একদিন, এক মহাজ্ঞানী ব্যক্তি নিজের অন্তরে অটল, গভীর আত্মস্থ, ছয় গুণের অধিপতি হয়ে স্থিরভাবে অবস্থান করছিলেন। তিনি বিনয়ী, অথচ অন্যদের সম্মান দিতে জানেন; সক্ষম, সদয়, করুণাময় এবং জ্ঞানী। তাঁর হৃদয়ে দয়া প্রবাহিত, কোনো বিদ্বেষ নেই, সকল প্রাণীর প্রতি ধৈর্যশীল। তিনি সত্যে প্রতিষ্ঠিত, নিজেকে নির্দোষ রাখেন, পক্ষপাতহীন এবং সকলের উপকারে সদা প্রস্তুত। এমন গুণাবলীর অধিকারী সেই অবধূতের লক্ষণ কেবলমাত্র সর্বাধিক পুণ্যবান, যাঁরা বেদবাক্য ও তার অর্থের মর্ম জানেন, এবং যাঁরা বেদ ও বেদান্তের শিক্ষায় পারদর্শী—তাঁরাই ঠিকভাবে চিনতে পারেন। এই অবধূত, কামনার বন্ধন থেকে মুক্ত, শুরু, মধ্য ও শেষ—সবক্ষেত্রে শুদ্ধ; সর্বদা আনন্দে অবস্থান করেন—এটাই 'অ' অক্ষরের চিহ্ন। তিনি সকল সংস্কার থেকে মুক্ত, কষ্টহীনভাবে কথা বলেন, উপস্থিতদের মাঝে অবস্থান করেন—এটাই 'ভ' অক্ষরের চিহ্ন। তাঁর অঙ্গ ধুলিতে আবৃত, মন মুক্ত ও কষ্টহীন; ধ্যান ও একাগ্রতা থেকেও মুক্ত—এটাই 'ধূ' অক্ষরের চিহ্ন। তিনি সত্যের চিন্তনে স্থিত, চিন্তা ও কর্ম থেকে মুক্ত; অন্ধকার ও অহংকার থেকে মুক্ত—এটাই 'তা' অক্ষরের চিহ্ন। যাঁরা দত্তাত্রেয় অবধূত কর্তৃক রচিত এই উপদেশ পাঠ করেন ও শ্রবণ করেন, যিনি নিজে আনন্দের মূর্তিমান, তাঁরা আর কখনও পুনর্জন্মের ঘূর্ণিতে পড়বেন না। এইভাবেই অষ্টম অধ্যায়ের সমাপ্তি।