একদিন, এক পবিত্র অনুষ্ঠানে, কৃত্রিম এক কাঁটা, যার শত শত শলাকা, তা দূরে সরিয়ে ফেলা হলো। চুল থেকে অপবিত্রতা, মাথা থেকে কলুষতা সরিয়ে ফেলা হলো। কন্যার প্রতিটি অঙ্গ থেকে রোগ দূরীভূত করা হলো—এই অপবিত্রতা যেন পৃথিবী, দেবতা, আকাশ, মধ্যলোক, জল, অগ্নি, যম বা পূর্বপুরুষদের কাছে না পৌঁছায়, এই প্রার্থনা করা হলো। পৃথিবীর সার, উদ্ভিদের সার, সন্তান ও সম্পদের বন্ধনে কন্যা ও বরকে একত্রিত করা হলো। এই বন্ধনে তারা যেন দৃঢ় থাকে, এই কামনা করা হলো। বর বলল: “আমি স্তোত্র, তুমি গীত; আমি সাম, তুমি ঋক; আমি আকাশ, তুমি পৃথিবী—এসো, আমরা এখানে মিলিত হই, সন্তান উৎপাদন করি।” নৌকাগুলো যেন সন্তান বহন করে, দানশীলেরা যেন পুত্র জন্ম দেয়—তারা যেন একত্রে শান্তিতে, মহাশক্তি অর্জনের জন্য বসবাস করে। পুরুষরা, যারা এই কন্যাকে দেখেছে, তারা পূর্বপুরুষরূপে এসে তাকে আশীর্বাদ করল—তারা যেন কন্যাকে সন্তানসমৃদ্ধ, নিরাপদ আশ্রয় দান করে। যাঁরা আগে এসেছিলেন, বেল্ট পরিধান করেছিলেন, এখানে কন্যাকে সন্তান ও সম্পদ দিয়েছিলেন—তারা যেন তাকে পূর্বপুরুষদের পথ ধরে নিয়ে যায়, সে যেন দীপ্তিমান ও সুসন্তানসুখী হয়ে তাদের অতিক্রম করে। “জাগো, সুন্দরভাবে জাগো, শত শরৎকাল দীর্ঘ জীবন লাভ করো; গৃহিণী হয়ে গৃহে প্রবেশ করো; সাবিত্রী তোমাকে দীর্ঘ জীবন দান করুন”—এই আশীর্বাদে কন্যা নতুন গৃহে প্রবেশ করল। এদিকে, এক ভ্রাত্য—যিনি সদ্য জন্ম নিচ্ছেন—তিনি প্রজাপতির কাছে গেলেন। প্রজাপতি নিজের মধ্যে সোনার দীপ্তি দেখলেন এবং তা সৃষ্টি করলেন। সেই সোনার দীপ্তি এক হয়ে চিহ্ন, মহত্ত্ব, জ্যেষ্ঠতা, ব্রহ্ম, তপস্যা, সত্যে পরিণত হলো; তার দ্বারাই তিনি জন্ম নিলেন। তিনি বেড়ে উঠলেন, মহান হলেন, মহাদেবতায় পরিণত হলেন। তিনি দেবতাদের অধিপতি হয়ে চারদিকে ঘুরে বেড়ালেন, শাসক হলেন। তিনি একমাত্র ভ্রাত্য হয়ে ধনুক ধারণ করলেন—এটাই ইন্দ্রের ধনুক। তাঁর উদর কালো, পিঠ লাল। জ্ঞানীরা বলেন, তিনি কালো দিয়ে অশুভ ও প্রতিদ্বন্দ্বীকে আচ্ছাদিত করেন, লাল দিয়ে শত্রুকে আঘাত করেন। তিনি পূর্বদিকে এগিয়ে গেলেন—বৃহৎ, রথন্তর, আদিত্য ও সকল দেবতা তাঁর সাথে গেলেন। যে জ্ঞানসহকারে ভ্রাত্যকে ঘোষণা করে, সে বৃহৎ, রথন্তর, আদিত্য ও দেবতাদের প্রিয় আশ্রয়লাভ করে। পূর্বদিকে তাঁর সাথে আছে—বিশ্বাস, পতিতা, মিত্র, গায়ক, জ্ঞান, বস্ত্র, দিন, পাগড়ি, রাত, চুল, দুই সবুজ, দুই চাকা, অপবিত্রতা, রত্ন; অতীত ও ভবিষ্যৎ দুই দৌড়বিদ, মন পথ, মাতারিশ্বান ও পবমান পথপ্রদর্শক, বায়ু রথচালক, লাগাম চাবুক; খ্যাতি ও মহিমা অগ্রদূত—যে জানে, তার সাথে খ্যাতি ও মহিমা চলে। তিনি দক্ষিণদিকে গেলেন—যজ্ঞ, যজমান, বামদেব, যজ্ঞকর্ম, পশু তাঁর সাথে গেলেন। যে জ্ঞানসহকারে ভ্রাত্যকে ঘোষণা করে, সে যজ্ঞ ও যজমানদের প্রিয় আশ্রয় হয়। দক্ষিণদিকে আছে—উষা, পতিতা, মন্ত্র, গায়ক, জ্ঞান, বস্ত্র, দিন, পাগড়ি, রাত, চুল, দুই সবুজ, দুই চাকা, অপবিত্রতা, রত্ন; অমাবস্যা ও পূর্ণিমা দুই দৌড়বিদ, মন পথ, মাতারিশ্বান ও পবমান পথপ্রদর্শক, বায়ু রথচালক, লাগাম চাবুক; খ্যাতি ও মহিমা অগ্রদূত—যে জানে, তার সাথে খ্যাতি ও মহিমা চলে। তিনি পশ্চিমদিকে এগোলেন—বৈরূপ, বৈরাজ, জল ও বরুণ রাজা তাঁর অনুসারী। যে ভ্রাত্য-জ্ঞান জানে, তার জন্য এরা প্রিয় আশ্রয় হয়। এখানে আছে—পতিতা, হাসি, মগধান, জ্ঞান, বস্ত্র, দিনের মুকুট, রাতের চুল, দুই সবুজ, গতি, কলঙ্ক, রত্ন; দিন ও রাত দৌড়বিদ, মন পথ, মাতারিশ্বান ও পবমান পথিক, বায়ু রথচালক, লাগাম চাবুক; খ্যাতি ও মহিমা অগ্রদূত—যে জানে, তার সাথে খ্যাতি ও মহিমা চলে। তিনি উত্তরদিকে গেলেন—শ্যৈত, নৌধাস, সপ্তর্ষি ও সোম রাজা তাঁর সাথে। যে ভ্রাত্য-জ্ঞান জানে, তাদের প্রিয় আশ্রয় হয়। এখানে আছে—বিদ্যুৎ পতিতা, বজ্র মগধান, জ্ঞান, বস্ত্র, দিনের মুকুট, রাতের চুল, দুই সবুজ, গতি, কলঙ্ক, রত্ন; শ্রুতি ও যশ দৌড়বিদ, মন পথ, মাতারিশ্বান ও পবমান পথিক, বায়ু রথচালক, লাগাম চাবুক; খ্যাতি ও মহিমা অগ্রদূত—যে জানে, তার সাথে খ্যাতি ও মহিমা চলে। এক বছর ধরে তিনি সোজা দাঁড়িয়ে ছিলেন। দেবতারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, “ভ্রাত্য, তুমি কেন দাঁড়িয়ে আছ?” তিনি বললেন, “আমাকে একটি আসন এনে দাও।” দেবতারা তাঁর জন্য আসন আনলেন—গ্রীষ্ম ও বসন্ত দুই পা, শরৎ ও বর্ষা দুই পা; বৃহৎ ও রথন্তর সম্মুখে, যজ্ঞাযজ্নীয় ও বামদেব পাশে; ঋক সামনের সুতো, যজু পাশের সুতো, বেদ আবরণ, ব্রহ্মন বালিশ, সাম আসন, উদ্গীথ ভিত্তি। ভ্রাত্য সেই আসনে আরোহণ করলেন। তাঁর জন্য দেবতারা বাহন, ইচ্ছা, কামনা, সমস্ত প্রাণী সেবক হলো। যে জানে, সমস্ত প্রাণী তার সেবক হয়। তিনি স্থির দিকে এগোলেন—পৃথিবী, অগ্নি, ঔষধি, বৃক্ষ, অরণ্য ও ঘাস তাঁর সাথে। যে জানে, তাদের প্রিয় আশ্রয় হয়। তিনি ঊর্ধ্বদিকে এগোলেন—সত্য, ঋত, সূর্য, চন্দ্র, তারা তাঁর সাথে। যে জানে, তাদের প্রিয় আশ্রয় হয়। তিনি সর্বোচ্চ দিকে গেলেন—ঋক, সাম, যজু, ব্রহ্মন তাঁর সাথে; যে জানে, তাদের প্রিয় আশ্রয় হয়। তিনি মহত্ত্ব হয়ে বৃক্ষে পরিণত হলেন, পৃথিবীর শেষ প্রান্ত ছুঁয়ে মহাসাগর হলেন। প্রজাপতি, পরমেষ্টি, পিতা, পিতামহ, জল, বিশ্বাস—এরা বৃষ্টি হয়ে তাঁকে ঘিরে ঘুরল। জল, বিশ্বাস, বৃষ্টি তাঁর কাছে যায়, যে জানে। বিশ্বাস, যজ্ঞ, পৃথিবী, অন্ন, ভক্ষক—এভাবে তাঁকে ঘিরে ঘুরল। তিনি শাসন করলেন; তাঁর থেকে ক্ষত্রিয় জন্ম নিল। তিনি সাধারণ মানুষ, তাদের আত্মীয়, অন্ন ও ভক্ষণীয়ের ঊর্ধ্বে উঠলেন। যে জানে, সে মানুষের, আত্মীয়ের, অন্ন ও ভক্ষণীয়ের প্রিয় আশ্রয় হয়। এইভাবে, তিনি মানুষের মাঝে বিচরণ করলেন—ভ্রাত্যর এই মহিমা ও যাত্রা চিরন্তন সত্যের পথে এগিয়ে চলল।