একদিন এক রাজ্যে, জমি, পশু, মালিকানা ও শ্রমের নানা বিষয়ে ন্যায়বিচারের নিয়মাবলি নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, এমন বাঁধ যা সামান্য ক্ষতি করে অথচ উপকারে আসে, তা নিষিদ্ধ নয়; কিন্তু যদি কোনো কুয়ো অন্যের জমিতে হয়, জায়গা ছোট হলেও তাতে বেশি জল থাকলে তা অনুমোদিত নয়। কেউ যদি জমির মালিককে না জানিয়ে মাঠে বাঁধ তৈরি করে, মালিক উপস্থিত থাকলে তিনি তার সুবিধা ভোগ করবেন, অনুপস্থিত থাকলে রাজা ভোগ করবেন। আরও বলা হয়, যদি কেউ চাষ না করে বা চাষ করায় না এমন জমি চাষের জন্য প্রস্তুত থাকে, তবে তাকে অনাবাদী ফসলের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং অন্যকে দিয়ে জমি চাষ করাতে হবে। পশু দ্বারা ফসল নষ্ট হলে, যেমন মহিষের জন্য আট মাসের জরিমানা, গরুর জন্য তার অর্ধেক, এবং ভেড়া বা ছাগলের জন্য গরুর জরিমানার অর্ধেক ধার্য হয়। পশু খেয়ে বসে থাকলে জরিমানা দ্বিগুণ হয়; আলাদা ঘেরায় থাকলে মহিষের জরিমানা গরুর সমান হয়। যতটুকু ফসল নষ্ট হয়, ততটুকু মালিককে দিতে হবে; রাখালকে শাস্তি দেওয়া হবে, এবং গরুর মালিককে পূর্বে নির্ধারিত জরিমানা দিতে হবে। গ্রাম সীমান্তে বা পথে জমিতে প্রবেশ করলে কোনো দোষ নেই, কিন্তু ইচ্ছাকৃত হলে চুরির মতো শাস্তি হয়। বড় ষাঁড় দ্বারা ছেড়ে দেওয়া গরু, প্রসবকালীন গরু বা সদ্য আগত গরুর রাখালদের মুক্তি দেওয়া হয়, কারণ তারা ভাগ্য বা রাজা দ্বারা কষ্টে পড়ে। রাখালকে সন্ধ্যায় যেমন গরু দেওয়া হয়েছিল, তেমনই ফিরিয়ে দিতে হবে; অবহেলা বা মৃত্যুর ফলে হারানো গরুর জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যদি রাখালের ভুলে ক্ষতি হয়, তবে তার ওপর তেরো ও অর্ধ পণ জরিমানা ধার্য হয় এবং মালিককে সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। গ্রামবাসী বা রাজা চাইলে গরু চরে বেড়ায়, তখন দ্বিজাতি সর্বত্র নিজের মতো ঘাস, কাঠ ও ফুল নিতে পারে। গ্রাম ও মাঠের দূরত্ব একশো ধনুক, পল্লীর জন্য দুই ধনুক, শহরের জন্য চারশো ধনুক নির্ধারিত। নিজের মালিকানা যদি বিক্রি না হয়, তবে তা পুনরুদ্ধার করা যায়; ক্রেতা যদি তা প্রকাশ না করে, সে দোষী; কম দামে, অনুপযুক্ত সময়ে বা সঠিক সীমানা ছাড়া কিনলে সে চোর। হারানো বা চুরি হওয়া সম্পত্তি পাওয়া গেলে চোরকে কর্তৃপক্ষের কাছে আনতে হয়; সময় ও স্থান অতিক্রম করলে নিজে নিয়ে ফিরিয়ে দিতে হয়। বস্তু দেখিয়ে বিক্রেতা শুদ্ধ হয়; মালিক সম্পত্তি ফেরত পায়, রাজা জরিমানা পায়, ক্রেতা দাম পায়—এভাবে বিক্রেতা এই নিয়মে বাঁধা। ব্যবহার বা প্রকৃতির দ্বারা হারালে তেমন হিসাব করা হয়; অন্যভাবে হলে রাজা পাঁচগুণ জরিমানা ধার্য করেন, প্রমাণিত না হলেও। চুরি বা হারানো সম্পত্তি অন্যের কাছে পেলে রাজাকে না জানালে ছিয়ানব্বই পণ জরিমানা দিতে হয়। রক্ষক বা পাহারাদারদের চেষ্টায় হারানো বা চুরি হওয়া সম্পত্তি উদ্ধার হলে মালিক এক বছরের মধ্যে ফেরত নিতে পারে; পরে রাজা তা অধিকার করেন। একখানা পশুর জন্য চার পণ, মানুষের জন্য পাঁচ, মহিষ, উট বা গরুর জন্য দুই, ভেড়া ও ছাগলের জন্য এক চতুর্থাংশ পণ দিতে হয়। স্ত্রী ও সন্তান ছাড়া নিজের পরিবারের বিরোধিতা ছাড়া সম্পত্তি দেওয়া যায়; উত্তরাধিকারী থাকলে সব সম্পত্তি বা অন্যকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সম্পত্তি দেওয়া যায় না। গ্রহণ প্রকাশ্যে করতে হয়, বিশেষত অস্থাবর সম্পত্তির জন্য; প্রতিশ্রুত বস্তু দেওয়া উচিত, একবার দেওয়া হলে ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। বীজ, গবাদি পশু, রত্ন, নারী ও পুরুষের জন্য দশ, এক, পাঁচ, সাত দিন, এক মাস, তিন দিন, অর্ধ মাস অপেক্ষার সময় নির্ধারিত। সোনার জন্য প্রতি একশোতে দুই পালা ক্ষতি, রুপার জন্য একশো, টিন ও সীসার জন্য আট, তামা ও লোহা জন্য পনেরো পালা ক্ষতি নির্ধারিত। উলের ও তুলার জন্য প্রতি একশোতে দশ পালা বৃদ্ধি, মাঝারি মানে পাঁচ পালা, উন্নত মানে তিন পালা। চামড়া বা চুল বাঁধা বস্তুতে একত্রিশ ভাগ ক্ষতি, রেশম ও বাকল কাপড়ে কোনো ক্ষতি বা বৃদ্ধি নেই। স্থান, সময়, ব্যবহার, ক্ষতির শক্তি-দুর্বলতা জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা নির্ভুলভাবে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করবেন। চোর বা বিক্রি করে জোরপূর্বক দাস বানানো হলে মুক্ত করতে হয়; মালিক ভক্তি, উপবাস বা দাম দিয়ে তাকে ফেরত পায়। দাস সন্ন্যাস গ্রহণ করলে রাজা আদেশ দিলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দাসত্ব থাকে; জাতি বিরুদ্ধ বা উল্টোভাবে দাসত্ব দেওয়া যায় না। ছাত্র পড়াশোনা শেষ করেও নির্ধারিত সময় গুরুগৃহে থাকতে হয়; শিক্ষক খাবার দেন, ছাত্র উপযুক্ত দক্ষিণা দেয়। রাজা শহরে নির্দিষ্ট স্থানে তিন বেদে পারদর্শী, জীবিকার ব্যবস্থা আছে এমন ব্রাহ্মণকে নিয়োগ করেন, তাকে নিজের ধর্ম পালনের নির্দেশ দেন। যে ব্যক্তি নিজের ধর্ম লঙ্ঘন না করে চুক্তি পালন করে, রাজা নির্ধারিত ধর্মও মানে, তাকে রক্ষা করতে হয়। কেউ সমষ্টির সম্পত্তি অপব্যবহার বা চুক্তি ভঙ্গ করলে রাজা তার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাজ্য থেকে তাড়িয়ে দেন। সমিতির কল্যাণে যাঁরা কথা বলেন, তাঁদের সিদ্ধান্ত মানতে হয়; কেউ বিপরীত করলে প্রথমে জরিমানা হয়। সমিতির কাজের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত যা পায়, তা উপস্থাপন করতে হয়; না করলে এগারো গুণ দিতে হয়। যাঁরা বেদজ্ঞ, শুদ্ধ ও লোভহীন, তাঁরাই আলোচনা করবেন; তাঁদের কথাই মানতে হয়। এই নিয়ম গোষ্ঠী, ব্যবসায়ী, মতভেদকারী ও দলের জন্যও প্রযোজ্য; রাজা তাঁদের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা ও প্রচলিত রীতির পালন করবেন। বেতন পাওয়া শ্রমিক কাজ ছেড়ে দিলে দ্বিগুণ জরিমানা, না পেলে সমান জরিমানা, মালিককে যন্ত্রপাতি রক্ষা করতে হয়। ব্যবসা, গরু বা শস্য থেকে লাভের দশভাগ দিতে হয়; বেতন নির্ধারণ না হলে রাজা নির্ধারণ করবেন। নির্ধারিত স্থান, সময় ছাড়লে বা কাজ অন্যভাবে করলে মালিককে অতিরিক্ত দিতে হয়; বেশি কাজ হলে বেশি দেওয়া হয়। যে যত কাজ করে, তত বেতন পায়; কোনো পক্ষ চুক্তি না মানলে শুনে বিচার করতে হয়। এভাবেই সেই রাজ্যে জমি, পশু, মালিকানা, শ্রম ও ব্যবসার নানা নিয়মাবলি নির্ধারিত হল, যাতে সকলের ন্যায় ও কল্যাণ বজায় থাকে।