ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তখন অর্জুনকে বললেন, “হে আমার ভক্তদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই সর্বোচ্চ গোপন কথাগুলি প্রচার করে, সে নিঃসন্দেহে আমার প্রতি পরম ভক্তি স্থাপন করে এবং সে নিশ্চয়ই আমার কাছে এসে পৌঁছাবে। মানুষের মধ্যে তার চেয়ে প্রিয় আর কেউ আমার নেই, এবং এই পৃথিবীতে এমন আর কেউ হবে না যে আমার কাছে তার চেয়ে অধিক প্রিয়। আর যে ব্যক্তি আমাদের এই ধর্মমূলক সংলাপ অধ্যয়ন করে, আমি তাকে জ্ঞানযজ্ঞের মাধ্যমে আমাকে পূজা করার সমতুল্য মনে করি। এমনকি যে ব্যক্তি বিশ্বাস ও বিদ্বেষহীন মনে একে শ্রবণ করে, সেও পুণ্যবানদের শুভলোকে পৌঁছাবে এবং মুক্তি লাভ করবে।” এরপর শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে জিজ্ঞেস করলেন, “হে পার্থ, তুমি কি একাগ্রচিত্তে আমার এই বাণী শুনেছো? তোমার অজ্ঞান ও মোহ কি দূর হয়েছে, হে ধনঞ্জয়?” অর্জুন তখন ভক্তিসহকারে উত্তর দিলেন, “হে অচ্যুত, আপনার কৃপায় আমার মোহ দূর হয়েছে এবং স্মৃতি ফিরে এসেছে। আমি এখন স্থিরচিত্ত, সন্দেহমুক্ত; আমি আপনার আদেশমতোই কাজ করব।” এই সব কথা শুনে সঞ্জয় ধৃতরাষ্ট্রকে বললেন, “হে রাজন, আমি এই বিস্ময়কর ও মনোমুগ্ধকর সংলাপ শুনেছি, যা বাসুদেব এবং মহাত্মা পার্থের মধ্যে হয়েছে। ব্যাসদেবের কৃপায় আমি এই সর্বোচ্চ গোপন যোগশাস্ত্র, স্বয়ং যোগেশ্বর কৃষ্ণের মুখনিঃসৃত, শ্রবণ করার সৌভাগ্য পেয়েছি। বারবার কেশব ও অর্জুনের এই পবিত্র ও আশ্চর্যজনক কথোপকথন স্মরণ করে আমি আবারও আনন্দিত হই। আর হে রাজন, যখনই আমি হরির সেই অপূর্ব রূপ স্মরণ করি, আমার বিস্ময় বেড়ে যায় এবং আমি বারবার আনন্দে ভরে উঠি।” শেষে সঞ্জয় বললেন, “যেখানে আছেন যোগেশ্বর কৃষ্ণ, আর যেখানে ধনুর্ধর অর্জুন, সেখানেই নিশ্চিতভাবেই থাকবে সৌভাগ্য, বিজয়, সমৃদ্ধি ও অচল ধর্ম। আমার এটাই দৃঢ় বিশ্বাস।