এই গল্পটি শুরু হয় এক গভীর, রহস্যময় পরিবেশে, যেখানে একজন বলছেন, “এটাই আমার মাদক, আমি তাই বলি।” সেই মুহূর্তে, গাছগুলো একত্রে দাঁড়িয়ে আছে, যেন প্রকৃতির এক গোপন সম্মিলন। সেখানে রান্না করা অন্নের উৎসর্গ রয়েছে, তার পাশে সবজির উৎসর্গও। অঞ্জন, বাবলা, ধাওয়া—এইসব গাছের নাম উচ্চারিত হয়। আবার উচ্চারিত হয় ‘আরাদুপরমা’—একটি বিশেষ নাম। একজন যেন আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে শুয়ে আছে, তার দেহ মাটিতে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “আমি দুধ দিই না, পোষকের জন্য এমনই।” অন্যের সম্পদ থেকে অতি সামান্য অংশ নেওয়ার কথা উঠে আসে। দুইটি হাতির দৃঢ়তা এবং শক্তির কথা বলা হয়। এরপর গল্পে আসে এক কুমারীকে উদ্দেশ্য করে বারবার বলা হচ্ছে, “তুমি যেমন ভাবছো, তেমন নয়, কুমারী।” দুইটি রশ্মি প্রসারিত হয়েছে, একজন পুরুষ তা চূর্ণ করছে। মায়ের দুইটি রশ্মি প্রত্যাহৃত হয়েছে, শুধু পুরুষের জন্য। দুই কান সংযত করে, মধ্যভাগ পাঠানো হয়। কেউ উপুড় হয়ে শুয়ে আছে, কেউ দাঁড়িয়ে আছে—তাদের জন্য গোপন করা হয়। মসৃণের মধ্যে শুধু মসৃণতাই গোপন করা হয়। আবার, অমসৃণ কিছু, ভেতরের চুল পড়ে গেছে, যেন এক গভীর খাদে—তাও গোপন করা হয়। বারবার বলা হয়, “তুমি যেমন ভাবছো, তেমন নয়, কুমারী।” এবার দৃশ্যপট পরিবর্তিত হয়। এখানে, পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ—সবদিকে লাঠি দিয়ে ধমক দেওয়া হয়। বাছুরগুলো এবং মানুষরা একত্রে বসে থাকে, তাদের মাথা পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর দিকে। রান্নার হাঁড়ি, চওড়া থালা, পাত্রে চামচ—সব কিছুই সেই দিকগুলিতে রেখে দেওয়া হয়, চামচ থেকে পড়তে থাকে তরল। পরবর্তী দৃশ্যে, একজন গায়ক খাদ্যের জন্য আসে, চালের জন্য যায়, ফলের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে। তিনি ঢাক বাজিয়ে দেবতাদের শক্তি আহ্বান করেন। রাতে, পাত্রের গহ্বরে গিঁট ও পা রাখা হয়; উচ্চ জন্মের জন্ম হয়, নিম্ন জন্ম তার পথে এগিয়ে যায়। কুমড়ো, বনকাকড়া, অঞ্জন ও পালাশ পাতার কথা উঠে আসে; পিপড়ার ঢিবির শ্বাস, ঘোড়া ও গরুর খুর—এসবের মধ্য দিয়ে গায়ক দেবতাদের শক্তি আহ্বান করেন। এখানে দেবতারা লাফিয়ে ওঠেন, পুরোহিতকে বলা হয় দ্রুত চলতে; তুমি সত্যিই ভালো, তুমি শক্তিশালী হবে, উদ্যমী হবে। যখন স্ত্রীকে দেখা যায়, যখন তার জন্য যজ্ঞ হয়, তখন গায়ক দেবতাদের শক্তি আহ্বান করেন; পুরোহিতও বিশেষভাবে তা করেন। আদিত্যরা, অঙ্গিরসদের কাছ থেকে গায়কদের জন্য দক্ষিণা নিয়ে আসে; গায়ক তা আবার ফিরিয়ে দেন। গায়ক আমাদের জন্য তা গ্রহণ করেন; আমরা অন্যকে জানি না, অন্যকে যজ্ঞে পরিচালনা করি না। সাদা জন দ্রুত, কনিষ্ঠ জন তার পায়ের কাছে; দ্রুত জন মাপ বজায় রাখে। আদিত্য, রুদ্র, বসু—তোমরা এই উপহার গ্রহণ করো, অঙ্গিরস; এই উপহার সর্বব্যাপী, মহান, বিস্তৃত। দেবতা যেন অসুরকে দেন, সেটাই তোমাদের বুদ্ধি হোক; প্রতিদিন, সব সময় তা তোমরা ধারণ করো। ইন্দ্র, তুমি রক্ষা দিয়ে উৎসর্গ দূরবর্তী জনের কাছে নিয়ে যাও; যিনি প্রশংসা করেন, তার জন্য সম্পদ আনো, কুখ্যাতদের তা দূরে সরিয়ে দাও। ইন্দ্র, ভাঙ্গা ডানা-ওয়ালা কবুতর, প্রতারিতদের জন্য তুমি দিনের বেলায় অনেক কালো বাজরা ও পিলু ফল প্রস্তুত করো। যিনি শব্দ করেন না, তিনি ‘ভাভাদীতি’ বলেন; তিনবার তিনটি বন্ধনে বাঁধা; তিনি অন্নের প্রশংসা করেন, যিনি অন্নহীন, তিনি তা দূরে সরিয়ে দেন। এরপর আসে এক অদ্ভুত দৃশ্য—যখন তার বিভাজিত হওয়া অণ্ডকোষ ঘন অংশে আঘাত করে, তারা কাঁপতে কাঁপতে চলে, যেন গরুর খুরে পাখির ডিম। যখন ঘন অংশ দিয়ে, পাথরের ওপর অণ্ডকোষ আঘাত করে, তারা অস্থিরভাবে বড় হয়, যেন বালিতে গাধা। ছোটগুলো ছোটদের মধ্যে চলে, যেন ঘর্ষণ পাথর, বসন্ত উৎসবে যায়, বাতাস তাদের দূরে নিয়ে যায়। শেষে, যখন দেবতারা অলংকারে প্রবেশ করেন, তারা এই নারীকে প্রকাশ করেন; তিনি তার সঙ্গীদের সঙ্গে চিহ্নিত হন, সত্যের চোখের গর্তের মতো। এইভাবে, নানা দৃশ্য, উৎসর্গ, দেবতা, মানুষ, প্রকৃতি ও রহস্য একত্রে মিশে, এক গভীর, গম্ভীর ও পবিত্র কাহিনি গড়ে ওঠে।