তিনি, যিনি সর্বত্র বিরাজমান, প্রথমে অগ্নির রূপ ধারণ করে মানুষের মধ্যে বিচরণ করলেন। তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছিল ‘স্বাহা’ আহ্বান, আর সেই সঙ্গে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল আহারের শব্দ। এই ‘স্বাহা’ আহ্বান ও আহারের শব্দের মাধ্যমে তিনি আহার গ্রহণ করতেন—যে এইভাবে জানে, সে-ই প্রকৃত জ্ঞানী। পরে তিনি বृहস্পতি রূপে রূপান্তরিত হয়ে ঊর্ধ্বদিকে যাত্রা করলেন। তাঁর মুখে ধ্বনিত হচ্ছিল ‘বষট্’ আহ্বান, সঙ্গে আহারের শব্দ। এই ‘বষট্’ আহ্বান ও আহারের শব্দের দ্বারা তিনিও আহার গ্রহণ করতেন—যে এভাবে জানে, সে-ই জানে তাঁর রহস্য। এরপর ঈশান রূপে তিনি দেবতাদের মাঝে চলাফেরা করলেন, মুখে ‘মন্যু’ ধ্বনি ও আহারের শব্দ। এই ‘মন্যু’ আহ্বান ও আহারের শব্দের দ্বারা তিনি আহার গ্রহণ করতেন—যে জানে, সে-ই সত্যকে উপলব্ধি করে। পুনরায় তিনি প্রজাপতি রূপে সমস্ত জীবের মধ্যে বিচরণ করলেন, তাঁর নিঃশ্বাস থেকে উচ্চারিত হচ্ছিল আহারের শব্দ। এই নিঃশ্বাস ও আহারের শব্দের দ্বারা তিনি আহার গ্রহণ করতেন—যে জানে, সে-ই জানে তাঁর গূঢ়তা। অবশেষে তিনি পরমেষ্ঠীনে পরিণত হয়ে সমস্ত অন্তস্থলে বিচরণ করলেন, উচ্চারিত হচ্ছিল ব্রহ্ম শব্দ ও আহারের ধ্বনি। এই ব্রহ্ম ও আহারের শব্দের দ্বারা তিনি আহার গ্রহণ করতেন—যে জানে, সে-ই জানে তাঁর সার্বভৌমত্ব। এই ভ্রাত্য—তাঁর রয়েছে সাতটি প্রাণ, সাতটি অপান, ও সাতটি ব্যান। তাঁর প্রথম প্রাণ, যার নাম ঊর্ধ্ব, সে-ই অগ্নি। দ্বিতীয় প্রাণ, প্রৌঢ়, সে-ই আদিত্য। তৃতীয় প্রাণ, অভ্যূঢ়, সে-ই চন্দ্র। চতুর্থ প্রাণ, বিভূ, সে-ই পবমান। পঞ্চম প্রাণ, যোনি, এরা-ই জল। ষষ্ঠ প্রাণ, প্রিয়, এরা-ই পশুসম্পদ। সপ্তম প্রাণ, অপরিমিত, এরা-ই সমস্ত প্রাণী। তাঁর প্রথম অপান, সেটি পূর্ণিমা। দ্বিতীয় অপান, অষ্টকা। তৃতীয় অপান, সামাবস্যা। চতুর্থ অপান, শ্রদ্ধা। তাঁর পঞ্চম পদ্ম, উপাসনা। ষষ্ঠ পদ্ম, যজ্ঞ। সপ্তম পদ্ম, দান। তাঁর প্রথম নিঃশ্বাস এই পৃথিবী। দ্বিতীয় নিঃশ্বাস মধ্যলোক। তৃতীয় নিঃশ্বাস স্বর্গ। চতুর্থ নিঃশ্বাস তারাগণ। পঞ্চম নিঃশ্বাস ঋতুগণ। ষষ্ঠ নিঃশ্বাস কালপর্ব। সপ্তম নিঃশ্বাস বছর। দেবতারা এক অভিন্ন লক্ষ্যে বিচরণ করেন; ঋতুগণ বর্ষ এবং ভ্রাত্যকে অনুসরণ করেন। যখন তাঁরা সূর্যে প্রবেশ করেন, অথবা অমাবস্যা ও পূর্ণিমায়, তখনই তাঁদের অমরত্ব—অর্থাৎ, অর্ঘ্য। এই ভ্রাত্যের—ডান চোখ সূর্য, বাঁ চোখ চন্দ্র। ডান কান অগ্নি, বাঁ কান পবমান। দিন ও রাত্রি তাঁর নাসিকা; দিতি ও অদিতি তাঁর করোটির ফলক; বর্ষ তাঁর মস্তক। দিনে তিনি পশ্চিমমুখী, রাতে পূর্বমুখী। ভ্রাত্যকে নমস্কার। জলীয় বলদ মুক্ত; দেবতাত্মা অগ্নিগণও মুক্ত। ভেঙে দেওয়া, ঘিরে ফেলা, চূর্ণ করা এবং সম্পূর্ণরূপে বিনাশ করা—এই শক্তি তাঁর। তিনি ধ্বংসকারী, চিত্তচোর, খননকারী, দহনকারী, আত্মবিনাশী ও দেহবিনাশী। এই অন্ধকার আমি প্রেরণ করি—হে ঈশ্বর, যেন তা আমাকে আচ্ছাদিত না করে।