সুপ্রভাত, শ্রোতা। এখন আমি তোমাকে দেবদারুণ আদি পুরাণের এই পর্বের কাহিনী শোনাবো, যেখানে দেবী, দেবতা, এবং তাদের অনুচরদের বিস্ময়কর রূপ ও গুণাবলীর বর্ণনা রয়েছে। দেবীর মুখ সুন্দর, তাঁর চোখ বিড়ালের মতো ধারালো। তাঁর পাশে আছেন স্কন্দ, যিনি ময়ূরের ওপর চড়ে রয়েছেন। শ্বামী, শাখা, ও বিশাখা—এই তিনটি শিশুরূপে, দুই হাত নিয়ে উপস্থিত। দেবীর ডান দিকে শাক্তি ও একটি মোরগ, কখনও এক মুখ, কখনও ছয় মুখ; গ্রামে তাঁর বারো হাত, জঙ্গলে দুই হাত। তাঁর হাতে আছে বর্শা, তীর, ফাঁস, তরবারি, ঢাল, এবং সতর্কবার্তা। ডান হাতে বর্শা, ছয়টি বাঁ হাতে একইভাবে বর্শা। তিনি ময়ূরের পালক দিয়ে সজ্জিত, হাতে ঢাল, পতাকা, অভয়মুদ্রা, ও মোরগ। কখনও ভয়ংকর, কখনও শান্ত, তিনি মাথার খুলি, ছুরি, ত্রিশূল, ও ফাঁস ধারণ করেন। রুদ্রচর্চিকা দেবী, হাত ও পা উঁচু করে, হাত আটটি, মাথা ও কটিবন্ধ দিয়ে সজ্জিত, হাতি চামড়া পরিহিতা। তিনি রুদ্র-চামুণ্ডা, নৃত্যগণ্যা, নৃত্যরত; এই মহালক্ষ্মীই চার মুখে আসীন। তাঁর হাতে মানুষ, ঘোড়া, মহিষ—সবকিছু গ্রাস করেন; দশ হাত, তিন চোখ, অস্ত্র, তরবারি, ত্রিশূল ধারণ করেন। ডান হাতে ঘণ্টা, ঢাল, গদা, ত্রিশূল; তাঁকে সিদ্ধ-চামুণ্ডা বলা হয়। সিদ্ধ-যোগেশ্বরী দেবী, সমস্ত সিদ্ধি প্রদান করেন; তাঁর আরেক রূপ লাল, ফাঁস ও অঙ্কুশে সজ্জিত। ভৈরবী, জ্ঞানের রূপ, বারো হাতে সজ্জিত। এই আটটি ভয়ংকর মাতৃকা, শ্মশান থেকে উদ্ভূত, স্মরণীয়। ধৈর্যশীল, শুভ্র, বৃদ্ধ, দুই হাতে, মুখ খোলা, দাঁত উঁচু, কল্যাণপ্রদ, মাটিতে বসে হাঁটুতে হাত রাখেন। যক্ষিণীরা কঠিন, লম্বা চোখে; শাকিণীরা তির্যক দৃষ্টিতে; পীত চোখে, অতি সুন্দর, সর্বদা অপ্সরার মতো। নন্দি, রুদ্রদ্বারে, হাতে জপমালা ও ত্রিশূল নিয়ে দ্বাররক্ষী; মহাকাল, কাটা মাথা, হাতে বর্শা ও গদা। কৃশ ভৃঙ্গি নৃত্যরত, সঙ্গে কুমাণ্ডা—স্থূল ও বামন; হাতি, গরু ও অন্যান্য পশুর মুখের অনুচর, বিরভদ্রের নেতৃত্বে। ঘণ্টা-কর্ণ, দশ ঠোঁট, দশ হাত, পাপ ও রোগ ছিঁড়ে ফেলেন; বজ্র, তরবারি, দণ্ড, চক্র, মুষল, অঙ্কুশ, গদা ধারণ করেন। ডান হাতে হুমকি, ঢাল, বর্শা, খুলি, ফাঁস; ধনুক, ঘণ্টা, কুঠার; দুই হাতে ত্রিশূল। দেবতা, ঘণ্টার মালা দিয়ে সজ্জিত, বিস্ফোরক শক্তিতে চূর্ণ ও ধ্বংস করেন। এরপর, ভগবান বলেন—সূর্য দেবতা, সাত ঘোড়ার রথে, এক চাকা, দুই হাতে দুটি পদ্ম, হাতে কালি ও কলম, ডান হাতে জলপাত্র। বাঁ পাশে পিঙ্গলা, দ্বারে, হাতে দণ্ড, সূর্যের সেবক; দুই পাশে দুই নারী, চামর দিয়ে, রাণী, কান্তিহীন। কখনও ভাস্কর একা ঘোড়ায়, দিকপালগণ অস্ত্র হাতে, দুই পদ্ম হাতে, বর প্রদান করেন, শৃঙ্খলা অনুযায়ী। তারা দিকগুলিতে দাঁড়িয়ে, হাতুড়ি, ত্রিশূল, চক্র, পদ্ম ধারণ করেন; সূর্য, আর্যমান ও অন্যান্য দিকপাল, চার হাতে, বারো পাপড়ির পদ্মে স্থাপিত। বরুণ, সূর্য নামে; সাহস্রাংশু, ধাতা, তাপন, সবিতা, গভস্তিকা; রবি, পার্জন্য, ত্বষ্টা, মিত্র, বিষ্ণুক; রাশি অনুযায়ী, মকর থেকে শুরু, মার্গশীর্ষ থেকে কার্ত্তিক। কালো, লাল, হালকা লাল, হলুদ, ফ্যাকাশে, সাদা, পীত, সোনালি, টিয়া সবুজ, উজ্জ্বল সাদা। ধূসর ও নীল—এই রংগুলো ধারাবাহিক। রশ্মির শিখরে শক্তি—ইড়া, সুষুম্না, বিশ্বর্চি, ইন্দু, প্রমার্দিনী। গ্রহর্ষিণী, মহাকালী, কপিলা, প্রবোধিনী; নীলাম্বরা, মেঘে, অমৃত—এগুলো শক্তি। বরুণ থেকে শুরু, তাদের রং রশ্মির শিখরে; তেজ, ভয়ংকর, দুই হাতে, পদ্ম ও তরবারি। কুন্ডিকা, জপমালা ও চাঁদ; কুজা, বর্শা ও জপমালা; বুধ, ধনুক ও জপমালা; জীব, জলপাত্র ও জপমালা। শুক্র, পাত্রের মালা, ঘণ্টার মালা, হার কামনা করেন; রাহু, অর্ধচাঁদ; কেতু, তরবারি ও দীপ। অনন্ত, তক্ষক, কর্ক্ক, পদ্ম, মহাব্জ, শঙ্খক, কুলিক—সব সর্প, ফণাধারী, মালাবদ্ধ, দীপ্তিময়। মকর রাশিতে বরুণ, হাতে ফাঁস; বায়ু, পতাকা; মৃগ রাশিতে কুবের, গদা হাতে, মেষে আসীন; ঈশান, জটা, বৃষে চড়ে। দিকপালগণ, দুই হাত; বিশ্বকর্মা, পাশার মালা; হনুমান, বজ্র হাতে, পা দিয়ে চাপ দেন। কিন্নর, বীণা হাতে; বিদ্যাধর, মালা পরে, আকাশে বাস; পিশাচ, দুর্বল অঙ্গ; ভেতাল, বিকৃত মুখ। ক্ষেত্ররক্ষক, বর্শা হাতে; ভূত, বৃহৎ পেট ও কৃশ। ভগবান বলেন, এখন আমি আটটি যোগিনী গোষ্ঠীর কথা বলব—ইন্দ্র থেকে ঈশান পর্যন্ত: অক্ষোব্যা, রুক্ষকর্ণী, রাক্ষসী, কৃপণাক্ষয়া। পিঙ্গাক্ষী, ক্ষয়া, ক্ষেমা, ইলা, লীলালয়া, লোল, লক্তা, বালাকেশী, লালসা, বিমলা। হুতাশা, বিশালাক্ষী, হুঙ্কারা, বডবামুখী, মহাক্রূরা, ক্রোধনা, ভয়ংকরী, মহাননা। সর্বজ্ঞা, তলা, তারা, ঋগ্বেদা, হয়ননা, সারাখ্যা, রুদ্রসংগ্রাহী, সাম্বরা, তালজঙ্ঘিকা। রক্তাক্ষী, সুপ্রসিদ্ধা, বিদ্যুজ্জিহ্বা, কারঙ্কিণী, মেঘনাদা, প্রচণ্ডগ্রা, কালকর্ণী, বরপ্রদা। চন্দ্রা, চন্দ্রাবলী, প্রপঞ্চা, প্রলয়ান্তিকা, শিশুবক্ত্রা, পিশাচী, পিশিতাশা, লোলুপা। এইভাবেই দেবী, দেবতা, এবং তাঁদের অনুচরদের অসীম রূপ ও শক্তির বিস্ময়কর বর্ণনা আমাদের সামনে উদ্ভাসিত হয়।