এক সময়ের কথা, মহাভারতের এই মহাকাব্যে, যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে এক গভীর বেদনা ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছিল। যুদ্ধের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করে ধৃতরাষ্ট্রের মনে এক অন্ধকার ছেয়ে যায়। তিনি জানতেন, এই যুদ্ধে মাত্র দশজন বেঁচে ফিরেছে—তাদের মধ্যে তিনজন কৌরব এবং সাতজন পাণ্ডব। কশ্যত্রিয়াদের এই ভয়ঙ্কর যুদ্ধে আঠারো অক্ষৌহিণী সেনা ধ্বংস হয়ে গেছে। ধৃতরাষ্ট্রের মন বিষণ্ণ হয়ে যায়, যেন মায়া তার ওপর ছেয়ে গেছে। তিনি সুতাকে বলেন, "আমি আমার অনুভূতি হারিয়ে ফেলেছি, আমার মনে অস্থিরতা বিরাজ করছে।" এই কথা বলার পর তিনি গভীর শোকে অচেতন হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর যখন তিনি জ্ঞান ফিরে পান, তখন সঞ্জয়কে ডাকেন। "সঞ্জয়, আমি আর বাঁচতে চাই না। আমার জীবনের কোনো মূল্য নেই," তিনি বলেন। রাজা ধৃতরাষ্ট্রের এই বিষণ্ণতা দেখে গাভলগণ, যিনি বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ, তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, "মহান বংশের রাজারা, যারা দেবী অস্ত্রের দক্ষ ছিলেন এবং যাদের গুণে পৃথিবী জয়ী হয়েছিল, তাদের কথা মনে করুন। তাদের মধ্যে অনেকেই সময়ের হাতে পরাজিত হয়েছেন।" গাভলগণ রাজাকে স্মরণ করিয়ে দেন সেই সব মহান রাজাদের কথা, যারা নিজেদের কর্মের মাধ্যমে সুনাম অর্জন করেছিলেন। শৈব্য, শ্রিঞ্জয়, বাহলিকা, চেদির রাজা, শার্যতি, বিশ্বামিত্র—এমন বহু রাজা ছিলেন, যাদের গুণে পৃথিবী গর্বিত। তাদের মধ্যে ছিলেন রাম, যিনি দাশরথের পুত্র, এবং যিনি অসংখ্য যজ্ঞ ও সৎকর্মে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। গাভলগণ আরও বলেন, "সময়ের নিয়ম অতিক্রম করা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। সময়ই সবকিছু সৃষ্টি করে এবং সময়ই সবকিছু ধ্বংস করে। সময়ের নিয়মে, আমাদের জীবনের সুখ-দুঃখও নিহিত।" তিনি ধৃতরাষ্ট্রকে বোঝান যে, সময়ের হাতে আমাদের সকলের জীবন এবং মৃত্যু নির্ধারিত। রাজা ধৃতরাষ্ট্র, গাভলগণের এই বাণী শুনে কিছুটা শান্ত হন। তিনি মনে মনে উপলব্ধি করেন, "এটি আমার ভাগ্য, যা ঘটছে।" তিনি ধৈর্য ধারণ করেন এবং আত্মসংযমের পথ অবলম্বন করেন। এই সময়, গম্ভীর এবং জ্ঞানী sage কৃষ্ণ দ্যৈপায়ন এখানে উক্তি করেন, "যে কেউ মহাভারতের একটি অধ্যায়ও বিশ্বাসের সাথে অধ্যয়ন করে, সে সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি পায়।" তিনি দেবতা, ঋষি, এবং মহান কর্মশীলদের গুণগান করেন, যারা তাদের মহৎ কাজের জন্য পরিচিত। এভাবেই, মহাভারতের এই অধ্যায়ে ধৃতরাষ্ট্রের বেদনা, সময়ের অমোঘ নিয়ম এবং মহৎ রাজাদের গুণাবলীর কথা একত্রিত হয়ে একটি গভীর ও প্রভাবশালী চিত্র তৈরি করে, যা মানব জীবনের সত্যকে তুলে ধরে।