একদিন, একদল ঋষি ও উপাসকরা একত্রিত হয়ে এক বিশেষ যজ্ঞে বসেছিলেন। তারা প্রার্থনা করলেন, “কুকুরটি আমাদের জন্য দৃঢ় হয়ে উঠুক, সে যেন স্থির থাকে।” তাদের হাতে ছিল এক সরু পরিমাপের কাঠি—এই কাঠি তাদের কাজের সূক্ষ্মতা ও গুরুত্বের প্রতীক। তাদের মুখে উচ্চারিত হল ‘আমিনোনিতি’ শব্দ, যার ফলে শুভতা ও সমৃদ্ধি আসল। এই শব্দের বারবার পুনরাবৃত্তি যেন ভাঙনের কারণ। তখন দেবতা বরুণ ধন-সম্পদ নিয়ে উপস্থিত হলেন। শত শত ভারতীর শক্তি তাদের আশীর্বাদ করল। সোনার ঘোড়া, সোনার রথ, সোনার কুড়াল—শত শত সোনালী বস্তু; আহুলা, কুসা, ভার্ত্তাকা—সবই উপস্থিত। যেন কোনো পশুর খুর দিয়ে নাড়া দেয়া হয়েছে। এক নারী বনভূমি নিয়ে এগিয়ে এলেন। বনবাসীরা একটি নৌকা দখল করে নিল। যজ্ঞকারীরা বললেন, “এটাই আমার মদ্যপান, আমি তাই বলি।” বনের গাছগুলি একসাথে দাঁড়িয়ে আছে। রান্না করা অন্নের নিবেদন হল, সবজি নিবেদনও হল। অঞ্জীর, বাবলা, ধাওয়া গাছ—সবই যজ্ঞে স্থান পেল। আরাদুপরামা নামটি উচ্চারিত হল। কেউ যেন আঘাতে পড়ে আছে, শুয়ে আছে। এক মানুষ বিস্তৃত হয়ে পড়ে আছে। যজ্ঞকারীরা বললেন, “আমি দুধ দিই না, এভাবে পোষণকারীর জন্য।” অন্যের সম্পদ থেকে আধা শ্লোকও অত্যন্ত বেশি। দুটি হাতি ও হাতের দৃঢ়তা উল্লেখ করা হল। এবার, দুটি রশ্মি প্রসারিত হল; এক ব্যক্তি তা চূর্ণ করল। কুমারীকে বলা হল, “তোমার ধারণা ঠিক নয়, কুমারী।” মাতার দুটি রশ্মি প্রত্যাহৃত হল, শুধু সেই পুরুষ বাদে। আবার বলা হল, “তোমার ধারণা ঠিক নয়, কুমারী।” দুটি কান সংযত করে মধ্যভাগ প্রকাশ করা হল; “তোমার ধারণা ঠিক নয়, কুমারী।” উল্টে শুয়ে থাকা, দাঁড়িয়ে থাকা—তাদের জন্য তুমি গোপন করো। মসৃণ বস্তুতে, মসৃণতায়—তুমি শুধু মসৃণটিই গোপন করো। মসৃণ নয় এমন কিছু, গিরে পড়া ভিতরের চুল, গভীর খাদে—তুমি গোপন করো; “তোমার ধারণা ঠিক নয়, কুমারী।” এখানে, পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণে—তুমি দণ্ড দিয়ে তিরস্কার করো। বাছুর ও মানুষরা পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর দিকে মাথা রেখে বসে আছে। রান্নার হাঁড়ি, প্রশস্ত থালা, পাত্রে চামচ, চামচটি সিক্ত—সবই মাথা পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর দিকে রেখে স্থাপন করা হয়েছে। গান্ধারী, গায়ক, অন্নের জন্য এসেছে, চালের জন্য গেছে, ফলের জন্য দাঁড়িয়েছে; তিনি ঢাক বাজিয়ে দেবশক্তি আহ্বান করেন। পাত্রের গহ্বরে, রাতে, গিঁট ও পা রাখা হয়; সর্বোচ্চ জন্ম জন্ম নেয়, ক্ষুদ্র জন্ম তার পথে এগিয়ে যায়। লাউ, বনকাকরি, অঞ্জীর ও পালাশ পাতার কথা বলা হল; পিপড়ার ঢিবির শ্বাস, ঘোড়ার খুর, গরুর খুর—গায়ক দেবশক্তি আহ্বান করেন। এখানে দেবতারা লাফ দিয়েছেন; পুরোহিতকে বলা হয়, “তুমি দ্রুত চল, তুমি সত্যিই ভালো, তুমি শক্তিশালী ও উদ্যমী হবে।” স্ত্রী দেখা গেলে, স্ত্রীর জন্য যজ্ঞ হলে—গায়ক দেবশক্তি আহ্বান করেন; পুরোহিত ‘বিশ্টীমা’ দ্বারা, গায়ক দেবশক্তি আহ্বান করেন। আদিত্যরা অঙ্গিরসদের কাছ থেকে গায়কদের উপহার এনে দিলেন; গায়ক তা ফিরিয়ে আনলেন, বারবার ফিরিয়ে আনলেন। এটাই গায়ক আমাদের জন্য গ্রহণ করলেন; আমরা অন্য কিছু জানি না, অন্যকে যজ্ঞে নেতৃত্ব দিই না। এইভাবেই যজ্ঞের নানা পর্যায়ে, দেবতা, প্রকৃতি, মানুষ ও পশু—সবকিছু একত্রিত হয়ে, এক গভীর, রহস্যময়, কিন্তু আন্তরিক যজ্ঞের গল্প গড়ে উঠল।