়ের অরণ্যে তীর্থযাত্রায় যান, কিন্তু তাঁর মনে গভীর অস্থিরতা ও মোহ জন্মে। পদ্মাবতীর চিন্তায় নিমগ্ন হয়ে তিনি মৌন ব্রত গ্রহণ করেন। সর্বত্র লোকেরা শোক প্রকাশ করতে থাকে—‘রাজপুত্রের কী দশা হয়েছে!’ তখন কেউ বজ্রমুকুটকে বলল, ‘হে রাজন, সত্য বলো।’ জ্ঞানী বুদ্ধিদক্ষ এ কথা শুনে হাসলেন ও রাজাকে বললেন, ‘তিনি কর্ণাট দেশের রাজা দন্তবক্ত্রের কন্যা পদ্মাবতী। ফুলের চিহ্ন দেখে আমি তোমাকে তাঁর কাছে নিয়ে যাব। হে রাজন, আদেশ দিন; আমি কর্ণাটে যাব।’ তিনি আরও বললেন, ‘আপনি চাইলে নিশ্চয়ই আমি যাব, যাতে আপনার পুত্র বেঁচে থাকে।’ তখন ঘোড়ায় চড়ে তাঁরা দ্রুত দন্তবক্ত্রের নগরে পৌঁছালেন। বুদ্ধিদক্ষ এক বৃদ্ধাকে প্রচুর ধন দিলেন। সকালে সেই বৃদ্ধা রাজপ্রাসাদে গেলেন। গোপনে পদ্মাবতীর কাছে পৌঁছে আমার বার্তা জানালেন—‘তোমার জন্য এক সুপুরুষ এখানে এসেছে।’ পদ্মাবতী তখন চন্দনলেপিত আঙুলে ক্রোধ প্রকাশ করে কথা বললেন...