এইভাবে আত্মা নিজের সত্য স্বরূপে স্থিত হয়ে বলে— সৃষ্টি কোথায়, লয় কোথায়, অর্জনযোগ্য কী, আর উপায়ই বা কোথায়? সাধক কোথায়, আর সিদ্ধি কোথায়, যখন আমার স্বভাব সর্বদা অদ্বৈত? জ্ঞানী কোথায়, জ্ঞানের উপায় কোথায়, জানার বস্তু কোথায়, আর জ্ঞানই বা কোথায়? কিছু আছে বা কিছু নেই— এ সবই কোথায়, যখন আমি চিরকাল পবিত্র? বিক্ষেপ কোথায়, একাগ্রতা কোথায়, অজ্ঞান কোথায়, আর জড়তা কোথায়? আনন্দ কোথায়, দুঃখ কোথায়, যখন আমি চিরকাল নিষ্ক্রিয়? এই সংসারধর্ম কোথায়, আর পরম সত্যই বা কোথায়? সুখ কোথায়, দুঃখ কোথায়, যখন আমি চিরকাল চিন্তা-শূন্য? মায়া কোথায়, জন্ম-মৃত্যুর চক্র কোথায়, আসক্তি বা অনাসক্তি কোথায়? পৃথক আত্মা কোথায়, আর সেই পরম ব্রহ্মই বা কোথায়, যখন আমি চিরকাল পবিত্র? কর্ম বা কর্মের অবসান কোথায়, মুক্তি কোথায়, বন্ধনই বা কোথায়, যখন আমি চিরকাল অপরিবর্তনীয়, অবিভাজ্য, ও নিজ স্বরূপে প্রতিষ্ঠিত? উপদেশ কোথায়, শাস্ত্র কোথায়, শিষ্য কোথায়, গুরু কোথায়? মানুষের কোনো লক্ষ্যই বা কোথায়, যখন আমি নির্গুণ শিব? অস্তিত্ব কোথায়, অনস্তিত্ব কোথায়, এক কোথায়, দ্বৈতই বা কোথায়? এখানে আর কী বলব? আমার জন্য কিছুই উদয় হয় না। এভাবেই আত্মা নিজের অনন্ত, অদ্বৈত, সর্বদা পবিত্র ও নির্লিপ্ত স্বরূপের কথা প্রকাশ করে— যেখানে কিছুই নেই, কিছুই নেই; শুধু আমি, আমার স্বরূপেই স্থিত।